সাফারি পার্কে নায়ালা পরিবারে নতুন অতিথি
jugantor
সাফারি পার্কে নায়ালা পরিবারে নতুন অতিথি

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

১২ নভেম্বর ২০২১, ২১:০৯:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

নায়ালা দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকান সাভানা অঞ্চলের এন্টিলুপ প্রজাতির একটি প্রাণী। একে সর্পিল শিংযুক্ত হরিণ বলেও অভিহিত করা হয়। লাজুক প্রকৃতির হওয়ায় সচরাচর এ প্রাণীটির দেখা মেলে না। ঘন বনজঙ্গল ও ঝোপঝাড়ের ভেতর নির্জনে অবস্থান করা এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট। তবে আহারের জন্য নিস্তব্ধ সময়েই এরা বেছে নেয়।

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠালগ্নে দুটি নায়ালা আনা হয়েছিল। সম্প্রতি পার্কে একটি নায়ালা শাবকের জন্ম হয়। লুকিয়ে থাকায় জন্মের বেশ কিছু দিন পর হঠাৎ গত বুধবার দেখা মেলে এই শাবকের।

সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, সাফারি পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে নায়ালার বিচরণ। এই পার্কে ইতোপূর্বে আরো একটি শাবকের জন্ম হয়েছিল। তবে ওই সময় শেয়ালে সেটি খেয়ে ফেলে। এদিকে বয়স্কজনিত কারণে একটি পুরুষ নায়ালা সম্প্রতি মারা যায়। সম্প্রতি পার্কে একটি নায়ালা শাবকের জন্ম হলেও প্রথমদিকে তার দেখা মেলেনি।

সম্প্রতি পার্কের জেব্রা বেষ্টনীর সঙ্গে এ শাবক ও তার মাকে দেখা যায়। কাছে যেতে না পারায় এখনো জন্ম নেওয়া শাবকের লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়নি। ঘন বন ও ঝোপঝাড়ে থাকার কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় এ প্রাণীর শাবক জন্মের পর। শিয়াল ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর আক্রমণে মারা যাওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেও বেঁচে থাকে এ প্রাণী।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন খান বলেন, এ প্রাণীটি হরিণ প্রজাতির মতো দেখতে। নারী নায়ালার শিং থাকে না, তবে পুরুষের শিং থাকে। তবে সেই শিংয়ের শাখা থাকে না। নায়ালার শিংয়েরও কোনো পরিবর্তন হয় না। নায়ালা তৃণভোজী প্রাণী, ছোট ঘাস, লতাপাতা তাদের পছন্দের খাবার।

লাজুক হওয়ায় মানুষের উপস্থিতি পেলে এরা লুকিয়ে পড়ে। দিনের বেশিরভাগ সময় লুকিয়ে থেকে সকাল ও শেষ বিকালে এরা সক্রিয় হয়। চেরাচালান, বাসস্থান ধ্বংস, কৃষি ও গবাদিপশু চারণের কারণে খুব দ্রুত কমছে এদের সংখ্যা। ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার এ প্রাণীটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, দেশি ও বিদেশি নানা প্রাণীর সমাহার এখন আমাদের সাফারি পার্কে। দর্শনার্থীদের বিনোদন ও অজানা প্রাণীর সঙ্গে পরিচয়ের এক দ্বার খুলে দিয়েছে এই পার্ক। বিদেশি প্রাণী নায়ালা থেকে ইতোপূর্বে একটি শাবকের জন্ম হলেও শিয়ালের আক্রমণে সেটি মারা যায়। এবার জন্ম নেওয়া এ প্রাণীটি নিজস্ব নিরাপত্তায় বড় হচ্ছে।

সাফারি পার্কে নায়ালা পরিবারে নতুন অতিথি

 শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
১২ নভেম্বর ২০২১, ০৯:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নায়ালা দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকান সাভানা অঞ্চলের এন্টিলুপ প্রজাতির একটি প্রাণী। একে সর্পিল শিংযুক্ত হরিণ বলেও অভিহিত করা হয়। লাজুক প্রকৃতির হওয়ায় সচরাচর এ প্রাণীটির দেখা মেলে না। ঘন বনজঙ্গল ও ঝোপঝাড়ের ভেতর নির্জনে অবস্থান করা এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট। তবে আহারের জন্য নিস্তব্ধ সময়েই এরা বেছে নেয়। 

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠালগ্নে দুটি নায়ালা আনা হয়েছিল। সম্প্রতি পার্কে একটি নায়ালা শাবকের জন্ম হয়। লুকিয়ে থাকায় জন্মের বেশ কিছু দিন পর হঠাৎ গত বুধবার দেখা মেলে এই শাবকের।

সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, সাফারি পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে নায়ালার বিচরণ। এই পার্কে ইতোপূর্বে আরো একটি শাবকের জন্ম হয়েছিল। তবে ওই সময় শেয়ালে সেটি খেয়ে ফেলে। এদিকে বয়স্কজনিত কারণে একটি পুরুষ নায়ালা সম্প্রতি মারা যায়। সম্প্রতি পার্কে একটি নায়ালা শাবকের জন্ম হলেও প্রথমদিকে তার দেখা মেলেনি। 

সম্প্রতি পার্কের জেব্রা বেষ্টনীর সঙ্গে এ শাবক ও তার মাকে দেখা যায়। কাছে যেতে না পারায় এখনো জন্ম নেওয়া শাবকের লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়নি। ঘন বন ও ঝোপঝাড়ে থাকার কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় এ প্রাণীর শাবক জন্মের পর। শিয়াল ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর আক্রমণে মারা যাওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেও বেঁচে থাকে এ প্রাণী।   

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন খান বলেন, এ প্রাণীটি হরিণ প্রজাতির মতো দেখতে। নারী নায়ালার শিং থাকে না, তবে পুরুষের শিং থাকে। তবে সেই শিংয়ের শাখা থাকে না। নায়ালার শিংয়েরও কোনো পরিবর্তন হয় না। নায়ালা তৃণভোজী প্রাণী, ছোট ঘাস, লতাপাতা তাদের পছন্দের খাবার। 

লাজুক হওয়ায় মানুষের উপস্থিতি পেলে এরা লুকিয়ে পড়ে। দিনের বেশিরভাগ সময় লুকিয়ে থেকে সকাল ও শেষ বিকালে এরা সক্রিয় হয়। চেরাচালান, বাসস্থান ধ্বংস, কৃষি ও গবাদিপশু চারণের কারণে খুব দ্রুত কমছে এদের সংখ্যা। ইতোমধ্যে  ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার এ প্রাণীটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, দেশি ও বিদেশি নানা প্রাণীর সমাহার এখন আমাদের সাফারি পার্কে। দর্শনার্থীদের বিনোদন ও  অজানা প্রাণীর সঙ্গে পরিচয়ের এক দ্বার খুলে দিয়েছে এই পার্ক। বিদেশি প্রাণী নায়ালা থেকে ইতোপূর্বে একটি শাবকের জন্ম হলেও শিয়ালের আক্রমণে সেটি মারা যায়। এবার জন্ম নেওয়া এ প্রাণীটি নিজস্ব নিরাপত্তায় বড় হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন