শিশুকে সাক্ষী করায় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
jugantor
শিশুকে সাক্ষী করায় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

  কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  

১৪ নভেম্বর ২০২১, ২০:৪২:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিচারাধীন মামলার বাদীর সাড়ে তিন বছরের শিশুকে সাক্ষী করে পুলিশের তলবের প্রতিবাদে শিশুর মা সাবরিনা কবির সেতু সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সাবরিনা কবির শৈলকুপা থানার কীর্ত্তিনগর গ্রামের আব্দুর শুকুরের ছেলে পুলিশের এসআই উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী। রোববার বিকালে কাঙাল হরিণাথ প্রেস ক্লাবের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

শিশুর মা সাবরিনা কবির সেতু তার লিখিত বক্তব্যর মাধ্যমে জানান, ২০১৭ সালে উজ্জ্বল হোসেনের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করে। সেই সময় বেশ কয়েকবারে তার স্বামী উজ্জ্বলকে ১২ লক্ষাধিক টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে গত বছরের মাঝামাঝিতে আবারো ৫ লাখ টাকা দাবি করলে তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার ওপর শুরু হয় অমানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন।

তিনি অভিযোগ করেন, দৌলতপুর থানায় চাকরিরত অবস্থায় তাকে বাসায় নিয়ে গিয়ে পরপর দুইবার গভীর রাতে বাসার দরজায় কয়েকজন লোক এসে করাঘাত করে এবং রুমে ঢোকার চেষ্টা করে। তখন ভীত হয়ে তার স্বামীকে ফোন দিলে কথার গুরুত্ব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে রাখে। এমনকি পরবর্তীতে আর কোনো খবর রাখেনি তার স্বামী।

পরিকল্পিতভাবে এটা করেও যখন টাকা নিতে পারেনি তখন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দেয়। এরপর তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। কিছুদিন পর উজ্জ্বল তার বাবার বাড়িতে এসেও মারধর করে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের শেষের দিকে তিনি কুষ্টিয়া আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও যৌতুক নিরোধক আইনে মামলা করেন।

পরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় যৌতুকের মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে তার স্বামী উজ্জ্বল মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে ২০-২৫ জন লোক নিয়ে তার বাবার বাড়িতে এসে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। যে কারণে তিনি উজ্জ্বলের বর্তমান কর্মস্থল যশোর এসপি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত প্রেরণ করেন।

কিন্তু পরপর দুইবার চলতি মাসের ৩ ও ৯ তারিখে তার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে জিনাত আরা বিনিকে যশোর জেলা পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী করে তলব করায় তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যেহেতু মামলা চলমান রয়েছে এবং তার স্বামী যশোর অভয়নগর থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, সেই কারণে তার আইনজীবীর পরামর্শক্রমে মেয়েকে নিয়ে হাজির হননি। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও তার শিশুকে সাক্ষী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণসহ সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ('খ' সার্কেল) মুকিত সরকার বলেন, আদালতে শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে যে মামলা করেছে সাক্ষীর কলামে জিনাত আরা বিনীর নাম দেওয়া আছে। যে কারণে তার নামে নোটিশ করা হয়েছে। জিনাত আরা বিনীর বয়স কত সেটা আমাদের জানা নেই। যে কারণে তার নামে নোটিশ করা হয়েছে।

শিশুকে সাক্ষী করায় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

 কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
১৪ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে  বিচারাধীন  মামলার বাদীর সাড়ে তিন বছরের শিশুকে সাক্ষী করে পুলিশের তলবের প্রতিবাদে শিশুর মা সাবরিনা কবির সেতু সংবাদ সম্মেলন করেছেন। 

সাবরিনা কবির শৈলকুপা থানার কীর্ত্তিনগর গ্রামের আব্দুর শুকুরের ছেলে পুলিশের এসআই উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী। রোববার বিকালে কাঙাল হরিণাথ প্রেস ক্লাবের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

শিশুর মা সাবরিনা কবির সেতু তার লিখিত বক্তব্যর মাধ্যমে জানান, ২০১৭ সালে উজ্জ্বল হোসেনের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করে। সেই সময় বেশ কয়েকবারে তার স্বামী উজ্জ্বলকে ১২ লক্ষাধিক টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে গত বছরের মাঝামাঝিতে আবারো ৫ লাখ টাকা দাবি করলে তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার ওপর শুরু হয় অমানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন। 

তিনি অভিযোগ করেন, দৌলতপুর থানায় চাকরিরত অবস্থায় তাকে বাসায় নিয়ে গিয়ে পরপর দুইবার গভীর রাতে বাসার দরজায় কয়েকজন লোক এসে করাঘাত করে এবং রুমে ঢোকার চেষ্টা করে। তখন ভীত হয়ে তার স্বামীকে ফোন দিলে কথার গুরুত্ব না দিয়ে ফোন বন্ধ করে রাখে। এমনকি পরবর্তীতে আর কোনো খবর রাখেনি তার স্বামী। 

পরিকল্পিতভাবে এটা করেও যখন টাকা নিতে পারেনি তখন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দেয়। এরপর তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। কিছুদিন পর উজ্জ্বল তার বাবার বাড়িতে এসেও মারধর করে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের শেষের দিকে তিনি কুষ্টিয়া আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও যৌতুক নিরোধক আইনে মামলা করেন। 

পরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় যৌতুকের মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে তার স্বামী উজ্জ্বল মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে ২০-২৫ জন লোক নিয়ে তার বাবার বাড়িতে এসে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। যে কারণে তিনি উজ্জ্বলের বর্তমান কর্মস্থল যশোর এসপি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত প্রেরণ করেন। 

কিন্তু পরপর দুইবার চলতি মাসের ৩ ও ৯ তারিখে তার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে জিনাত আরা বিনিকে যশোর জেলা পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী করে তলব করায় তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যেহেতু মামলা চলমান রয়েছে এবং তার স্বামী যশোর অভয়নগর থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, সেই কারণে তার আইনজীবীর পরামর্শক্রমে মেয়েকে নিয়ে হাজির হননি। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও তার শিশুকে সাক্ষী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণসহ সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ('খ' সার্কেল) মুকিত সরকার বলেন, আদালতে শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে যে মামলা করেছে সাক্ষীর কলামে  জিনাত আরা বিনীর নাম দেওয়া আছে। যে কারণে তার নামে নোটিশ করা হয়েছে। জিনাত আরা বিনীর বয়স কত সেটা আমাদের জানা নেই। যে কারণে তার নামে নোটিশ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন