কাবার গিলাফের ক্যালিগ্রাফার এঁকে সৌদি নাগরিকত্ব পেলেন বাংলাদেশি মুখতার
jugantor
কাবার গিলাফের ক্যালিগ্রাফার এঁকে সৌদি নাগরিকত্ব পেলেন বাংলাদেশি মুখতার

  লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

১৫ নভেম্বর ২০২১, ১৪:৩১:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

মুখতার আলম। 

পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার সন্তান মুখতার আলম।

সম্প্রতি সৌদি আরব সরকার তাকে সে দেশের নাগরিকত্ব দিয়ে বিরল সম্মানে ভূষিত করেছেন। এ নিয়ে তার গ্রামের মানুষের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজ করছে।

মুখতার আলম উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রশিদের ঘোনা গ্রামের মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে।

জানা যায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’-এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন পেশার দক্ষ বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার এ রাজকীয় নির্দেশনা দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ নভেম্বর সৌদি বাদশার এক রাজকীয় নির্দেশনায় বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। এদের মধ্যে প্রথম দিন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ইতিহাসবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক, বিনিয়োগকারক, প্রযুক্তিবিদ, ক্রীড়াবিদসহ পাঁচ বিদেশি নাগরিক আছেন। এর মধ্যে লোহাগাড়ার সন্তান ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলমের নামও রয়েছে।

সোমবার সকালে ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলমের গ্রামের বাড়িতে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মুখতার আলম আনুমানিক ১৯৬৩ সালে গ্রামের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব থেকে তারা সপরিবারে সৌদি আরব চলে যান। বাবা মফিজুর রহমান কাজের সুবাদে সপরিবারে সেখানে বসবাস করে আসছিল। মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়া একটি বসতঘরও রয়েছে।

তবে ওই ঘরে কেউ থাকেন না। বাউন্ডারি ওয়ালের গেটে ঝুলছে তালা। তারা মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসেন। আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের লোকজনদের সঙ্গে দেখা করে চলে যান চট্টগ্রাম শহরে নিজেদের বাসায়। প্রায় এক বছর আগে মুখতার আলমের বাবা চট্টগ্রাম শহরের বাসায় অবস্থানকালীন মারা যান। তাকে দাফন করা হয়েছে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে। মা শিরিন আক্তার বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি চট্টগ্রাম শহরের বাসায় অবস্থান করছেন।

তারা চার ভাই এক বোন। মুখতার আলম সবার বড়। অন্যরা হলেন— মোরশেদ আলম, মমতাজ আলম, মোহাম্মদ আলম ও ফাতেমা বেগম। মুখতার আলম হাটহাজারী এলাকায় বিয়ে করেছেন। তিনি বর্তমানে স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তান নিয়ে সৌদি আরবের মক্কায় বসবাস করছেন।

মুখতার আলমের মামাতো ভাই মো. খালেদ ও মো. ইব্রাহিম জানান, মুখতার আলম ছোটবেলা থেকে খুবই মেধাবী ছিলেন এবং সৌদি আরবে অবস্থান করে আসছেন। মক্কার পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে সে দেশের সরকার তাকে নাগরিকত্ব দিয়েছেন, সেটি আত্মীয়স্বজন ও সংবাদমাধ্যমে জেনেছেন। তার এ অর্জনে আমরা সবাই আনন্দিত।

তিনি লোহাগাড়া উপজেলাসহ সারা দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। প্রায় এক বছর আগে মুখতার আলম গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

তারা জানান, মুখতার আলমের বাবা প্রথমে চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। কিছু দিন পর তিনি সপরিবারে সৌদি আরব চলে যান। সেখানে তিনি দীর্ঘসময় সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন। মূলত বাবার কর্মসূত্রে পরিবারের সবাই দীর্ঘ সময় সৌদিতে কাটিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ আহমদ জানান, এলাকার ছেলে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি ও গর্বিত। আশা করি তিনি তার কর্মকাণ্ড দিয়ে সৌদিসহ বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম আরও বয়ে আনবে।

সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মুখতার আলম বর্তমানে মক্কার কিসওয়া কারখানায় পবিত্র কাবার কিসওয়ার প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও ফোরামে তার প্রধান ক্যালিগ্রাফিগুলো প্রদর্শিত হয়েছে। ক্যালিগ্রাফি দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান করেন। মক্কার দ্য ইনস্টিটিউট অব হলি মসকো তথা পবিত্র মসজিদুল হারাম পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ক্যালিগ্রাফিবিষয়ক তার পাঠ শেখানো হচ্ছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, মুখতার আলম ১৯৭৭ সালে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। ১৯৯২ সালে মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিল্পকলা বিষয়ে স্নাতক ও ২০০১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে পিএইচডি গবেষণারত। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকলা বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০০২ সাল থেকে পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি আরবি ক্যালিগ্রাফি পেশায় কাজ করছেন।

এ ছাড়া তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সার্টিফিকেটের ক্যালিগ্রাফার হিসেবেও কাজ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা থেকে অসংখ্য পুরস্কার ও প্রশংসার সনদ পেয়েছেন তিনি।

কাবার গিলাফের ক্যালিগ্রাফার এঁকে সৌদি নাগরিকত্ব পেলেন বাংলাদেশি মুখতার

 লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
১৫ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মুখতার আলম। 
মুখতার আলম। ছবি: যুগান্তর

পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার সন্তান মুখতার আলম। 

সম্প্রতি সৌদি আরব সরকার তাকে সে দেশের নাগরিকত্ব দিয়ে বিরল সম্মানে ভূষিত করেছেন। এ নিয়ে তার গ্রামের মানুষের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজ করছে।

মুখতার আলম উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রশিদের ঘোনা গ্রামের মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। 

জানা যায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’-এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন পেশার দক্ষ বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার এ রাজকীয় নির্দেশনা দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ নভেম্বর সৌদি বাদশার এক রাজকীয় নির্দেশনায় বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। এদের মধ্যে প্রথম দিন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ইতিহাসবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক, বিনিয়োগকারক, প্রযুক্তিবিদ, ক্রীড়াবিদসহ পাঁচ বিদেশি নাগরিক আছেন। এর মধ্যে লোহাগাড়ার সন্তান ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলমের নামও রয়েছে। 

সোমবার সকালে ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলমের গ্রামের বাড়িতে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মুখতার আলম আনুমানিক ১৯৬৩ সালে গ্রামের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব থেকে তারা সপরিবারে সৌদি আরব চলে যান। বাবা মফিজুর রহমান কাজের সুবাদে সপরিবারে সেখানে বসবাস করে আসছিল। মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়া একটি বসতঘরও রয়েছে। 

তবে ওই ঘরে কেউ থাকেন না। বাউন্ডারি ওয়ালের গেটে ঝুলছে তালা। তারা মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসেন। আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের লোকজনদের সঙ্গে দেখা করে চলে যান চট্টগ্রাম শহরে নিজেদের বাসায়। প্রায় এক বছর আগে মুখতার আলমের বাবা চট্টগ্রাম শহরের বাসায় অবস্থানকালীন মারা যান। তাকে দাফন করা হয়েছে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে। মা শিরিন আক্তার বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি চট্টগ্রাম শহরের বাসায় অবস্থান করছেন। 

তারা চার ভাই এক বোন। মুখতার আলম সবার বড়। অন্যরা হলেন— মোরশেদ আলম, মমতাজ আলম, মোহাম্মদ আলম ও ফাতেমা বেগম। মুখতার আলম হাটহাজারী এলাকায় বিয়ে করেছেন। তিনি বর্তমানে স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তান নিয়ে সৌদি আরবের মক্কায় বসবাস করছেন। 

মুখতার আলমের মামাতো ভাই মো. খালেদ ও মো. ইব্রাহিম জানান, মুখতার আলম ছোটবেলা থেকে খুবই মেধাবী ছিলেন এবং সৌদি আরবে অবস্থান করে আসছেন। মক্কার পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে সে দেশের সরকার তাকে নাগরিকত্ব দিয়েছেন, সেটি আত্মীয়স্বজন ও সংবাদমাধ্যমে জেনেছেন। তার এ অর্জনে আমরা সবাই আনন্দিত।

তিনি লোহাগাড়া উপজেলাসহ সারা দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। প্রায় এক বছর আগে মুখতার আলম গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।   

তারা জানান, মুখতার আলমের বাবা প্রথমে চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। কিছু দিন পর তিনি সপরিবারে সৌদি আরব চলে যান। সেখানে তিনি দীর্ঘসময় সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন। মূলত বাবার কর্মসূত্রে পরিবারের সবাই দীর্ঘ সময় সৌদিতে কাটিয়েছেন। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ আহমদ জানান, এলাকার ছেলে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি ও গর্বিত। আশা করি তিনি তার কর্মকাণ্ড দিয়ে সৌদিসহ বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম আরও বয়ে আনবে।

সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মুখতার আলম বর্তমানে মক্কার কিসওয়া কারখানায় পবিত্র কাবার কিসওয়ার প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও ফোরামে তার প্রধান ক্যালিগ্রাফিগুলো প্রদর্শিত হয়েছে। ক্যালিগ্রাফি দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান করেন। মক্কার দ্য ইনস্টিটিউট অব হলি মসকো তথা পবিত্র মসজিদুল হারাম পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ক্যালিগ্রাফিবিষয়ক তার পাঠ শেখানো হচ্ছে। 

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, মুখতার আলম ১৯৭৭ সালে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। ১৯৯২ সালে মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিল্পকলা বিষয়ে স্নাতক ও ২০০১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। 

বর্তমানে পিএইচডি গবেষণারত। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকলা বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০০২ সাল থেকে পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি আরবি ক্যালিগ্রাফি পেশায় কাজ করছেন। 

এ ছাড়া তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সার্টিফিকেটের ক্যালিগ্রাফার হিসেবেও কাজ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা থেকে অসংখ্য পুরস্কার ও প্রশংসার সনদ পেয়েছেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন