মাত্র ৬ হাজার টাকার জন্যই বগুড়ায় চার খুন!

  বগুড়া ব্যুরো ১৪ মে ২০১৮, ২২:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ায় চার খুনের ঘটনা নিয়ে পুলিশ সুপারের প্রেসব্রিফিং
বগুড়ায় চার খুনের ঘটনা নিয়ে পুলিশ সুপারের প্রেসব্রিফিং। ছবি: যুগান্তর

বগুড়ার শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চার খুনের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। ইয়াবা বিক্রির পাওনা ছয় হাজার টাকা চাওয়া ও ঝগড়া হওয়ায় দুজনকে মাদকের টোপ দিয়ে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অপর দুজন দেখে ফেলায় তাদেরও একইভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এ মামলায় গ্রেফতার তিনজনের উদ্ধৃতি দিয়ে সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিংয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা এ দাবি করেছেন।

এর আগে রোববার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাতে জুয়েলকে শিবগঞ্জের কাঠগড়া, আজাদকে গণেশপুর এবং রুবেলকে কিচক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তারা আদালতে স্বীকারোক্তি না দিলে রিমান্ডে নেয়া হবে বলে জানান পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা।

তবে স্বজনরা নিবর থাকলেও এলাকাবাসীরা কোনোভাবেই পুলিশের এ দাবি মেনে নিতে পারছেন না। তারা এটাকে ‘আষাঢ়ে গল্প’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ব্যর্থতা ঢাকতে এসব বলা হচ্ছে।

সামান্য টাকা ও ঝগড়ার জন্য দু’জনকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে গলা কেটে খুন করা সম্ভব নয়। এছাড়া অপর দুজন ঢাকায় হেরোইন বিক্রির জন্য যাওয়ার পথে অন্ধকার এলাকায় রাস্তা ছেড়ে অর্ধকিলোমিটার দূরে হাঁটুপানিতে ডোবা ধানক্ষেতে যাওয়ার প্রশ্ন উঠে না।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বলেছেন, এসব গ্রেফতার তিনজনের ভাষ্য। এরপর আরও তদন্ত করা হবে।

গ্রেফতারকৃত জুয়েল শেখ (২৫) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কাঠগড়া চকপাড়া গ্রামের রফিকুল শেখের ছেলে, আবুল কালাম আজাদ (৪৮) একই উপজেলার চন্দনপুর তালুকদারপাড়ার আবদুস সামাদের ছেলে ও ডাবইর গ্রামের মৃত আবু বক্করের ছেলে মো. রুবেল (৪৫)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বলেন, জাকারিয়া এক খুনির কাছে ইয়াবা বিক্রির ছয় হাজার টাকা পেতেন। টাকা চাওয়ায় সে জাকরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এছাড়া খুনের দুদিন আগে সাবুর সঙ্গে খুনিদের মারামারি হয়। এতে ৯ জনের একদল খুনি জাকারিয়া ও সাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

খুনিদের একজন পাওনা টাকা ফেরত দিতে ও মাদকসেবনে ৬ মে রাত ১১ থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে মোবাইল ফোনে জাকারিয়াকে ডাবইর গ্রামে রুবেলের কাছে আসতে বলে। সাবুকেও সঙ্গে নিতে বলা হয়।

জাকারিয়া ও সাবু এলে তাদের রাস্তা থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে হাঁটুপানিতে ডুবানো ধানক্ষেতে নেয়। পেছনে হাত বেঁধে ফেলার পর জুয়েল ও অন্য একজন খুনি একই চাকু দিয়ে পরপর জাকারিয়া ও সাবুকে গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় আজাদ নজরদারি অন্যরা হত্যায় সহযোগিতা করেছে।

পুলিশ সুপার বলেন, এ সময় ঢাকায় হেরোইন বিক্রির জন্য হেলাল উদ্দিন ও খবির উদ্দিন বাউশা ওইদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এরা দুজন খুন দেখে ফেলায় তাদেরও একইভাবে হত্যা করা হয়।

নিহতরা হলেন- বগুড়ার শিবগঞ্জের কাঠগড়া চকপাড়া গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে পান দোকানি সাবরুল ইসলাম সাবু (৩৫), একই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রংমিস্ত্রি জাকারিয়া ইসলাম (৩২), জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচপাইকা গ্রামের আজাহার উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩০) এবং একই উপজেলার নান্দাইল গ্রামের সামছুদ্দিন মন্ডলের ছেলে খবির উদ্দিন বাউশা (৩৫)।

সামান্য কয়েকটা টাকা ও ঝগড়ার কারণে দুজনকে গলা কেটে হত্যা এবং ঢাকাগামী হেলাল ও বাউশা রাস্তা ছেড়ে অন্ধকারের মধ্যে হাঁটুপানির ধানক্ষেতে যেতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নে উত্তরে পুলিশ সুপার বলেন, এসব গ্রেফতারকৃত তিনজন বলেছে। পুলিশ তাদের (খুনি) দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত ও অনুসন্ধান চালাবে।

তিনি বলেন, অপর ৬ খুনির পরিচয় পাওয়া গেছে। ঢাকা পুলিশের ইন্টেলিজেন্স উইং ও বগুড়া পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। শিগগিরই অপর খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর চার খুনের রহস্য উদঘাটন ও তিন খুনি গ্রেফতারের খবর প্রচার হলে শিবগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। খুনের ঘটনার বর্ণনায় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে নিশ্চুপ নিহতদের পরিবার। শিবগঞ্জের ডাবইর, কাঠগড়া চকপাড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মাত্র ছয় হাজার টাকা ও ঝগড়ার কারণে চারজন মানুষকে ডেকে নিয়ে পেছনে হাত বেঁধে গলা কেটে হত্যা করা সম্ভব নয়।

গ্রামবাসীদের ধারণা, চার খুনের নেপথ্যে বড় চালানের মাদক বিক্রি ও নারীঘটিত কোনো কারণ থাকতে পারে। তারা প্রকৃত হত্যা রহস্য উন্মোচনে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের সাত সদস্যের তদন্ত টিমের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পশ্চিম) আবদুল জলিল জানান, অন্য আসামিদের ধরতে টিমের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তারা কোথায় কীভাবে ও কাকে হত্যা করেছে তার বর্ণনা দিয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকাবাসী কে কী বলল, তাতে পুলিশের কোনো আসে-যায় না। এছাড়া পুলিশ সুপার হত্যার পুরো কারণ বলেননি। অন্যরা গ্রেফতার হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে।

তিনি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ‘মেকিং’ কিছু করবে না।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর আসলাম আলী জানান, গ্রেফতার তিনজনকে সোমবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছে। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দেশ দেননি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×