নৌকায় ভোট দেওয়ায় একঘরে ৭ পরিবার
jugantor
নৌকায় ভোট দেওয়ায় একঘরে ৭ পরিবার

  সুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি  

১৭ নভেম্বর ২০২১, ২২:১৭:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

দোয়ারাবাজারে নৌকায় ভোট দেওয়ায় ৭ পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন একঘরে হওয়া সাত পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদ্যসমাপ্ত দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মিয়ার নির্দেশনায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ৭ পরিবারকে গ্রাম-পঞ্চায়েতবাসী একঘরে করে রেখেছেন।

গত শনিবার দিবাগত রাতে দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মাঠে সৌদি আরব প্রবাসী ছমির উদ্দিনের আয়োজনে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একঘরে করে রাখা পরিবারের লোকজন হচ্ছেন— রাজনপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পুত্র সফিক মিয়া (৩৫), মৃত হেলাল আহমদের পুত্র জুবের হেলাল (৪০) (প্রতিবন্ধী), কুতুব উদ্দিনের পুত্র হাবিবুর রহমান (৩৫), বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসন্দর আলীর পুত্র লুৎফর রহমান (২৮), আয়াজ আলীর পুত্র আকরামুল হক সোহেল, আরশ আলীর পুত্র আনোয়ার হোসেন মিষ্টার (৪৫) ও চানমিয়ার পুত্র আলীরাজ সানিয়া (২৫)।

রাজনপুর গ্রামের একঘরে করে রাখা ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মিষ্টার বলেন, গ্রামের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ায় গ্রামবাসী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এজন্য আমরা লজ্জাবোধ করছি। আমাদের সঙ্গে সবার কথাবার্তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা হতাশ। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি ভুক্তভোগী ৭ পরিবার।

একঘরে করে রাখা ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী মো. জুবের আহমদ বলেন, একই গ্রামের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ায় সভা করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমাদের সাতটি পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতবাসী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বললে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে।

তবে প্রবাসী ছমির উদ্দিন এ ঘটনার কথা অস্বীকার করে বলেন, একঘরে করে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। তাদের সঙ্গে কেউ যাতে ঝগড়াঝাটি না করে এজন্য বৈঠক করে সবাইকে সতর্ক করেছি।

সত্যতা জানতে চাইলে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর মিয়ার মোবাইলে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাংশু কুমার সিংহ বলেন, এমন ঘটনা শোনার পরপরই ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ডেকেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌকায় ভোট দেওয়ায় একঘরে ৭ পরিবার

 সুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি 
১৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দোয়ারাবাজারে নৌকায় ভোট দেওয়ায় ৭ পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন একঘরে হওয়া সাত পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদ্যসমাপ্ত দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মিয়ার নির্দেশনায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ৭ পরিবারকে গ্রাম-পঞ্চায়েতবাসী একঘরে করে রেখেছেন।

গত শনিবার দিবাগত রাতে দোহালিয়া ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামের খোকন মিয়ার মাঠে সৌদি আরব প্রবাসী ছমির উদ্দিনের আয়োজনে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একঘরে করে রাখা পরিবারের লোকজন হচ্ছেন— রাজনপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পুত্র সফিক মিয়া (৩৫), মৃত হেলাল আহমদের পুত্র জুবের হেলাল (৪০) (প্রতিবন্ধী), কুতুব উদ্দিনের পুত্র হাবিবুর রহমান (৩৫), বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসন্দর আলীর পুত্র লুৎফর রহমান (২৮), আয়াজ আলীর পুত্র আকরামুল হক সোহেল, আরশ আলীর পুত্র আনোয়ার হোসেন মিষ্টার (৪৫) ও চানমিয়ার পুত্র আলীরাজ সানিয়া (২৫)।

রাজনপুর গ্রামের একঘরে করে রাখা ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মিষ্টার বলেন, গ্রামের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ায় গ্রামবাসী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এজন্য আমরা লজ্জাবোধ করছি। আমাদের সঙ্গে সবার কথাবার্তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা হতাশ। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি ভুক্তভোগী ৭ পরিবার।

একঘরে করে রাখা ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী মো. জুবের আহমদ বলেন, একই গ্রামের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ায় সভা করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমাদের সাতটি পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতবাসী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা বললে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে।

তবে প্রবাসী ছমির উদ্দিন এ ঘটনার কথা অস্বীকার করে বলেন, একঘরে করে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। তাদের সঙ্গে কেউ যাতে ঝগড়াঝাটি না করে এজন্য বৈঠক করে সবাইকে সতর্ক করেছি।

সত্যতা জানতে চাইলে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর মিয়ার মোবাইলে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাংশু কুমার সিংহ বলেন, এমন ঘটনা শোনার পরপরই ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ডেকেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন