ঘরে স্বামী-সন্তানের লাশ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে (ভিডিও)
jugantor
ঘরে স্বামী-সন্তানের লাশ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে (ভিডিও)

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি  

১৮ নভেম্বর ২০২১, ২০:৫৩:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনা শহরের নাগড়া এলাকায় একটি ভবনের ৪ তলার কক্ষে আবদুল কাইয়ুম সরদার (৩২) ও তার দুই বছরের শিশুসন্তান আহনাব শাকিলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাইয়ুমের স্ত্রী ছালমা খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে।

মারা যাওয়া আবদুল কাইয়ুম সরদারের বাড়ি কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের পরমালী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আক্কাস সরদারের ছেলে। আর স্ত্রী ছালেমা খাতুনের বাড়ি একই জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ফকিরগঞ্জ গ্রামের আসাদ আলীর মেয়ে।

কাইয়ুম নেত্রকোনায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন এবং শহরের নাগড়া এলাকায় ওই বাসাটিতে স্ত্রী-সন্তানসহ বসবাস করতেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুল কাইয়ুম সরদার গত ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ফকিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আসাদ আলীর মেয়ে ছালমা খাতুনকে (২১) বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই কাইয়ুম সরদার স্ত্রীকে নিয়ে তার কর্মস্থল নেত্রকোনায় বসবাস করছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে তাদের একটি ছেলেসন্তান জন্ম হয়।

গত এক বছর ধরে নাগড়া এলাকায় রহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির বাসার পাঁচতলায় একটি ইউনিট ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। ভবনটির মালিক রহুল আমিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। বৃহস্পতিবার সকালে আবদুল কাইয়ুম সরদার ও তার দুই বছরের শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে লাশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

আবদুল কাইয়ুমের স্ত্রী ছালমা খাতুন জানান, প্রতিদিনের মতো গতকাল বুধবার রাতে খাবার খেয়ে ১টার দিকে তারা এক কক্ষের বিছানায় তিনজন ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে জেগে ওঠে পাশের কক্ষে একটি ফ্যানের সঙ্গে স্বামী ও সন্তানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তিনি। পরে তিনি রশি কেটে লাশ দুটি নামিয়ে রাখেন। এরপর বাসার দরজা খুলে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।

কাইয়ুমের প্রতিবেশী লিপি আক্তার ও বেবি আক্তার বলেন, গত এক বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করলেও কোনোদিন দাম্পত্য কলহ হয়নি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কও ভালো। এ ধরনের ঘটনায় হতবাক সবাই। এমন ঘটনা কেন ঘটল তা খুঁজে বের করার দাবি করেন তারা।

ভবনটির কেয়ারটেকার শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে কাইয়ুম বাসায় ফেরার পর আর কেউ ওই বাসায় যায়নি। ভবনের ভাড়াটেরা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশও করেনি। তাছাড়া প্রতিটি ফ্লোরের সিঁড়িতে সিসি ক্যামেরা যুক্ত রয়েছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। থানা-পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম ইউনিট ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে সন্তানকে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলে আবদুল কাইয়ুম নিজেও আত্মহত্যা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য বাবা ও শিশুর লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে। এছাড়া সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার তদন্ত চলছে।

ঘরে স্বামী-সন্তানের লাশ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে (ভিডিও)

 নেত্রকোনা প্রতিনিধি 
১৮ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনা শহরের নাগড়া এলাকায় একটি ভবনের ৪ তলার কক্ষে আবদুল কাইয়ুম সরদার (৩২) ও তার দুই বছরের শিশুসন্তান আহনাব শাকিলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাইয়ুমের স্ত্রী ছালমা খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে।

মারা যাওয়া আবদুল কাইয়ুম সরদারের বাড়ি কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের পরমালী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আক্কাস সরদারের ছেলে। আর স্ত্রী ছালেমা খাতুনের বাড়ি একই জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ফকিরগঞ্জ গ্রামের আসাদ আলীর মেয়ে।

কাইয়ুম নেত্রকোনায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন এবং শহরের নাগড়া এলাকায় ওই বাসাটিতে স্ত্রী-সন্তানসহ বসবাস করতেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুল কাইয়ুম সরদার গত ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ফকিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আসাদ আলীর মেয়ে ছালমা খাতুনকে (২১) বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই কাইয়ুম সরদার স্ত্রীকে নিয়ে তার কর্মস্থল নেত্রকোনায় বসবাস করছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে তাদের একটি ছেলেসন্তান জন্ম হয়।

গত এক বছর ধরে নাগড়া এলাকায় রহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির বাসার পাঁচতলায় একটি ইউনিট ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। ভবনটির মালিক রহুল আমিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। বৃহস্পতিবার সকালে আবদুল কাইয়ুম সরদার ও তার দুই বছরের শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে লাশ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

আবদুল কাইয়ুমের স্ত্রী ছালমা খাতুন জানান, প্রতিদিনের মতো গতকাল বুধবার রাতে খাবার খেয়ে ১টার দিকে তারা এক কক্ষের বিছানায় তিনজন ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে জেগে ওঠে পাশের কক্ষে একটি ফ্যানের সঙ্গে স্বামী ও সন্তানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তিনি। পরে তিনি রশি কেটে লাশ দুটি নামিয়ে রাখেন। এরপর বাসার দরজা খুলে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে।

কাইয়ুমের প্রতিবেশী লিপি আক্তার ও বেবি আক্তার বলেন, গত এক বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করলেও কোনোদিন দাম্পত্য কলহ হয়নি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কও ভালো। এ ধরনের ঘটনায় হতবাক সবাই। এমন ঘটনা কেন ঘটল তা খুঁজে বের করার দাবি করেন তারা।

ভবনটির কেয়ারটেকার শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে কাইয়ুম বাসায় ফেরার পর আর কেউ ওই বাসায় যায়নি। ভবনের ভাড়াটেরা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশও করেনি। তাছাড়া প্রতিটি ফ্লোরের সিঁড়িতে সিসি ক্যামেরা যুক্ত রয়েছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। থানা-পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম ইউনিট ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে সন্তানকে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলে আবদুল কাইয়ুম নিজেও আত্মহত্যা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য বাবা ও শিশুর লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে। এছাড়া সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার তদন্ত চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন