নবান্নে বগুড়ায় মাছপ্রেমীরা (ভিডিও)
jugantor
নবান্নে বগুড়ায় মাছপ্রেমীরা (ভিডিও)

  বগুড়া ব্যুরো  

১৮ নভেম্বর ২০২১, ২২:০৩:৩৪  |  অনলাইন সংস্করণ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নবান্ন উৎসব উপলক্ষে অগ্রহায়ণের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব মেলায় হরেক প্রজাতির বড় বড় মাছ বিক্রি হয়। এ মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাছপ্রেমীরা ছুটে আসেন।

এদিকে বগুড়ার বিভিন্ন গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে, জামাই, নাতি, নাতনি ও আত্মীয়স্বজন দিয়ে ভরা। মেলার মাছ দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে।

দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফেঁপিড়া, সাবলা, গয়াবান্ধা, খানপুর, সরঞ্জাবাড়ী, কইল, আমষট্ট, মাজিন্দা, গোবিন্দপুর, ও উপজেলা সদরসহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নবান্ন উৎসব পালন করেন। প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় আতপ চাল বেটে পানি দিয়ে গুলিয়ে আল্পনা আঁকেন, উঠান ও ধানের গোলায় গোবর গুলিয়ে লেপ দেন।

সকালে ছোট ছোট ছেলের দল স্নান (গোসল) করে নতুন ধুতি পরে বয়স্ক লোকদের সাথে জমিতে যান। সেখান থেকে তিন গোছা ধান কেটে তাতে সিঁদুর, কাজলের ফোটা, কলাপাতা দিয়ে ঢেকে মাথায় করে বাড়ির আঙিনায় নিয়ে আসেন।

এ সময় গৃহবধূরা শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি দেন। এ ধরনের অনুষ্ঠানকে এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আগকাটা (প্রথম ধান কাটা) বলে থাকেন। তারপর কাটা ধানগাছের গুচ্ছ ঘরের ছাদের তীরে আটকিয়ে রাখা হয়। এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ঐতিহ্য।

উপজেলার সরঞ্জাবাড়ী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক পরিতোষ মণ্ডল জানান, আবহমানকাল থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ নবান্ন উৎসবটি ধুমধামের সঙ্গে পালন করে আসছেন। এ নবান্ন উৎসব উপলক্ষে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে বড় বড় মাছের মেলা বসে।

সাধ্যমতো লোকজন রকমারি সবজিসহ বড় বড় মাছ কিনে হরেক রকম সুস্বাদু রান্না, নতুন ধানের চালের পায়েস, পিঠা, পুলি তৈরি করে মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিসহ আত্মীয়স্বজনদের আপ্যায়ন করেন।

দুপচাঁচিয়া মাছ বাজারে ২০ কেজি ওজনের কাতলা তোলা হয়েছিল। মাছ বিক্রেতা প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ টাকা দাবি করলেও পরে ৮০০ টাকা কেজি দরে কেটে বিক্রি করেন।

অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ওমরপুর, নাগরকান্দি, হাটকড়ই, ধুন্দার ও নন্দীগ্রামের রণবাঘা মাছের মেলা বসে। বাজারে সিলভার কার্প, কাতল, চিতল, রুই, ব্রিগেড, বাঘাইড়, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ তোলা হয়। এক কেজি থেকে ২৫ কেজি ওজনের মাছ থরে থরে সাজিয়ে রেখে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়।

১৮০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে ব্রিগেড ও সিলভার কার্প বিক্রি হয়। রুই ও কাতল বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে। চিতল ও ব্লাডকার্প মাছ আকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

এসব বাজারে ১২ কেজি ওজনের গজার মাছ দেড় হাজার টাকা কেজি দাম চাওয়া হয়। পরে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে।

মাছ বিক্রেতা মিলন হোসেন, কবির আহমেদ জানান, মেলায় শতাধিক মাছের দোকান বসে। প্রত্যেকে ১০ থেকে ২০ মণ মাছ বিক্রি করেছেন।

গুন্দইল গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা জানান, নবান্ন উৎসবকে ঘিরে তারা মূলত বড় বড় মাছ বিক্রি করে থাকেন। ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করেই তারা দাম কম রাখেন।

নন্দীগ্রামের কাথম গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, নবান্ন মেলা উপলক্ষে বাড়িতে বোন, জামাই, ভাগিনা, ভাগ্নি ও আত্মীয়স্বজন এসেছেন। তাদের আপ্যায়ন করতে তিনি মাছ কিনতে এসেছেন। তবে মাছের বাজার এবার চড়া। তাই তিনি মাঝারি সাইজের সিলভার কার্প মাছ কেনেন।

নবান্নে বগুড়ায় মাছপ্রেমীরা (ভিডিও)

 বগুড়া ব্যুরো 
১৮ নভেম্বর ২০২১, ১০:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নবান্ন উৎসব উপলক্ষে অগ্রহায়ণের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব মেলায় হরেক প্রজাতির বড় বড় মাছ বিক্রি হয়। এ মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাছপ্রেমীরা ছুটে আসেন।

এদিকে বগুড়ার বিভিন্ন গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে, জামাই, নাতি, নাতনি ও আত্মীয়স্বজন দিয়ে ভরা। মেলার মাছ দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে।

দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফেঁপিড়া, সাবলা, গয়াবান্ধা, খানপুর, সরঞ্জাবাড়ী, কইল, আমষট্ট, মাজিন্দা, গোবিন্দপুর, ও উপজেলা সদরসহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নবান্ন উৎসব পালন করেন। প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় আতপ চাল বেটে পানি দিয়ে গুলিয়ে আল্পনা আঁকেন, উঠান ও ধানের গোলায় গোবর গুলিয়ে লেপ দেন।

সকালে ছোট ছোট ছেলের দল স্নান (গোসল) করে নতুন ধুতি পরে বয়স্ক লোকদের সাথে জমিতে যান। সেখান থেকে তিন গোছা ধান কেটে তাতে সিঁদুর, কাজলের ফোটা, কলাপাতা দিয়ে ঢেকে মাথায় করে বাড়ির আঙিনায় নিয়ে আসেন।

এ সময় গৃহবধূরা শঙ্খ বাজিয়ে উলুধ্বনি দেন। এ ধরনের অনুষ্ঠানকে এ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আগকাটা (প্রথম ধান কাটা) বলে থাকেন। তারপর কাটা ধানগাছের গুচ্ছ ঘরের ছাদের তীরে আটকিয়ে রাখা হয়। এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ঐতিহ্য।

উপজেলার সরঞ্জাবাড়ী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক পরিতোষ মণ্ডল জানান, আবহমানকাল থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ নবান্ন উৎসবটি ধুমধামের সঙ্গে পালন করে আসছেন। এ নবান্ন উৎসব উপলক্ষে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে বড় বড় মাছের মেলা বসে।

সাধ্যমতো লোকজন রকমারি সবজিসহ বড় বড় মাছ কিনে হরেক রকম সুস্বাদু রান্না, নতুন ধানের চালের পায়েস, পিঠা, পুলি তৈরি করে মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিসহ আত্মীয়স্বজনদের আপ্যায়ন করেন।

দুপচাঁচিয়া মাছ বাজারে ২০ কেজি ওজনের কাতলা তোলা হয়েছিল। মাছ বিক্রেতা প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ টাকা দাবি করলেও পরে ৮০০ টাকা কেজি দরে কেটে বিক্রি করেন।

অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ওমরপুর, নাগরকান্দি, হাটকড়ই, ধুন্দার ও নন্দীগ্রামের রণবাঘা মাছের মেলা বসে। বাজারে সিলভার কার্প, কাতল, চিতল, রুই, ব্রিগেড, বাঘাইড়, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ তোলা হয়। এক কেজি থেকে ২৫ কেজি ওজনের মাছ থরে থরে সাজিয়ে রেখে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হয়।

১৮০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে ব্রিগেড ও সিলভার  কার্প বিক্রি হয়। রুই ও কাতল বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে। চিতল ও ব্লাডকার্প মাছ আকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

এসব বাজারে ১২ কেজি ওজনের গজার মাছ দেড় হাজার টাকা কেজি দাম চাওয়া হয়। পরে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে।

মাছ বিক্রেতা মিলন হোসেন, কবির আহমেদ জানান, মেলায় শতাধিক মাছের দোকান বসে। প্রত্যেকে ১০ থেকে ২০ মণ মাছ বিক্রি করেছেন।

গুন্দইল গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা জানান, নবান্ন উৎসবকে ঘিরে তারা মূলত বড় বড় মাছ বিক্রি করে থাকেন। ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করেই তারা দাম কম রাখেন।

নন্দীগ্রামের কাথম গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, নবান্ন মেলা উপলক্ষে বাড়িতে বোন, জামাই, ভাগিনা, ভাগ্নি ও আত্মীয়স্বজন এসেছেন। তাদের আপ্যায়ন করতে তিনি মাছ কিনতে এসেছেন। তবে মাছের বাজার এবার চড়া। তাই তিনি মাঝারি সাইজের সিলভার কার্প মাছ কেনেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন