জিংকসমৃদ্ধ দুটি জাতের ধানচাষ বাড়ছে
jugantor
জিংকসমৃদ্ধ দুটি জাতের ধানচাষ বাড়ছে

  যশোর ব্যুরো  

১৯ নভেম্বর ২০২১, ০১:০৭:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রতিবছর জিংকের অভাবে ৩৬ ভাগ শিশু ও ৫৭ ভাগ মহিলা অপুষ্টিতে ভুগছে। পাশাপাশি ৪৪ ভাগ কিশোরী জিংকের অভাবে খাটো হয়ে যাচ্ছে। হারভেস্ট বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা জিংকসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর গুরত্ব দিচ্ছেন। জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদনের মাধ্যমেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ সম্ভব।

বৃহস্পতিবার যশোরে হারভেস্ট বাংলাদেশ আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। শহরের ব্র্যাক টার্ক সেন্টারে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় কৃষি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও গবেষকরা অংশ নেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, জিংকসমৃদ্ধ দুটি জাতের ধান দেশে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। আরও একটি জাতের ধান শিগগির কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাবে। যশোর অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি-৭৪ ও ব্রি-৮৪ জাতের ধানের চাষের আগ্রহ বেড়েছে।

যশোর জেলায় সর্বশেষ বোরো মৌসুমে এক হাজার হেক্টর জমিতে বি-৭৪ ও ৫০০ হেক্টর জমিতে ব্রি-৮৪ জাতের ধানচাষ হয়েছে। ব্রি-৭৪ জাতের ধান ১৪৭ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এতে প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক) ফলন ২৪-২৮ মন। এই চাল মাঝারি চিকন হয়।

অপরদিকে ব্রি-৮৪ জাতের ধান ১৪৫ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। এই ধানে প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৬ মিলিগ্রাম। আর প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক) উৎপাদন ২০-২৭ মন। এই ধানের চাল মাঝারি চিকন ও বাদামি রঙের। আরও একটি জিংকসমৃদ্ধ নতুন জাতের ধান শিগগির কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাবে। সেটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু-১০০। এই ধান ১৪৮ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। এই ধানের চালে প্রতি কেজিতে ২৫ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম জিংক আছে। প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক) ফলন ২৬ মন।

হারভেস্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. খায়রুল বাসারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদুল আমিন, বিশেষ অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, বিএডিসি খুলনা-যশোর জোনের যুগ্ম পরিচালক একেএম কামরুজ্জামান, হারভেস্টপ্লাসের সিনিয়র স্পেশালিস্ট ওয়াহিদুল আমিন, হারভেস্টপ্লাসের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মজিবর রহমান, হারভেস্টপ্লাসের সিবিসি প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর আবু হানিফা প্রমুখ। এতে অংশ নেন কৃষি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও গবেষকরা।

ড. খায়রুল বাসার বলেন, মানবদেহের জন্য জিংকের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সবার পুষ্টি নিশ্চিতে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করছে জিংকসমৃদ্ধ ধান। পুষ্টির চাহিদা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদন ও সরবরাহ জোরদার করতে হবে।

জাহিদুল আমিন বলেন, জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদন ও বিপণনের অংশীজনদের উদ্বুদ্ধকরণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এই ধান উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যশোরে জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদনে কৃষকদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিন বছর আগে এই জেলায় জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত মৌসুমে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-৭৪ ও ব্রি-৮৪ জাতের জিংকসমৃদ্ধ ধানচাষ হয়েছে। পুষ্টির চাহিদা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদনের বিকল্প নেই।

জিংকসমৃদ্ধ দুটি জাতের ধানচাষ বাড়ছে

 যশোর ব্যুরো 
১৯ নভেম্বর ২০২১, ০১:০৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রতিবছর জিংকের অভাবে ৩৬ ভাগ শিশু ও ৫৭ ভাগ মহিলা অপুষ্টিতে ভুগছে। পাশাপাশি ৪৪ ভাগ কিশোরী জিংকের অভাবে খাটো হয়ে যাচ্ছে। হারভেস্ট বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা জিংকসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর গুরত্ব দিচ্ছেন। জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদনের মাধ্যমেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ সম্ভব।

বৃহস্পতিবার যশোরে হারভেস্ট বাংলাদেশ আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। শহরের ব্র্যাক টার্ক সেন্টারে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় কৃষি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও গবেষকরা অংশ নেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, জিংকসমৃদ্ধ দুটি জাতের ধান দেশে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। আরও একটি জাতের ধান শিগগির কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাবে। যশোর অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি-৭৪ ও ব্রি-৮৪ জাতের ধানের চাষের আগ্রহ বেড়েছে।

যশোর জেলায় সর্বশেষ বোরো মৌসুমে এক হাজার হেক্টর জমিতে বি-৭৪ ও ৫০০ হেক্টর জমিতে ব্রি-৮৪ জাতের ধানচাষ হয়েছে। ব্রি-৭৪ জাতের ধান ১৪৭ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এতে প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক) ফলন ২৪-২৮ মন। এই চাল মাঝারি চিকন হয়।
 
অপরদিকে ব্রি-৮৪ জাতের ধান ১৪৫ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। এই ধানে প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৬ মিলিগ্রাম। আর প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক) উৎপাদন ২০-২৭ মন। এই ধানের চাল মাঝারি চিকন ও বাদামি রঙের। আরও একটি জিংকসমৃদ্ধ নতুন জাতের ধান শিগগির কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাবে। সেটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু-১০০। এই ধান ১৪৮ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। এই ধানের চালে প্রতি কেজিতে ২৫ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম জিংক আছে। প্রতি বিঘায় (৩৩ শতক) ফলন ২৬ মন।

হারভেস্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. খায়রুল বাসারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদুল আমিন, বিশেষ অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, বিএডিসি খুলনা-যশোর জোনের যুগ্ম পরিচালক একেএম কামরুজ্জামান, হারভেস্টপ্লাসের সিনিয়র স্পেশালিস্ট ওয়াহিদুল আমিন, হারভেস্টপ্লাসের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মজিবর রহমান, হারভেস্টপ্লাসের সিবিসি প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর আবু হানিফা প্রমুখ। এতে অংশ নেন কৃষি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও গবেষকরা।

ড. খায়রুল বাসার বলেন, মানবদেহের জন্য জিংকের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সবার পুষ্টি নিশ্চিতে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করছে জিংকসমৃদ্ধ ধান। পুষ্টির চাহিদা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদন ও সরবরাহ জোরদার করতে হবে।

জাহিদুল আমিন বলেন, জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদন ও বিপণনের অংশীজনদের উদ্বুদ্ধকরণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এই ধান উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যশোরে জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদনে কৃষকদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিন বছর আগে এই জেলায় জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত মৌসুমে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-৭৪ ও ব্রি-৮৪ জাতের জিংকসমৃদ্ধ ধানচাষ হয়েছে। পুষ্টির চাহিদা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদনের বিকল্প নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন