টানা পাঁচবার ইউপি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত চন্দ্রবান বিবি, নেই তার বসতভিটে
jugantor
টানা পাঁচবার ইউপি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত চন্দ্রবান বিবি, নেই তার বসতভিটে

  ছাতক (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি  

১৯ নভেম্বর ২০২১, ১৬:০২:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

টানা পাঁচবার ইউপি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত চন্দ্রবান বিবি, নেই তার বসতভিটে

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য চন্দ্রবান বিবি এবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এ নিয়ে তিনি টানা পাঁচবার নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্য। প্রায় দুই যুগ ধরে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিত্ব করে আসছেন ৬৩ বছর বয়সি সংগ্রামী নারী। কিন্তু নেই তার বসতভিটে। থাকছেন অন্যের ঘরে।

বয়সের ভারে হাঁটতে-চলতে পারেন না তিনি আগের মতো। রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন। যে কোনো বিপদ-আপদে ভ্যানেটি ব্যাগ কাঁদে ফেলে পায়ে হেটে দিন-রাত মানুষের সেবায় চলা ওই সংগ্রামী নারীর দুঃখের সীমা নেই। আত্মসম্মানের ভয়ে কারও কাছে নিজের দুঃখের কথা ভাগ করেন না তিনি।

দুঃখ-কষ্টকে চাঁপা দিয়ে অদম্য সাহস নিয়ে চলছে তার জীবন। বেঁচে থাকার জন্য তিনি তার পরিবারের হাল ধরেছেন অনেক আগ থেকে। স্বামী ও পুত্রহীন সাত কন্যা নিয়ে চলছে জীবন নামের সংগ্রাম। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের রাঁধানগর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের স্ত্রী।

জানা যায়, ১৯৯৭ সালে প্রথমবার সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে (তারা প্রতীক) প্রায় ২৯০০ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আরও চার নারী। এর পর থেকে তিনি একাধারে চারবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় লাভ করেছেন।

১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ছাতক উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এবারে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি পঞ্চমবারের মতো সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

উপজেলায় টানা পঞ্চমবার জয়ের দ্বিতীয় কেউ নেই বলে অনেকের ধারণা। সুখে দুঃখে, যে কোনো বিপদে-আপদে সহযোগিতা পান বলে তাকে বারবার নির্বাচিত করে আসছেন স্থানীয় ভোটাররা। ভোটারদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

একান্ত আলাপকালে সংগ্রামী নারী চন্দ্রমালা বিবি জানান, তিনি ১৯৯৭-২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। প্রথম চারবার তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী করে জিতলেও এবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। সরকারি বেতনের টাকা দিয়ে চলে তার সংসার।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তার স্বামী মারা যান। সাত কন্যা ছাড়া তার কোনো ছেলেসন্তান নেই। অভাবের সংসার তার। নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন অবস্থা। স্বামী থাকাকালীন একমাত্র বাড়ি-ভিটে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন নেই তার ভিটেমাটি। তিন বছর ধরে গ্রামের মরহুম ইস্কার লন্ডনীর পরিত্যক্ত রাইসমিলে আশ্রয় নিয়ে থাকছেন তিনি।

মানুষের সাহায্যে কন্যাদের বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে পাঁচ বছর ধরে তিন সন্তান নিয়ে ফের মায়ের কাছে আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবন্ধী কন্যা রাহিমা। শেষ বয়সে এসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদে বসবাসের জন্য গ্রামে এক টুকরো জমিসহ একটি বসতঘরের পাশাপাশি ডিগ্রি পরীক্ষার্থী তার ছোট কন্যা ফাতেমা বেগমকে সরকারি চাকরি দিয়ে সহযোগিতা করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তিনি জোর দাবি জানান।

ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি বলেন, টানা পাঁচবারের নির্বাচিত সংরক্ষিত এ নারী সদস্যের গুণের কথা ইতিমধ্যে জেনেছেন। সংগ্রামী এ নারী জনসেবায় অনন্য ভূমিকা রাখছেন। এলাকার মানুষ বারবার তাকে নির্বাচিত করে প্রমাণ করছেন তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে। নির্লোভ এ ত্যাগী নারী দীর্ঘ দুই যোগ ধরে প্রতিনিধিত্ব করে আসলেও নেই ভিটেমাটি। অন্যায় পথে টাকা কামাই না করে বেতনের অল্প টাকা দিয়েই তিনি তার সংসার পরিচালনা করছেন।সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ পুরস্কার হিসেবে তাকে জমিসহ একটি ঘর উপহার দেওয়া বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছাতক উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহ মো. শফিউর রহমান বলেন, এলাকায় ওই নারীর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ কারণে মানুষ তাকে ভোট দিয়ে পর পর চারবার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য নির্বাচিত করেছেন। এবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সফলতার সঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্ব করা এমন নারী সমাজে বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টানা পাঁচবার ইউপি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত চন্দ্রবান বিবি, নেই তার বসতভিটে

 ছাতক (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি 
১৯ নভেম্বর ২০২১, ০৪:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
টানা পাঁচবার ইউপি সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত চন্দ্রবান বিবি, নেই তার বসতভিটে
ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য চন্দ্রবান বিবি এবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এ নিয়ে তিনি টানা পাঁচবার নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্য। প্রায় দুই যুগ ধরে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিত্ব করে আসছেন ৬৩ বছর বয়সি সংগ্রামী নারী। কিন্তু নেই তার বসতভিটে। থাকছেন অন্যের ঘরে।

বয়সের ভারে হাঁটতে-চলতে পারেন না তিনি আগের মতো। রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন। যে কোনো বিপদ-আপদে ভ্যানেটি ব্যাগ কাঁদে ফেলে পায়ে হেটে দিন-রাত মানুষের সেবায় চলা ওই সংগ্রামী নারীর দুঃখের সীমা নেই। আত্মসম্মানের ভয়ে কারও কাছে নিজের দুঃখের কথা ভাগ করেন না তিনি।

দুঃখ-কষ্টকে চাঁপা দিয়ে অদম্য সাহস নিয়ে চলছে তার জীবন। বেঁচে থাকার জন্য তিনি তার পরিবারের হাল ধরেছেন অনেক আগ থেকে। স্বামী ও পুত্রহীন সাত কন্যা নিয়ে চলছে জীবন নামের সংগ্রাম। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের রাঁধানগর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের স্ত্রী।

জানা যায়, ১৯৯৭ সালে প্রথমবার সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে (তারা প্রতীক) প্রায় ২৯০০ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আরও চার নারী। এর পর থেকে তিনি একাধারে চারবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয় লাভ করেছেন।

১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ছাতক উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এবারে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি পঞ্চমবারের মতো সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

উপজেলায় টানা পঞ্চমবার জয়ের দ্বিতীয় কেউ নেই বলে অনেকের ধারণা। সুখে দুঃখে, যে কোনো বিপদে-আপদে সহযোগিতা পান বলে তাকে বারবার নির্বাচিত করে আসছেন স্থানীয় ভোটাররা। ভোটারদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

একান্ত আলাপকালে সংগ্রামী নারী চন্দ্রমালা বিবি জানান, তিনি ১৯৯৭-২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। প্রথম চারবার তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী করে জিতলেও এবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। সরকারি বেতনের টাকা দিয়ে চলে তার সংসার।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তার স্বামী মারা যান। সাত কন্যা ছাড়া তার কোনো ছেলেসন্তান নেই। অভাবের সংসার তার। নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন অবস্থা। স্বামী থাকাকালীন একমাত্র বাড়ি-ভিটে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন নেই তার ভিটেমাটি। তিন বছর ধরে গ্রামের মরহুম ইস্কার লন্ডনীর পরিত্যক্ত রাইসমিলে আশ্রয় নিয়ে থাকছেন তিনি।

মানুষের সাহায্যে কন্যাদের বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে পাঁচ বছর ধরে তিন সন্তান নিয়ে ফের মায়ের কাছে আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবন্ধী কন্যা রাহিমা। শেষ বয়সে এসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদে বসবাসের জন্য গ্রামে এক টুকরো জমিসহ একটি বসতঘরের পাশাপাশি ডিগ্রি পরীক্ষার্থী তার ছোট কন্যা ফাতেমা বেগমকে সরকারি চাকরি দিয়ে সহযোগিতা করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তিনি জোর দাবি জানান।

ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি বলেন, টানা পাঁচবারের নির্বাচিত সংরক্ষিত এ নারী সদস্যের গুণের কথা ইতিমধ্যে জেনেছেন। সংগ্রামী এ নারী জনসেবায় অনন্য ভূমিকা রাখছেন। এলাকার মানুষ বারবার তাকে নির্বাচিত করে প্রমাণ করছেন তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে। নির্লোভ এ ত্যাগী নারী দীর্ঘ দুই যোগ ধরে প্রতিনিধিত্ব করে আসলেও নেই ভিটেমাটি। অন্যায় পথে টাকা কামাই না করে বেতনের অল্প টাকা দিয়েই তিনি তার সংসার পরিচালনা করছেন।সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ পুরস্কার হিসেবে তাকে জমিসহ একটি ঘর উপহার দেওয়া বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছাতক উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহ মো. শফিউর রহমান বলেন, এলাকায় ওই নারীর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ কারণে মানুষ তাকে ভোট দিয়ে পর পর চারবার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য নির্বাচিত করেছেন। এবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সফলতার সঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্ব করা এমন নারী সমাজে বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন