মুক্তিপণের দাবিতে বঙ্গোপসাগর থেকে ৪ জেলে অপহৃত
jugantor
মুক্তিপণের দাবিতে বঙ্গোপসাগর থেকে ৪ জেলে অপহৃত

  শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  

২১ নভেম্বর ২০২১, ১৫:০০:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরে গত এক সপ্তাহে ৪ ট্রলারে হামলা চালিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে চার জেলেকে অপহরণ ও এক জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে ডাকাত দল।

এসময় ট্রলারে থাকা ইলিশ মাছ, ডিজেলসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা।

ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রলারগুলো হচ্ছে, শরণখোলা উপজেলার রাজৈর এলাকার আনোয়ার হাওলাদারের এফবি আট ভাই ফিস, একই এলাকার আমিনুল হাওলাদারের এফবি শাওন, পাথরঘাটা উপজেলার ফিরোজ মাতুব্বরের এফবি মায়ের দোয়া, বাদুরতলা গ্রামের নেছার উদ্দিন খানের এফবি মা এবং চর লাঠিমারা গ্রামের বাবুল ফকিরের এফবি বাবুল ট্রলার।

রোববার সকালে ডাকাতের কবল থেকে শরণখোলার রাজৈর মৎস্যঘাটে ফিরে আসা এফবি আট ভাই ফিস নামে ট্রলারের মাঝি মহিদুল মুন্সি জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৯টায় সুন্দরবনের কচিখালীর গাঙ্গের আইন এলাকায় ১৭টি জেলের ট্রলার মাছ ধরছিল।

এমনসময় একটি ট্রলারে ১১ সদস্যের ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র ও দা নিয়ে জেলেদের ট্রলারগুলোতে হামলা চালায়। ডাকাত দল হামলা চালিয়ে ইলিশ ও ডিজেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এসময় তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপণের দাবিতে এফবি আট ভাই ফিস নামে ট্রলারের জেলে লোকমান হোসেন (৬০), এফবি শাওন ট্রলারের মাঝি জাকির হোসেন (৫০) ও পাথরঘাটার এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে জামাল হোসেনকে (৫০) অপহর করে নিয়ে যায়।

পাথরঘাটা মাছধরা ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি মো. দুলাল মিয়া জানান, গত শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের আশার চর এলাকা থেকে এফবি মা ট্রলারে হামলা চালিয়ে ডিজেল ও বিভিন্ন মালামালসহ ট্রলারের মালিক ও মাঝি নেছার উদ্দিন খানকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এঘটনার আগে গত ১৬ নভেম্বর সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া এলাকায় এফবি বাবুল ট্রলারে হামলা চালায়। ডকাত দল ট্রলারের মালামাল লুট করে নিয়ে যওয়ার সময় প্রতিবাদ করলে জেলে মো. মুসাকে গুলি করে হত্যা করে। তার বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার চর লাঠিমারা গ্রামে।

এব্যাপারে বাগেরহাট জেলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, এবছর ইলিশ মৌসুমে এ অঞ্চলে মাছ না পড়ায় জেলে ও মহাজনরা নি:স্ব হয়ে দেনাগ্রস্থ হয়ে পরেছেন। এ অবস্থায় ডাকাতের কবলে পড়ায় তাদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গোপসাগরে তাদের একটি জাহাজ ও সুন্দরবনের কচিখালী, দুবলার চর স্টেশনের সদস্যরা টহলে রয়েছে।

তিনি বলেন, জেলেরা কোস্টগার্ডের ০১৭৬৯৪৪৪৯৯৯ নম্বরে কল দিলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বের সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর এলাকাকে সরকার দস্যুমুক্ত ঘোষণা করে।

মুক্তিপণের দাবিতে বঙ্গোপসাগর থেকে ৪ জেলে অপহৃত

 শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 
২১ নভেম্বর ২০২১, ০৩:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরে গত এক সপ্তাহে ৪ ট্রলারে হামলা চালিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে চার জেলেকে অপহরণ ও এক জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে ডাকাত দল।

এসময় ট্রলারে থাকা ইলিশ মাছ, ডিজেলসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা।

ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রলারগুলো হচ্ছে, শরণখোলা উপজেলার রাজৈর এলাকার আনোয়ার হাওলাদারের এফবি আট ভাই ফিস, একই এলাকার আমিনুল হাওলাদারের এফবি শাওন, পাথরঘাটা উপজেলার ফিরোজ মাতুব্বরের এফবি মায়ের দোয়া, বাদুরতলা গ্রামের নেছার উদ্দিন খানের এফবি মা এবং চর লাঠিমারা গ্রামের বাবুল ফকিরের এফবি বাবুল ট্রলার।

রোববার সকালে ডাকাতের কবল থেকে শরণখোলার রাজৈর মৎস্যঘাটে ফিরে আসা এফবি আট ভাই ফিস নামে ট্রলারের মাঝি মহিদুল মুন্সি জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৯টায় সুন্দরবনের কচিখালীর গাঙ্গের আইন এলাকায় ১৭টি জেলের ট্রলার মাছ ধরছিল।

এমনসময় একটি ট্রলারে ১১ সদস্যের ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র ও দা নিয়ে জেলেদের ট্রলারগুলোতে হামলা চালায়। ডাকাত দল হামলা চালিয়ে ইলিশ ও ডিজেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এসময় তিন লাখ টাকা করে মুক্তিপণের দাবিতে এফবি আট ভাই ফিস নামে ট্রলারের জেলে লোকমান হোসেন (৬০), এফবি শাওন ট্রলারের মাঝি জাকির হোসেন (৫০) ও পাথরঘাটার এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে জামাল হোসেনকে (৫০) অপহর করে নিয়ে যায়।

পাথরঘাটা মাছধরা ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি মো. দুলাল মিয়া জানান, গত শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের আশার চর এলাকা থেকে এফবি মা ট্রলারে হামলা চালিয়ে ডিজেল ও বিভিন্ন মালামালসহ ট্রলারের মালিক ও মাঝি নেছার উদ্দিন খানকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এঘটনার আগে গত ১৬ নভেম্বর সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া এলাকায় এফবি বাবুল ট্রলারে হামলা চালায়। ডকাত দল ট্রলারের মালামাল লুট করে নিয়ে যওয়ার সময় প্রতিবাদ করলে জেলে মো. মুসাকে গুলি করে হত্যা করে। তার বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার চর লাঠিমারা গ্রামে।

এব্যাপারে বাগেরহাট জেলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, এবছর ইলিশ মৌসুমে এ অঞ্চলে মাছ না পড়ায় জেলে ও মহাজনরা নি:স্ব হয়ে দেনাগ্রস্থ হয়ে পরেছেন। এ অবস্থায় ডাকাতের কবলে পড়ায় তাদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গোপসাগরে তাদের একটি জাহাজ ও সুন্দরবনের কচিখালী, দুবলার চর স্টেশনের সদস্যরা টহলে রয়েছে।

তিনি বলেন, জেলেরা কোস্টগার্ডের ০১৭৬৯৪৪৪৯৯৯ নম্বরে কল দিলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বের সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর এলাকাকে সরকার দস্যুমুক্ত ঘোষণা করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন