ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুঁটকিতে ভাগ্যবদল, যাচ্ছে ভারতে
jugantor
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুঁটকিতে ভাগ্যবদল, যাচ্ছে ভারতে

  মো. মানিরুল হোসাইন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি  

২২ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪২:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুঁটকিতে ভাগ্যবদল, যাচ্ছে ভারতে

লিপি রানী দাস (৩০)। স্বামী মাছ ধরার কাজ করেন; আর তিনি সেই মাছ শুঁটকি দিতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কাজ করেন। তার মতো শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কয়েকশ নারী।

সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে উপজেলার গাঙ্কুলপাড়ায় গিয়ে এমন চিত্রই চোখে পড়ে।

জানা যায়, প্রতি বছর আশ্বিন মাস থেকে শুরু করে মাঘ মাস শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন এখানকার নারী-পুরুষসহ পরিবারের সব সদস্য।

হাওরবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এবং এ বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুঁটকি উৎপাদনে জেলেদের রীতিমতো ধুম পড়েছে। উপজেলার বিলবালিঙ্গা, মেদীর বিল, আটাউরী, উত্তরবাল্লা ও লঙ্গন নদীর মিঠাপানির মাছ বিশেষ করে শৈল, চান্দা, গজার, পুঁটি, টেংরা, বোয়াল, বাইম, বাইলা, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ দিয়ে তৈরি হয় এসব শুঁটকি। প্রতি বছর এখানে এই মৌসুমে আনুমানিক প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের শুঁটকি তৈরি হয়। তবে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সদর ইউনিয়নের গাঙ্কুলপাড়ার নদীর তীরঘেঁষে তৈরি হয়েছে অনেক মাছ শুকানো শেড। তার ওপর স্তূপ করে রাখা আছে মাছ। শুঁটকি তৈরিতে এখানে প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন, যার অধিকাংশই নারী। কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা হয় বলে এখানকার শুঁটকির সুখ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত শুঁটকি কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে।

তা ছাড়া গুণগতমান ভালো হওয়ায় এসব শুঁটকির একটি বড় চালান যায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও।

শুঁটকি ব্যবসায়ী নীলু মোহন দাসের স্ত্রী স্বপ্না রানী দাস বলেন, এ আবহাওয়ায় শুঁটকি ভালো হচ্ছে। তবে আমাদের সরকারিভাবে কোনো ঋণ দেওয়া হয় না বলে সুদের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়, যা লাভ হয় তা দিয়ে সুদের লাভ দিলে তেমন কিছু থাকে না। আমরা সরকরিভাবে ঋণ চাই।

আরেক শুঁটকি ব্যবসায়ী নীলমনি দাস বলেন, এ ব্যবসার পেছনে আমরা এক মৌসুমে গড়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে থাকি। আমাদের উৎপাদিত শুঁটকি যায় ভারতেও। কিন্তু সরকারিভাবে আমাদের কোনো সাহায্য দেওয়া হয় না বলে সুদ আনতে হয়। সুদের লাভ দিতে গিয়ে আর তেমন কিছু থাকে না।

নাসিরনগর ভিটাডুবি ধীবর মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল দাস বলেন, এ ব্যবসায় জড়িত জেলেরা অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং এখানে শুঁটকি তৈরিকে কেন্দ্র করে অনেক কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার অধিকাংশ শ্রমিক নারী।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শুভ্র সরকার বলেন, শুঁটকি ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কীভাবে শুঁটকি তৈরি করবেন সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আমরা একটা তালিকা প্রণয়ন করেছি। আশা করি এ থেকে ভালো সুফল পাবেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হালিমা খাতুন বলেন, এখানকার শুঁটকিগুলোর গুণগতমান ভালো। আর নারীদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আমরা তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুঁটকিতে ভাগ্যবদল, যাচ্ছে ভারতে

 মো. মানিরুল হোসাইন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 
২২ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুঁটকিতে ভাগ্যবদল, যাচ্ছে ভারতে
ছবি: যুগান্তর

লিপি রানী দাস (৩০)। স্বামী মাছ ধরার কাজ করেন; আর তিনি সেই মাছ শুঁটকি দিতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে কাজ করেন। তার মতো শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কয়েকশ নারী। 

সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে উপজেলার গাঙ্কুলপাড়ায় গিয়ে এমন চিত্রই চোখে পড়ে।

জানা যায়, প্রতি বছর আশ্বিন মাস থেকে শুরু করে মাঘ মাস শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন এখানকার নারী-পুরুষসহ পরিবারের সব সদস্য। 

হাওরবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এবং এ বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুঁটকি উৎপাদনে জেলেদের রীতিমতো ধুম পড়েছে। উপজেলার বিলবালিঙ্গা, মেদীর বিল, আটাউরী, উত্তরবাল্লা ও লঙ্গন নদীর  মিঠাপানির মাছ বিশেষ করে শৈল, চান্দা, গজার, পুঁটি, টেংরা, বোয়াল, বাইম, বাইলা, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ দিয়ে তৈরি হয় এসব শুঁটকি। প্রতি বছর এখানে এই মৌসুমে আনুমানিক প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের শুঁটকি তৈরি হয়। তবে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সদর ইউনিয়নের গাঙ্কুলপাড়ার নদীর তীরঘেঁষে তৈরি হয়েছে অনেক মাছ শুকানো শেড। তার ওপর স্তূপ করে রাখা আছে মাছ। শুঁটকি তৈরিতে এখানে প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন, যার অধিকাংশই নারী। কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা হয় বলে এখানকার শুঁটকির সুখ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত শুঁটকি কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। 

তা ছাড়া গুণগতমান ভালো হওয়ায় এসব শুঁটকির একটি বড় চালান যায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও।

শুঁটকি ব্যবসায়ী নীলু মোহন দাসের স্ত্রী স্বপ্না রানী দাস বলেন, এ আবহাওয়ায় শুঁটকি ভালো হচ্ছে। তবে আমাদের সরকারিভাবে কোনো ঋণ দেওয়া হয় না বলে সুদের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়, যা লাভ হয় তা দিয়ে সুদের লাভ দিলে তেমন কিছু থাকে না। আমরা সরকরিভাবে ঋণ চাই।

আরেক শুঁটকি ব্যবসায়ী নীলমনি দাস বলেন, এ ব্যবসার পেছনে আমরা এক মৌসুমে গড়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে থাকি। আমাদের উৎপাদিত শুঁটকি যায় ভারতেও। কিন্তু সরকারিভাবে আমাদের কোনো সাহায্য দেওয়া হয় না বলে সুদ আনতে হয়। সুদের লাভ দিতে গিয়ে আর তেমন কিছু থাকে না।