হবিগঞ্জে ২৩ বিদ্রোহীর দাপট, বহিষ্কার হয়নি কেউ
jugantor
হবিগঞ্জে ২৩ বিদ্রোহীর দাপট, বহিষ্কার হয়নি কেউ

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ১৯:৩৯:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে হবিগঞ্জে বিদ্রোহীদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। ২১টি ইউনিয়নে মোট ২৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে লড়ছেন।

এসব ইউনিয়নের অধিকাংশতেই নৌকার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। অনেকেরই রয়েছে বিজয়েরও বিপুল সম্ভাবনা। তাদের মধ্যে স্বয়ং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল ও নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাশ রানাসহ অনেক পদধারী নেতাও রয়েছেন।

এদিকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এখনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর চৌধুরী।

তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে এখনো তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পাওয়া মাত্রই এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পাওয়ার আগে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে জেলার সদর উপজেলার ৮টি এবং নবীগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ নভেম্বর এসব ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সদর উপজেলার ৮টি ইউপিতে ৮ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন- লুকড়ায় আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী কয়ছর আহমেদ শামীম ও মীর জালাল, তেঘরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সেবলু মিয়া ও মো. আবুল কাশেম, গোপায়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, রাজিউড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী তাজ উদ্দিন ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম বাবুল, নিজামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. তাজউদ্দিন।

নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে মোট ১৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন- বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান মেহের আলী মহালদার ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান-১ খালেদ মোশারফ, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা লন্ডন প্রবাসী মো. ছায়েদ উদ্দিন ও যুবলীগ নেতা নোমান আহমদ, আউশকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা আব্দুল হামিদ নিক্সন, কুর্শি ইউনিয়নে লন্ডন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মুকিত ও লন্ডন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আবু তালিম, করগাঁও ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাশ রানা, নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিদ্রোহী প্রার্থী সাজু আহমদ চৌধুরী, বাউসা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ছাত্রলীগ নেতা লন্ডন প্রবাসী জুনেদ হোসেন চৌধুরী, দেবপাড়া ইউপিতে যুবলীগ নেতা শামীম আহমদ, গজনাইপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল ও আওয়ামী লীগ নেতা হাফেজ আইয়ুব আলী, কালিয়ারভাঙ্গা ইউপিতে আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক চৌধুরী, পানিউন্দা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে যুবলীগ নেতা মহিবুর রহমান মামুন।

বিদ্রোহীদের অনেকেরই এলাকায় শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাদের দাপটে নৌকার প্রার্থীরা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় বিদ্রোহীদের অনেকেরই জয়েরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

হবিগঞ্জে ২৩ বিদ্রোহীর দাপট, বহিষ্কার হয়নি কেউ

 হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে হবিগঞ্জে বিদ্রোহীদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। ২১টি ইউনিয়নে মোট ২৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে লড়ছেন।

এসব ইউনিয়নের অধিকাংশতেই নৌকার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। অনেকেরই রয়েছে বিজয়েরও বিপুল সম্ভাবনা। তাদের মধ্যে স্বয়ং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল ও নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাশ রানাসহ অনেক পদধারী নেতাও রয়েছেন।

এদিকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এখনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর চৌধুরী।

তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে এখনো তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পাওয়া মাত্রই এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পাওয়ার আগে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে জেলার সদর উপজেলার ৮টি এবং নবীগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ নভেম্বর এসব ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সদর উপজেলার ৮টি ইউপিতে ৮ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন- লুকড়ায় আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী কয়ছর আহমেদ শামীম ও মীর জালাল, তেঘরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সেবলু মিয়া ও মো. আবুল কাশেম, গোপায়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, রাজিউড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী তাজ উদ্দিন ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম বাবুল, নিজামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. তাজউদ্দিন।

নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে মোট ১৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন- বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান মেহের আলী মহালদার ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান-১ খালেদ মোশারফ, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা লন্ডন প্রবাসী মো. ছায়েদ উদ্দিন ও যুবলীগ নেতা নোমান আহমদ, আউশকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা আব্দুল হামিদ নিক্সন, কুর্শি ইউনিয়নে লন্ডন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মুকিত ও লন্ডন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আবু তালিম, করগাঁও ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাশ রানা, নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিদ্রোহী প্রার্থী সাজু আহমদ চৌধুরী, বাউসা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ছাত্রলীগ নেতা লন্ডন প্রবাসী জুনেদ হোসেন চৌধুরী, দেবপাড়া ইউপিতে যুবলীগ নেতা শামীম আহমদ, গজনাইপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল ও আওয়ামী লীগ নেতা হাফেজ আইয়ুব আলী, কালিয়ারভাঙ্গা ইউপিতে আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক চৌধুরী, পানিউন্দা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে যুবলীগ নেতা মহিবুর রহমান মামুন।

বিদ্রোহীদের অনেকেরই এলাকায় শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাদের দাপটে নৌকার প্রার্থীরা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় বিদ্রোহীদের অনেকেরই জয়েরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন