তাজরীন ট্র্যাজেডির ৯ বছর: নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
jugantor
তাজরীন ট্র্যাজেডির ৯ বছর: নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

  যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ২২:৪১:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৯ বছর পূর্তিতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ক্ষতিপূরণ দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বুধবার সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ভবনটির মূল ফটকের সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা বলেন, তাজরীন ট্র্যাজেডিসহ সব শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি নিরাপদ কারখানা ও কর্মস্থল নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে আহত ও নিহত শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা স্বজন হারানোর বেদনায় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আহত মৌসুমি আক্তার বলেন, তাজরীন ট্র্যাজেডিকে আজও ভুলতে পারিনি। অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হই। এখন আমি বেঁচে থেকেও মৃত। পঙ্গু হয়ে নামমাত্র বেঁচে আছি। একই কারখানায় কাজ করতেন তার বোন আছমা আক্তার। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ভবনে আছমা আটকা পড়েন। হয়তো ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তার দেহ। কেউ তার লাশটিও সন্ধান করে দিতে পারেনি। স্বজন হারিয়ে আজ আমরা নি:স্ব। এখন পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মহামারি করোনাকালে আমরা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। তাই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুতবিচারের দাবি জানান তিনি।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বলেন, তাজরীন ট্র্যাজেডির ৯ বছর গত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিহত শ্রমিকের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের কোনো ধরনের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়নি সরকার ও বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তদন্তে তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে মালিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। আজকের এই দিনে আমরা আবারো ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ মালিক দেলোয়ারের বিচার বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছি।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের আশুলিয়া কমিটির সভাপতি ইউসুফ শেখ বলেন, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আগুন লাগার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ গেটে তালা লাগিয়ে শতাধিক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার নয় বছর পার হলেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি।

এতে সরকারের সদিচ্ছার বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবিলম্বে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া ভবনটি সংস্কার করে শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তিনি। পরে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নীরবতা পালন করেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১৪ জন শ্রমিক। আহত হন আরও প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক। তবে ঘটনার পর থেকে গত ৯ বছর ধরেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

তাজরীন ট্র্যাজেডির ৯ বছর: নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

 যুগান্তর প্রতিবেদন, সাভার 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৯ বছর পূর্তিতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ক্ষতিপূরণ দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বুধবার সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ভবনটির মূল ফটকের সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা বলেন, তাজরীন ট্র্যাজেডিসহ সব শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি নিরাপদ কারখানা ও কর্মস্থল নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে আহত ও নিহত শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা স্বজন হারানোর বেদনায় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আহত মৌসুমি আক্তার বলেন, তাজরীন ট্র্যাজেডিকে আজও ভুলতে পারিনি। অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হই। এখন আমি বেঁচে থেকেও মৃত। পঙ্গু হয়ে নামমাত্র বেঁচে আছি। একই কারখানায় কাজ করতেন তার বোন আছমা আক্তার। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ভবনে আছমা আটকা পড়েন। হয়তো ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তার দেহ। কেউ তার লাশটিও সন্ধান করে দিতে পারেনি। স্বজন হারিয়ে আজ আমরা নি:স্ব। এখন পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মহামারি করোনাকালে আমরা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। তাই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুতবিচারের দাবি জানান তিনি।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বলেন, তাজরীন ট্র্যাজেডির ৯ বছর গত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিহত শ্রমিকের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের কোনো ধরনের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়নি সরকার ও বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তদন্তে তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে মালিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। আজকের এই দিনে আমরা আবারো ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ মালিক দেলোয়ারের বিচার বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছি।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের আশুলিয়া কমিটির সভাপতি ইউসুফ শেখ বলেন, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আগুন লাগার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ গেটে তালা লাগিয়ে শতাধিক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার নয় বছর পার হলেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি।

এতে সরকারের সদিচ্ছার বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবিলম্বে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া ভবনটি সংস্কার করে শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তিনি। পরে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নীরবতা পালন করেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১৪ জন শ্রমিক। আহত হন আরও প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক। তবে ঘটনার পর থেকে গত ৯ বছর ধরেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন