ফ্রিজে ‘ভালোবাসার পাঠশালা’
jugantor
ফ্রিজে ‘ভালোবাসার পাঠশালা’

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ১৪:১৩:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

পাঠশালা

খুলনা রেলস্টেশনে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে দুটি ফ্রিজ। এটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত না। তবে এর মধ্যে রয়েছে মূল্যবান সম্পদ। মূলত ফ্রিজগুলোতে পাঠ্যসূচির বাইরে নানাবিধ বইয়ের সমাহার দিয়ে সাজানো হয়েছে।

মানুষের নীতিনৈতিকতা ও বিভিন্ন ধরনের প্রেরণামূলক বইও আছে। বাদ যায়নি ধর্মীয় বই।

খুলনা পাবলিক কলেজ পরিবারের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে আধুনিক রেলস্টেশনে যাত্রা শুরু হয়েছে ‘ভালোবাসার পাঠশালা’র। কোনো মূল্য ছাড়াই এই বইগুলো পড়তে পারবেন সবাই। এমনকি প্রয়োজনে সঙ্গে নিয়েও যেতে পারবেন।

শুধু খুলনা রেলস্টেশনেই নয়, পর্যায়ক্রমে কমলাপুর, রাজশাহীসহ দেশের সব রেলস্টেশনেই ‘ভালোবাসার পাঠশালা’র কার্যক্রম চালু করা হবে। এমনটি চুক্তি হয়েছে খুলনা পাবলিক কলেজ পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের।

এতে করে যাত্রীরা যে কোনো স্টেশন থেকে বই সংগ্রহ করে সেটি পড়া শেষে অন্য স্টেশনে রেখে দিতে পারবেন।

রেলস্টেশনের বিভিন্ন ব্যানারে লেখা রয়েছে— ‘নিজ দায়িত্বে এখান থেকে একটি বই নিন। এখানে বসুন এবং পড়ুন। পড়া শেষ না হলে নিজ দায়িত্বে বইটি নিয়ে যান এবং প্রয়োজনে বইটি সর্বোচ্চ এক মাস রাখুন। বইটি পড়া শেষ হলে নিজ দায়িত্বে বইটি ‘ভালোবাসার পাঠশালা’তে পাঠিয়ে দিন। সম্ভব হলে এক বা একাধিক বই আপনার নামে এই পাঠশালায় উপহার দিন। মনে রাখবেন, যিনি পাঠ্যসূচির বাইরের বই পড়েন তিনি সমাজের ক্ষতি অথবা কর্মক্ষেত্রে কোনো অনৈতিক কাজ করতে পারে না।

ফ্রিজে বই সংরক্ষিত করার বিষয়ে খুলনা পাবলিক কলেজ পরিবারের কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্যই অকেজো ফ্রিজে বই রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এখানে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেটি হলো— ফ্রিজের মতো করে তোমার বুদ্ধি সংরক্ষিত না করে বই পড়ার মাধ্যমে সেটি বের করা হোক। কারণ যারা বই পড়ে তারা কখনই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হতে পারে না।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের স্টেশনগুলোতে ‘ভালোবাসার পাঠশালা’র কার্যক্রম শুরু করার জন্য গত ৯ মাস ধরে কাজ করা হচ্ছে। খুলনা রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্টেশনেই এই পাঠাশালার কার্যক্রম শুরু হবে।
শুধু তাই নয়, এর পর ট্যুরিস্ট জাহাজ এবং উড়োজাহাজের যাত্রীদের জন্যও এই কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘ভালোবাসার পাঠশালা’র কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আবদুল মোক্তাদের।

প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের এরিয়া অপারেটিং ম্যানেজার মো. মজিবর রহমান।

এ ছাড়া খুলনা পাবলিক কলেজের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফ্রিজে ‘ভালোবাসার পাঠশালা’

 নূর ইসলাম রকি, খুলনা 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ০২:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পাঠশালা
ছবি-যুগান্তর

খুলনা রেলস্টেশনে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে দুটি ফ্রিজ। এটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত না। তবে এর মধ্যে রয়েছে মূল্যবান সম্পদ। মূলত ফ্রিজগুলোতে পাঠ্যসূচির বাইরে নানাবিধ বইয়ের সমাহার দিয়ে সাজানো হয়েছে।
 
মানুষের নীতিনৈতিকতা ও বিভিন্ন ধরনের প্রেরণামূলক বইও আছে। বাদ যায়নি ধর্মীয় বই। 

খুলনা পাবলিক কলেজ পরিবারের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে আধুনিক রেলস্টেশনে যাত্রা শুরু হয়েছে ‘ভালোবাসার পাঠশালা’র। কোনো মূল্য ছাড়াই এই বইগুলো পড়তে পারবেন সবাই। এমনকি প্রয়োজনে সঙ্গে নিয়েও যেতে পারবেন। 

শুধু খুলনা রেলস্টেশনেই নয়, পর্যায়ক্রমে কমলাপুর, রাজশাহীসহ দেশের সব রেলস্টেশনেই ‘ভালোবাসার পাঠশালা’র কার্যক্রম চালু করা হবে। এমনটি চুক্তি হয়েছে খুলনা পাবলিক কলেজ পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের। 

এতে করে যাত্রীরা যে কোনো স্টেশন থেকে বই সংগ্রহ করে সেটি পড়া শেষে অন্য স্টেশনে রেখে দিতে পারবেন। 

রেলস্টেশনের বিভিন্ন ব্যানারে লেখা রয়েছে— ‘নিজ দায়িত্বে এখান থেকে একটি বই নিন। এখানে বসুন এবং পড়ুন। পড়া শেষ না হলে নিজ দায়িত্বে বইটি নিয়ে যান এবং প্রয়োজনে বইটি সর্বোচ্চ এক মাস রাখুন। বইটি পড়া শেষ হলে নিজ দায়িত্বে বইটি ‘ভালোবাসার পাঠশালা’তে পাঠিয়ে দিন। সম্ভব হলে এক বা একাধিক বই আপনার নামে এই পাঠশালায় উপহার দিন। মনে রাখবেন, যিনি পাঠ্যসূচির বাইরের বই পড়েন তিনি সমাজের ক্ষতি অথবা কর্মক্ষেত্রে কোনো অনৈতিক কাজ করতে পারে না। 

ফ্রিজে বই সংরক্ষিত করার বিষয়ে খুলনা পাবলিক কলেজ পরিবারের কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্যই অকেজো ফ্রিজে বই রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এখানে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেটি হলো— ফ্রিজের মতো করে তোমার বুদ্ধি সংরক্ষিত না করে বই পড়ার মাধ্যমে সেটি বের করা হোক। কারণ যারা বই পড়ে তারা কখনই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হতে পারে না। 

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের স্টেশনগুলোতে ‘ভালোবাসার পাঠশালা’র কার্যক্রম শুরু করার জন্য গত ৯ মাস ধরে কাজ করা হচ্ছে। খুলনা রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্টেশনেই এই পাঠাশালার কার্যক্রম শুরু হবে। 
শুধু তাই নয়, এর পর ট্যুরিস্ট জাহাজ এবং উড়োজাহাজের যাত্রীদের জন্যও এই কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

‘ভালোবাসার পাঠশালা’র কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল আবদুল মোক্তাদের। 

প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের এরিয়া অপারেটিং ম্যানেজার মো. মজিবর রহমান।

এ ছাড়া খুলনা পাবলিক কলেজের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন