শ্রীমঙ্গলে মেয়র প্রার্থীর বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা
jugantor
শ্রীমঙ্গলে মেয়র প্রার্থীর বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা

  শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

২৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:১৫:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

শ্রীমঙ্গলে আসন্ন ২৮ নভেম্বর পৌর নির্বাচনে এক স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর বাসভবনে গভীর রাতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মেয়র প্রাথীর ভাতিজা মোশারফ হোসেন রাজ (২৩) ও খাইরুল বাশার (৪০) সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছেন।

এসময় মেয়রের ছেলে মুরাদ হুসাইন সুমনও (২৪) আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মোশারফ হোসেন রাজ ঢাকার এভারকেয়ার ও বাশার সিলেট হাসপালে চিকিৎসাধীন আছেন।

২৫ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে শ্রীমঙ্গলে পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মহসিন মিয়া মধুর শহরের ধানসিঁড়ি এলাকার বাসভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মহসিন মিয়া মধু এ ঘটনায় প্রতিদ্বন্ধী নৌকা মার্কার প্রার্থী অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হকের কর্মীদের অভিযুক্ত করেছেন। তিনি শুক্রবার বিকালে তার বাসভবনে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

মহসিন মিয়া মধু বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাহিদের নেতৃত্বে শতাধিক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী দা, চাপাতি ও হকিস্টিক হাতে বাসভবনের ভেতরে প্রবেশ করে।

এসময় উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা আমার ভাতিজা মোশারফ হোসেন রাজ ও খাইরুল বাশারকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এরপর সন্ত্রাসীরা আমাকে ও আমার ছেলেকে হত্যার জন্য বাসার ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।

এ সময় আমার ছেলে তাদের বাধা দিতে গেলে তাকে বেদড়ক মারধর করে। আমি প্রশাসনকে ফোন করে সাহায্য প্রার্থনা করি। খবর পেয়ে ইউএনও, পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা আবারও হামলা চালানোর চেষ্টা করে।

স্বতন্ত্র এ মেয়র প্রার্থী আরও বলেন, আমার জনপ্রিয়তার কাছে নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে।

এদিন শুক্রবার বিকাল ৫টায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন তাদের ৩ ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর হামলা করেছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাহিদ, তামিম ও সাদিকুল নামে ৩ কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়ার বাসভবনের সামনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বাসার মধ্যে ধরে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে।

আহত দেলোয়ার হোসেন রাহিদ বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে নির্বাচনের স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষে শহরে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।শুক্রবার দুই গ্রুপই থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা করেছে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শামীম অর রশীদ তালুকদার যুগান্তরকে জানান,এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মামলা এফআইআর করা হয়েছে। এ পর্যন্ত স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর পক্ষের ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরকেও আটক করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গলে মেয়র প্রার্থীর বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা

 শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:১৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শ্রীমঙ্গলে আসন্ন ২৮ নভেম্বর পৌর নির্বাচনে এক স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর বাসভবনে গভীর রাতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মেয়র প্রাথীর ভাতিজা মোশারফ হোসেন রাজ (২৩) ও খাইরুল বাশার (৪০) সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছেন।

এসময় মেয়রের ছেলে মুরাদ হুসাইন সুমনও (২৪) আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মোশারফ হোসেন রাজ ঢাকার এভারকেয়ার ও বাশার সিলেট হাসপালে চিকিৎসাধীন আছেন।

২৫ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে শ্রীমঙ্গলে পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মহসিন মিয়া মধুর শহরের ধানসিঁড়ি এলাকার বাসভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মহসিন মিয়া মধু এ ঘটনায় প্রতিদ্বন্ধী নৌকা মার্কার প্রার্থী অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হকের কর্মীদের অভিযুক্ত করেছেন। তিনি শুক্রবার বিকালে তার বাসভবনে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

মহসিন মিয়া মধু বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাহিদের নেতৃত্বে শতাধিক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী দা, চাপাতি ও হকিস্টিক হাতে বাসভবনের ভেতরে প্রবেশ করে।

এসময় উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা আমার ভাতিজা মোশারফ হোসেন রাজ ও খাইরুল বাশারকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এরপর সন্ত্রাসীরা আমাকে ও আমার ছেলেকে হত্যার জন্য বাসার ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।

এ সময় আমার ছেলে তাদের বাধা দিতে গেলে তাকে বেদড়ক মারধর করে। আমি প্রশাসনকে ফোন করে সাহায্য প্রার্থনা করি। খবর পেয়ে ইউএনও, পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা আবারও হামলা চালানোর চেষ্টা করে।

স্বতন্ত্র এ মেয়র প্রার্থী আরও বলেন, আমার জনপ্রিয়তার কাছে নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে।

এদিন শুক্রবার বিকাল ৫টায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন তাদের ৩ ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর হামলা করেছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাহিদ, তামিম ও সাদিকুল নামে ৩ কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়ার বাসভবনের সামনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বাসার মধ্যে ধরে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে।

আহত দেলোয়ার হোসেন রাহিদ বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে নির্বাচনের স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষে শহরে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।শুক্রবার দুই গ্রুপই থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা করেছে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শামীম অর রশীদ তালুকদার যুগান্তরকে জানান,এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মামলা এফআইআর করা হয়েছে। এ পর্যন্ত স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর পক্ষের ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরকেও আটক করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন