বিয়ের ৬ মাস পর স্বামীর নির্যাতন, গৃহবধূ আত্মহত্যা
jugantor
বিয়ের ৬ মাস পর স্বামীর নির্যাতন, গৃহবধূ আত্মহত্যা

  লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি  

২৯ নভেম্বর ২০২১, ১১:০১:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

গৃহবধূর মৃত্যু

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের ছয় মাস পর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার নাথেরপেটুয়া ভূঁইয়াবাড়ি এলাকায় স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর বাবা-মা ও স্বজনদের দাবি, বিয়ের ছয় মাস পর বিদেশে যাওয়ার এক লাখ টাকা দিতে না পারায় তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্মম নির্যাতন করে তামান্নাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তামান্নার স্বামী রাশেদুল ইসলাম টিটু, বাবা অহিদুল ইসলাম তার মা রোকেয়া বেগম ও বড়ভাই রাকিব, ছোট বোন পলাতক রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

নিহত গৃহবধূর নাম তামান্না আক্তার কনা (২১)। তিনি লাকসাম পৌরশহরে ফতেহপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার অহিদুল ইসলামের ছেলে রাজমিস্ত্রি রাশেদুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে তামান্না আক্তার কনার ছয় মাস আগে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তামান্না। গত কয়েক দিন আগে সৌদি আরব যাওয়ার কথা বলেন স্বামী টিটু। তামান্নাকে বাপের বাড়ির থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেন স্বামী ও তার শ্বশুর-শাশুড়ি।

গৃহবধূ তামান্না সেই দাবির কথা তার হতদরিদ্র বাবা-মাকে অবগত করেন। এর পর বাবা-মা তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা দেবে বলে আশ্বাস দেন। গত দুদিন আগে স্বামীকে নিয়ে তামান্না বাবার বাড়িতে গেলে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এর একদিন পর বাকি টাকা পাবে বলে আশ্বাস নিয়ে রোববার তারা ফিরে যান।

পরে এক লাখ টাকা না আনায় স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে গৃহবধূ তামান্নার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই দিন সন্ধ্যায় নিজ ঘরে গৃহবধূ তামান্না বিষপান করেছে বলে আত্মচিৎকার করেন। স্বজনরা আহতাবস্থায় গৃহবধূকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে কুমিল্লা হাসপাতালে নিলে মারা যান গৃহবধূ তামান্না।

নিহত গৃহবধূর বড় ভাই সজীব যুগান্তরকে জানান, বিয়ের পর থেকেই তার বোনকে টিটু অত্যাচার করত। মাঝে মধ্যে মারধরও করত। তামান্নার স্বামী বিদেশে যাবে বলে আমাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। আমরাও নিরীহ এত টাকা কই পাই? মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা দেব বলে আশ্বাস দিই।

তিনি আরও বলেন, দুদিন আগে তামান্না ও টিটু আমাদের বাড়িতে আসেন। এ সময় নগদ ২০ হাজার আর বাকি টাক একদিন পরে দেব বললে তারা বাড়ি থেকে তার স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। এর পর রোববার রাতে টিটু ফোন করে বলে তামান্নার শরীরটা ভালো না; তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসেন। বাড়িতে যাওয়া পথে শুনলাম তামান্না মারা গেছে। আমরা থানায় যাচ্ছি; এ হত্যার ঘটনা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।

এ বিষয় রোববার রাতে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মাহাবুল কবির বলেন, লাশটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। তবে শুনেছি, নিহত গৃহবধূর পক্ষে স্বজনরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

বিয়ের ৬ মাস পর স্বামীর নির্যাতন, গৃহবধূ আত্মহত্যা

 লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
২৯ নভেম্বর ২০২১, ১১:০১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গৃহবধূর মৃত্যু
ফাইল ছবি

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের ছয় মাস পর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার নাথেরপেটুয়া ভূঁইয়াবাড়ি এলাকায় স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর বাবা-মা ও স্বজনদের দাবি, বিয়ের ছয় মাস পর বিদেশে যাওয়ার এক লাখ টাকা দিতে না পারায় তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্মম নির্যাতন করে তামান্নাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তামান্নার স্বামী রাশেদুল ইসলাম টিটু, বাবা অহিদুল ইসলাম তার মা রোকেয়া বেগম ও বড়ভাই রাকিব, ছোট বোন পলাতক রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

নিহত গৃহবধূর নাম তামান্না আক্তার কনা (২১)। তিনি লাকসাম পৌরশহরে ফতেহপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার অহিদুল ইসলামের ছেলে রাজমিস্ত্রি রাশেদুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে তামান্না আক্তার কনার ছয় মাস আগে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তামান্না। গত কয়েক দিন আগে সৌদি আরব যাওয়ার কথা বলেন স্বামী টিটু। তামান্নাকে বাপের বাড়ির থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেন স্বামী ও তার শ্বশুর-শাশুড়ি।

গৃহবধূ তামান্না সেই দাবির কথা তার হতদরিদ্র বাবা-মাকে অবগত করেন।  এর পর বাবা-মা তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা দেবে বলে আশ্বাস দেন। গত দুদিন আগে স্বামীকে নিয়ে তামান্না বাবার বাড়িতে গেলে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এর একদিন পর বাকি টাকা পাবে বলে আশ্বাস নিয়ে রোববার তারা ফিরে যান।

পরে এক লাখ টাকা না আনায় স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে গৃহবধূ তামান্নার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই দিন সন্ধ্যায় নিজ ঘরে গৃহবধূ তামান্না বিষপান করেছে বলে আত্মচিৎকার করেন। স্বজনরা আহতাবস্থায় গৃহবধূকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে কুমিল্লা হাসপাতালে নিলে মারা যান গৃহবধূ তামান্না।

নিহত গৃহবধূর বড় ভাই সজীব যুগান্তরকে জানান, বিয়ের পর থেকেই তার বোনকে টিটু অত্যাচার করত। মাঝে মধ্যে মারধরও করত। তামান্নার স্বামী বিদেশে যাবে বলে আমাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। আমরাও নিরীহ এত টাকা কই পাই? মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা দেব বলে আশ্বাস দিই।

তিনি আরও বলেন, দুদিন আগে তামান্না ও টিটু আমাদের বাড়িতে আসেন।  এ সময় নগদ ২০ হাজার আর বাকি টাক একদিন পরে দেব বললে তারা বাড়ি থেকে তার স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। এর পর রোববার রাতে টিটু ফোন করে বলে তামান্নার শরীরটা ভালো না; তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসেন। বাড়িতে যাওয়া পথে শুনলাম তামান্না মারা গেছে। আমরা থানায় যাচ্ছি; এ হত্যার ঘটনা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।

এ বিষয় রোববার রাতে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মাহাবুল কবির বলেন, লাশটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। তবে শুনেছি, নিহত গৃহবধূর পক্ষে স্বজনরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন