ঘাটাইল পৌর নির্বাচনে তৃতীয় হলেন আ.লীগ প্রার্থী
jugantor
ঘাটাইল পৌর নির্বাচনে তৃতীয় হলেন আ.লীগ প্রার্থী

  যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল  

২৯ নভেম্বর ২০২১, ২২:৩৭:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশীদ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র শহীদুজ্জামান খান হয়েছেন তৃতীয়। তার অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ না করায় এ বিপর্যয় হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দ্বৈত ভূমিকার কারণেই শহিদুজ্জামানকে কোন পক্ষই বিশ্বাস করেনি। তাই তার পরাজয় হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত এই পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশীদ ছয় হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেওয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম পেয়েছেন চার হাজার ৩২৮ ভোট আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহীদুজ্জামান খান পেয়েছেন চার হাজার ৩২৩ ভোট।

নব নির্বাচিত মেয়র আব্দুর রশীদ আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তবে এখন রাজনীতিতে সক্রিয় নন।

স্থানীয়রা জানান, ঘাটাইলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু। অপর অংশের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান ও তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা।

শহীদুজ্জামান খান মেয়র হওয়ার আগে শহিদুল ইসলাম লেবুর অনুসারী ছিলেন। পরে শহিদুলের সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তিনি সংসদ সদস্যদের অংশের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সেখানেও পুরোপুরিভাবে অবস্থান নিতে পারেননি। কখনও শহিদুলের দিকে কখনও সংসদ সদস্যদের দিকে- এভাবেই চলে তার এলাকার রাজনীতি। এর প্রভাব পড়ে এবারের নির্বাচনে। তার পক্ষে কেউ পুরোপুরি কাজ করেনি। যে কারণে নির্বাচনের মাঠে তিনি সুবিধা করতে পারেননি।

স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, মেয়র হওয়ার পর শহীদুজ্জামান দিনে চলতেন শহিদুলের অংশের সঙ্গে আর রাতে চলতেন সংসদ সদস্য ও তার ছেলের অনুসারীদের সঙ্গে। এই দ্বৈত অবস্থানের কারণেই তিনি কারো আস্থা অর্জন করতে পারেননি।

নির্বাচনের পরাজয় সম্পর্কে শহীদুজ্জামান খান জানান, আমাদের দলের লোকেরা নির্বাচনে কাজ করেননি। তারা মনে করেছেন আমি বিজয়ী হলে রাজনীতিতে আমার উত্থান হবে। তাই লোক দেখানোর জন্য মাঠে নেমেছে। তবে ভেতরে ভেতরে কাজ করেছে বিপক্ষ প্রার্থীদের জন্য। এ ব্যাপারে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের লিখিতভাবে জানাবেন।

এ অভিযোগ খন্ডন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হেকমত সিকদার জানান, দলের নেতারা কাজ করেছেন। কিন্তু শহিদুজ্জামান খান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। মেয়র হিসেবেও তেমন কাজ করতে পারেননি। এজন্যই এ ফলাফল হয়েছে।

ঘাটাইল পৌর নির্বাচনে তৃতীয় হলেন আ.লীগ প্রার্থী

 যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল 
২৯ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশীদ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র শহীদুজ্জামান খান হয়েছেন তৃতীয়। তার অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ না করায় এ বিপর্যয় হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দ্বৈত ভূমিকার কারণেই শহিদুজ্জামানকে কোন পক্ষই বিশ্বাস করেনি। তাই তার পরাজয় হয়েছে। 

রোববার অনুষ্ঠিত এই পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশীদ ছয় হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। 

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেওয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম পেয়েছেন চার হাজার ৩২৮ ভোট আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহীদুজ্জামান খান পেয়েছেন চার হাজার ৩২৩ ভোট। 

নব নির্বাচিত মেয়র আব্দুর রশীদ আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তবে এখন রাজনীতিতে সক্রিয় নন।  

স্থানীয়রা জানান, ঘাটাইলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু। অপর অংশের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান ও তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা। 

শহীদুজ্জামান খান মেয়র হওয়ার আগে শহিদুল ইসলাম লেবুর অনুসারী ছিলেন। পরে শহিদুলের সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তিনি সংসদ সদস্যদের অংশের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সেখানেও পুরোপুরিভাবে অবস্থান নিতে পারেননি। কখনও শহিদুলের দিকে কখনও সংসদ সদস্যদের দিকে- এভাবেই চলে তার এলাকার রাজনীতি। এর প্রভাব পড়ে এবারের নির্বাচনে। তার পক্ষে কেউ পুরোপুরি কাজ করেনি। যে কারণে নির্বাচনের মাঠে তিনি সুবিধা করতে পারেননি। 

স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, মেয়র হওয়ার পর শহীদুজ্জামান দিনে চলতেন শহিদুলের অংশের সঙ্গে আর রাতে চলতেন সংসদ সদস্য ও তার ছেলের অনুসারীদের সঙ্গে। এই দ্বৈত অবস্থানের কারণেই তিনি কারো আস্থা অর্জন করতে পারেননি। 

নির্বাচনের পরাজয় সম্পর্কে শহীদুজ্জামান খান জানান, আমাদের দলের লোকেরা নির্বাচনে কাজ করেননি। তারা মনে করেছেন আমি বিজয়ী হলে রাজনীতিতে আমার উত্থান হবে। তাই লোক দেখানোর জন্য মাঠে নেমেছে। তবে ভেতরে ভেতরে কাজ করেছে বিপক্ষ প্রার্থীদের জন্য। এ ব্যাপারে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের লিখিতভাবে জানাবেন। 

এ অভিযোগ খন্ডন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হেকমত সিকদার জানান, দলের নেতারা কাজ করেছেন। কিন্তু শহিদুজ্জামান খান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। মেয়র হিসেবেও তেমন কাজ করতে পারেননি। এজন্যই এ ফলাফল হয়েছে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন