‘চলে যান, আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে’
jugantor
‘চলে যান, আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে’

  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি  

৩০ নভেম্বর ২০২১, ২২:২৩:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সামিউল হক লিটন। আর আগে একই অভিযোগে ভোট বন্ধের দাবি জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ এমপি।

মঙ্গলবার স্থগিত হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের কথা জানান স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একই অভিযোগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন এমপি হারুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম।

এদিকে সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র ঘুরে পাওয়া যায় কারচুপির প্রকৃত চিত্র। শহরের আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কক্ষগুলোতে নৌকা প্রতীকের একাধিক এজেন্ট পাওয়া যায়। এ সময় নৌকা প্রতীকের এক এজেন্টকে গোপন কক্ষে এক নারী ভোটারের ইভিএম মেশিনে ভোট প্রদান করতে দেখা যায়। সেই চিত্র ধারণ করায় গণমাধ্যম কর্মীদের অপদস্থ করেন প্রিসাইডিং অফিসার এসএম শামীম আহমেদ।

আঞ্জুমান বেগম নামে ওই নারী ভোটার সাংবাদিকদের জানান, নৌকার এজেন্ট আমাকে ভোট দেওয়া শিখিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিজেই ইভিএমে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে সে বলে- ‘আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে আপনি চলে যান।’

লিপিয়ারা নামে আরেক নারী ভোটার অভিযোগ করে বলেন, আমি মোট ৩টি প্রতীকে ভোট দেব। কিন্তু নারী কাউন্সিলরকে ভোট দেওয়ার পর আমাকে ভোট দিতে দেয়নি। আমি বললাম আরও দুটি প্রতীকে ভোট দিব। তারা বলছে আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে আপনি চলে যান। তাহলে এত কষ্ট করে আমরা ভোট দিতে আসলাম কেন?

নয়াগোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে নারী ভোটার কক্ষে নৌকার নারী এজেন্টের পাশাপাশি ওই কক্ষে এক যুবককে বসে থাকতে দেখা যায়। নারীদের ঘরে তার অবস্থান জানতে চাইলে নিজেকে নৌকা প্রতীকের এজেন্ট দাবি করেন। পরে অন্যান্য এজেন্টদের তোপের মুখে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশ তাকে নিয়ে যায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সামিউল হক লিটন অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর পর থেকে একটির পর একটি কেন্দ্রে দখল করে ভোট কারচুপি শুরু হয়। আমি কেন্দ্রগুলোতে গেলে সেখানে আমার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করা হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে কোনো প্রতিকার পাইনি।

একই অভিযোগ আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের। তিনি বলেন, সব ভোট কেন্দ্রে একই অবস্থা। যতগুলো কেন্দ্রে আমি গেছি সব কেন্দ্রের ভোটারদের অভিযোগ তাদের ফিঙ্গার নেওয়ার পর মেয়র পদে তাদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি ঘরে ২-৩ জন করে নৌকার এজেন্ট আছে, তারাই ভোট দিয়ে দিচ্ছে।

সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের অভিযোগ, প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রের বুথে টেকনিশিয়ান, অপারেটর এরকম বিভিন্ন নামে নৌকার লোকজন ভোটকেন্দ্রগুলো দখলে নিয়েছে। কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের ভোট দিতে দেওয়া হলেও মেয়র পদে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর সাথে প্রশাসন বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জড়িত।

তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ অন্যরা নৌকার প্রার্থীর অর্থের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে বহিরাগতরা ভোট কেন্দ্রে এবং পৌর এলাকার মধ্যে সোমবার থেকেই অবস্থান নিয়েছে। আর এসব বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং রাজশাহীর ডিআইজিকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন টাকার কাছে জিম্মি হয়ে গেছে, তাদের কাছে সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, কয়েকটি কেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ২ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ২৬ অক্টোবর নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার স্থগিত হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

‘চলে যান, আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে’

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১০:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সামিউল হক লিটন। আর আগে একই অভিযোগে ভোট বন্ধের দাবি জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ এমপি।

মঙ্গলবার স্থগিত হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের কথা জানান স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একই অভিযোগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন এমপি হারুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম।

এদিকে সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র ঘুরে পাওয়া যায় কারচুপির প্রকৃত চিত্র। শহরের আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কক্ষগুলোতে নৌকা প্রতীকের একাধিক এজেন্ট পাওয়া যায়। এ সময় নৌকা প্রতীকের এক এজেন্টকে গোপন কক্ষে এক নারী ভোটারের ইভিএম মেশিনে ভোট প্রদান করতে দেখা যায়। সেই চিত্র ধারণ করায় গণমাধ্যম কর্মীদের অপদস্থ করেন প্রিসাইডিং অফিসার এসএম শামীম আহমেদ।

আঞ্জুমান বেগম নামে ওই নারী ভোটার সাংবাদিকদের জানান, নৌকার এজেন্ট আমাকে ভোট দেওয়া শিখিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিজেই ইভিএমে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে সে বলে- ‘আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে আপনি চলে যান।’

লিপিয়ারা নামে আরেক নারী ভোটার অভিযোগ করে বলেন, আমি মোট ৩টি প্রতীকে ভোট দেব। কিন্তু নারী কাউন্সিলরকে ভোট দেওয়ার পর আমাকে ভোট দিতে দেয়নি। আমি বললাম আরও দুটি প্রতীকে ভোট দিব। তারা বলছে আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে আপনি চলে যান। তাহলে এত কষ্ট করে আমরা ভোট দিতে আসলাম কেন?

নয়াগোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে নারী ভোটার কক্ষে নৌকার নারী এজেন্টের পাশাপাশি ওই কক্ষে এক যুবককে বসে থাকতে দেখা যায়। নারীদের ঘরে তার অবস্থান জানতে চাইলে নিজেকে নৌকা প্রতীকের এজেন্ট দাবি করেন। পরে অন্যান্য এজেন্টদের তোপের মুখে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশ তাকে নিয়ে যায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সামিউল হক লিটন অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর পর থেকে একটির পর একটি কেন্দ্রে দখল করে ভোট কারচুপি শুরু হয়। আমি কেন্দ্রগুলোতে গেলে সেখানে আমার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করা হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে কোনো প্রতিকার পাইনি।

একই অভিযোগ আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের। তিনি বলেন, সব ভোট কেন্দ্রে একই অবস্থা। যতগুলো কেন্দ্রে আমি গেছি সব কেন্দ্রের ভোটারদের অভিযোগ তাদের ফিঙ্গার নেওয়ার পর মেয়র পদে তাদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি ঘরে ২-৩ জন করে নৌকার এজেন্ট আছে, তারাই ভোট দিয়ে দিচ্ছে।

সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের অভিযোগ, প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রের বুথে টেকনিশিয়ান, অপারেটর এরকম বিভিন্ন নামে নৌকার লোকজন ভোটকেন্দ্রগুলো দখলে নিয়েছে। কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের ভোট দিতে দেওয়া হলেও মেয়র পদে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর সাথে প্রশাসন বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জড়িত।

তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ অন্যরা নৌকার প্রার্থীর অর্থের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে বহিরাগতরা ভোট কেন্দ্রে এবং পৌর এলাকার মধ্যে সোমবার থেকেই অবস্থান নিয়েছে। আর এসব বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং রাজশাহীর ডিআইজিকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন টাকার কাছে জিম্মি হয়ে গেছে, তাদের কাছে সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, কয়েকটি কেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ২ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ২৬ অক্টোবর নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার স্থগিত হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন