নৌকার প্রার্থী বড়ভাই, ছোটভাই লাঙলের
jugantor
নৌকার প্রার্থী বড়ভাই, ছোটভাই লাঙলের

  জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:২৩:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই চাচাতো ভাই ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল ও রিমন আহমদ চৌধুরী।

তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা চলছে ইউনিয়নজুড়ে। দুই ভাই দুই দলের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে পুরো উপজেলায়। এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে নানামুখী আলোচনা সমালোচনা চলছে। দুই ভাইয়ের ভোট যুদ্ধে সব শেষে ফলাফল কী হবে তা নিয়ে এখন থেকেই প্রশ্ন উঠছে।

বড়ভাই ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে তিনি প্রাথমিকভাবে নৌকার মাঝি চূড়ান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে তার চাচাতো ছোটভাই সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক রিমন আহমদ চৌধুরী জাতীয় পার্টির তৃণমূলের মতামতে লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন। ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে তার হাতে প্রার্থিতার চিঠিও তুলে দেওয়া হয়েছে।

রিমন আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে লাঙ্গল প্রতীকের প্রত্যাশী ছিলেন উপজেলা যুব সংহতির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জালাল উদ্দিন লাঙ্গল নিয়ে ২ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হলেও এবার দলীয় প্রতীক বঞ্চিত হয়েছেন।

আগামী ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে এ উপজেলার ৯টি ইউপির সঙ্গে সুলতানপুর ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার সুলতানপুর ইউনিয়নের গণিপুর, সহিদাবাদ, ঘেছুয়া, তিরাশী, সুলতানপুর, ইছাপুর, গোয়াবাড়ি, সিরাজপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই ভাইয়ের ভোটের লড়াই ভোটারদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজী নয়। দুজনই দুই প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা-সমালোচনার কমতি নেই ভোটারদের মধ্যে।

ইউনিয়নের দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান পদে দুই রাজনৈতিক দলের প্রতীকে আপন চাচাতো ছোট ভাই-বড় ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তার দুজন ভোটের মাঠে থাকলে ফলাফল কতটা আশানুরূপ হয় সেটাই দেখার অপেক্ষায় ভোটাররা।

ওই দুই ভাই ছাড়াও এ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, গত নির্বাচনে জাপার হেভিওয়েট প্রার্থী জালাল উদ্দিন, খেলাফত মজলিস নেতা বুরহান উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক হাসান আহমদ।

বাবুর বাজারের একটি হোটেলের মালিক আব্দুল আহাদ বলেন, হোটেলে আগত স্থানীয় বেশির ভাগ ব্যক্তি ওই দুই ভাইয়ের লড়াই নিয়ে কথা বলছেন। কেউ কেউ দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্লেষণও করছেন।

সুলতানপুর ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, নৌকার প্রার্থী ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল ওই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জনপ্রিয়। আওয়ামী নেতাকর্মীরা তাকে বিজয়ী করতে মাঠে কাজ করছেন। তার চাচাতো ভাই অন্যদলের প্রার্থী হয়েছেন সেটা রাজনৈতিক ব্যাপার। পারিবারিকভাবে তারা ভাই ভাই হলেও রাজনৈতিকভাবে এখন দুই দলের প্রার্থী। বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবেই এখন দেখছি।

সুলতানপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ওলিউর রহমান বলেন, দলীয় আদর্শগত দিক থেকে তারা দুই ভাই জাতীয় দুই প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী রিমন চৌধুরীর একটি ক্লিন ইমেজ রয়েছে। তার বড়ভাই নৌকার প্রার্থী হয়েছেন সেটা তার দলীয় সিদ্ধান্ত। জাপার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমরা কাজ করব।

জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী রিমন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি তার বড়ভাই ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। ভোটের মাঠে পারিবারিক সম্পর্ক মুখ্য বিষয় নয়। আওয়ামী লীগের প্রতীকে মানুষ ভোট দেবে না। জনগণ পরিবর্তন চায়। উন্নয়নের জন্য লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেবেন ভোটাররা। ভোটের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা প্রমাণ হবে। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের চাপে তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল বলেন, বিগত নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। গ্রামপর্যায়ে শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ার পেতে ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবেন। ছোটভাই রিমন চৌধুরী জাপা থেকে নির্বাচন করছেন সেটা তার দলীয় ব্যাপার। ছোট ভাইয়ের কারণে নৌকা প্রতীকের ভোটে প্রভাব পড়বে না।

নৌকার প্রার্থী বড়ভাই, ছোটভাই লাঙলের

 জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:২৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই চাচাতো ভাই ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল ও রিমন আহমদ চৌধুরী।

তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা চলছে ইউনিয়নজুড়ে। দুই ভাই দুই দলের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে পুরো উপজেলায়। এ নিয়ে ভোটারদের মাঝে নানামুখী আলোচনা সমালোচনা চলছে। দুই ভাইয়ের ভোট যুদ্ধে সব শেষে ফলাফল কী হবে তা নিয়ে এখন থেকেই প্রশ্ন উঠছে।

বড়ভাই ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে তিনি প্রাথমিকভাবে নৌকার মাঝি চূড়ান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে তার চাচাতো ছোটভাই সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক রিমন আহমদ চৌধুরী জাতীয় পার্টির তৃণমূলের মতামতে লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন। ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে তার হাতে প্রার্থিতার চিঠিও তুলে দেওয়া হয়েছে।

রিমন আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে লাঙ্গল প্রতীকের প্রত্যাশী ছিলেন উপজেলা যুব সংহতির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জালাল উদ্দিন লাঙ্গল নিয়ে ২ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হলেও এবার দলীয় প্রতীক বঞ্চিত হয়েছেন।

আগামী ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে এ উপজেলার ৯টি ইউপির সঙ্গে সুলতানপুর ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার সুলতানপুর ইউনিয়নের গণিপুর, সহিদাবাদ, ঘেছুয়া, তিরাশী, সুলতানপুর, ইছাপুর, গোয়াবাড়ি, সিরাজপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই ভাইয়ের ভোটের লড়াই ভোটারদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজী নয়। দুজনই দুই প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা-সমালোচনার কমতি নেই ভোটারদের মধ্যে।

ইউনিয়নের দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান পদে দুই রাজনৈতিক দলের প্রতীকে আপন চাচাতো ছোট ভাই-বড় ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তার দুজন ভোটের মাঠে থাকলে ফলাফল কতটা আশানুরূপ হয় সেটাই দেখার অপেক্ষায় ভোটাররা।

ওই দুই ভাই ছাড়াও এ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, গত নির্বাচনে জাপার হেভিওয়েট প্রার্থী জালাল উদ্দিন, খেলাফত মজলিস নেতা বুরহান উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক হাসান আহমদ।

বাবুর বাজারের একটি হোটেলের মালিক আব্দুল আহাদ বলেন, হোটেলে আগত স্থানীয় বেশির ভাগ ব্যক্তি ওই দুই ভাইয়ের লড়াই নিয়ে কথা বলছেন। কেউ কেউ দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্লেষণও করছেন।

সুলতানপুর ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, নৌকার প্রার্থী ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল ওই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জনপ্রিয়। আওয়ামী নেতাকর্মীরা তাকে বিজয়ী করতে মাঠে কাজ করছেন। তার চাচাতো ভাই অন্যদলের প্রার্থী হয়েছেন সেটা রাজনৈতিক ব্যাপার। পারিবারিকভাবে তারা ভাই ভাই হলেও রাজনৈতিকভাবে এখন দুই দলের প্রার্থী। বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবেই এখন দেখছি।

সুলতানপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ওলিউর রহমান বলেন, দলীয় আদর্শগত দিক থেকে তারা দুই ভাই জাতীয় দুই প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী রিমন চৌধুরীর একটি ক্লিন ইমেজ রয়েছে। তার বড়ভাই নৌকার প্রার্থী হয়েছেন সেটা তার দলীয় সিদ্ধান্ত। জাপার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমরা কাজ করব।

জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী রিমন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি তার বড়ভাই ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। ভোটের মাঠে পারিবারিক সম্পর্ক মুখ্য বিষয় নয়। আওয়ামী লীগের প্রতীকে মানুষ ভোট দেবে না। জনগণ পরিবর্তন চায়। উন্নয়নের জন্য লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেবেন ভোটাররা। ভোটের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা প্রমাণ হবে। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের চাপে তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ইকবাল আহমদ চৌধুরী একল বলেন, বিগত নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। গ্রামপর্যায়ে শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ার পেতে ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবেন। ছোটভাই রিমন চৌধুরী জাপা থেকে নির্বাচন করছেন সেটা তার দলীয় ব্যাপার। ছোট ভাইয়ের কারণে নৌকা প্রতীকের ভোটে প্রভাব পড়বে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন