হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরগাছ রস পাটালি
jugantor
হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরগাছ রস পাটালি

  শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ২০:৩৪:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরগাছ, খেজুরের রস ও খেজুর গুড়ের পাটালি। অথচ একটা সময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এক সময় খেজুরগাছে ভরপুর ছিল। শীত আসলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা।

উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকার আবুল মোল্লা, মোতালেব হোসেন, উজানচরের আবুল কাশেম, পৌরসভার ইব্রাহিম শেখসহ অনেকেই বলেন, কয়েক বছর আগে দেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিলে আতঙ্কে অনেকে খেজুরের রস খাওয়া ছেড়ে দেন। সেই সুযোগে ইটভাটা মালিকদের দৌরাত্ম্যে দেদার খেজুরগাছ কেটে বিক্রি করতে থাকেন লোকজন। তাছাড়া প্রতিটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে খেজুরসহ অন্যান্য গাছ কেটে ফেলছেন।

আগে বিকাল হতেই গাছে গাছে হাঁড়ি বসানো, সকালে রস সংগ্রহ করা, সংগৃহীত রস দিয়ে গুড় তৈরি করা অথবা বাঁকে করে হাঁড়ি ভর্তি রস বাজারে নিয়ে যেতেন গাছিরা।

খেজুরের গুড় আর পাটালির ম ম গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াতো। অনেকে হাঁড়ি ভর্তি রস স্বজনদের বাড়িতে নিয়ে যেতেন। কালের বিবর্তনে এসব এখন ইতিহাস হওয়ার পথে। হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরগাছ। সেই সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছেন খেজুরগাছ কাটার কারিগর গাছিরা।

গাছি আলাউদ্দিন আহমেদ, আলিম মিয়া, কুব্বাদ সরদারসহ কয়েকজন বলেন, এখন খেজুর গাছ খুব একটা দেখা যায় না। অথচ আগে শীত এলে তাদের রমরমা সময় কাটত। তারপরও যতটুকু রয়েছে তার মধ্যেই তারা পুরনো পেশা ধরে রেখেছেন।

গাছিরা জানান, তারা ইতিমধ্যে গাছ প্রস্তুত করে রস সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। একবার গাছ ছাঁটলে তিন-চার দিন রস সংগ্রহ করা যায়। পরবর্তীতে তিন দিন শুকাতে হয়। এভাবে কাটলে গাছের রস সুমিষ্ট হয়। রস সাধারণত ৪ দিন পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। রস সংগ্রহের পর হাঁড়ি পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে হয় অথবা আগুনে ছেকে নিতে হয়। এতে সংগৃহীত রসের গুণগত মান ঠিক থাকে।

ঝুঁকি নিয়ে কোমরে রশি (দড়ি) বেঁধে গাছে ঝুলে তাদের রস সংগ্রহ করতে হয়। এ কাজে অনেক পরিশ্রম।

এ বিষয়ে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের গাছি আমির আলী বলেন, বর্তমানে যে হারে খেজুর গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, তাতে এক সময় হয়তো আমাদের দেশে খেজুরগাছ থাকবে না। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চাইলে আমাদের সবার উচিত বেশি বেশি খেজুরগাছ লাগানো এবং তার যত্ন নেওয়া।

তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাসের আতঙ্কে না থেকে সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে খেজুরের রস খাওয়া যেতে পারে। এতে কোনো সমস্যা হয় না।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন শেখ বলেন, খেজুরের গাছ রোপণে লোকজনের মধ্যে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায় না। সবাই আম, কাঁঠাল আর লিচু নিয়েই ব্যস্ত। সব গাছেরই প্রয়োজন আছে। তিনি মানুষকে খেজুরের রস ও গুড় নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে কেউ খেজুর বাগান করতে চাইলে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরগাছ রস পাটালি

 শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৩৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরগাছ, খেজুরের রস ও খেজুর গুড়ের পাটালি। অথচ একটা সময়  উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এক সময় খেজুরগাছে ভরপুর ছিল। শীত আসলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা।

উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকার আবুল মোল্লা, মোতালেব হোসেন, উজানচরের আবুল কাশেম, পৌরসভার ইব্রাহিম শেখসহ অনেকেই বলেন, কয়েক বছর আগে দেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিলে আতঙ্কে অনেকে খেজুরের রস খাওয়া ছেড়ে দেন। সেই সুযোগে ইটভাটা মালিকদের দৌরাত্ম্যে দেদার খেজুরগাছ কেটে বিক্রি করতে থাকেন লোকজন। তাছাড়া প্রতিটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে খেজুরসহ অন্যান্য গাছ কেটে ফেলছেন।

আগে বিকাল হতেই গাছে গাছে হাঁড়ি বসানো, সকালে রস সংগ্রহ করা, সংগৃহীত রস দিয়ে গুড় তৈরি করা অথবা বাঁকে করে হাঁড়ি ভর্তি রস বাজারে নিয়ে যেতেন গাছিরা।

খেজুরের গুড় আর পাটালির ম ম গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াতো। অনেকে হাঁড়ি ভর্তি রস স্বজনদের বাড়িতে নিয়ে যেতেন। কালের বিবর্তনে এসব এখন ইতিহাস হওয়ার পথে। হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরগাছ। সেই সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছেন খেজুরগাছ কাটার কারিগর গাছিরা। 

গাছি আলাউদ্দিন আহমেদ, আলিম মিয়া, কুব্বাদ সরদারসহ কয়েকজন বলেন, এখন খেজুর গাছ খুব একটা দেখা যায় না। অথচ আগে শীত এলে তাদের রমরমা সময় কাটত। তারপরও যতটুকু রয়েছে তার মধ্যেই তারা পুরনো পেশা ধরে রেখেছেন।

গাছিরা জানান, তারা ইতিমধ্যে গাছ প্রস্তুত করে রস সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। একবার গাছ ছাঁটলে তিন-চার দিন রস সংগ্রহ করা যায়। পরবর্তীতে তিন দিন শুকাতে হয়। এভাবে কাটলে গাছের রস সুমিষ্ট হয়। রস সাধারণত ৪ দিন পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। রস সংগ্রহের পর হাঁড়ি পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে হয় অথবা আগুনে ছেকে নিতে হয়। এতে সংগৃহীত রসের গুণগত মান ঠিক থাকে।

ঝুঁকি নিয়ে কোমরে রশি (দড়ি) বেঁধে গাছে ঝুলে তাদের রস সংগ্রহ করতে হয়। এ কাজে অনেক পরিশ্রম।

এ বিষয়ে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের গাছি আমির আলী বলেন, বর্তমানে যে হারে খেজুর গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, তাতে এক সময় হয়তো আমাদের দেশে খেজুরগাছ থাকবে না। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চাইলে আমাদের সবার উচিত বেশি বেশি খেজুরগাছ লাগানো এবং তার যত্ন নেওয়া।

তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাসের আতঙ্কে না থেকে সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে খেজুরের রস খাওয়া যেতে পারে। এতে কোনো সমস্যা হয় না।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন শেখ বলেন, খেজুরের গাছ রোপণে লোকজনের মধ্যে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায় না। সবাই আম, কাঁঠাল আর লিচু নিয়েই ব্যস্ত। সব গাছেরই প্রয়োজন আছে। তিনি মানুষকে খেজুরের রস ও গুড় নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে কেউ খেজুর বাগান করতে চাইলে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন