যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে গরম খুন্তি ও সিগারেটের ছ্যাঁকা
jugantor
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে গরম খুন্তি ও সিগারেটের ছ্যাঁকা

  লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৪:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ পিংকি আক্তার

কুমিল্লায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাকে গরম খুন্তি ও সিগারেটের ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় বরুড়া উপজেলার ভাউকসার গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতন সইতে না পেরে পালিয়ে লাকসাম খাতাপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে এসেছেন ওই গৃহবধূ।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বজনরা জানান, গত বছর লাকসামের মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন খাতাপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র সফিউল্লার মেয়ে পিংকি আক্তারকে (১৯) বিয়ে করেন বরুড়ার ভাউকসার গ্রামের গাজীবাড়ির মকবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ রায়হান।

ওই সময় যৌতুক হিসেবে তাকে ৮০ হাজার টাকাসহ আসবাবপত্র দেওয়া হয়। বিয়ের কয়েক দিন পর পিংকিকে বাবার বাড়ি থেকে আবার টাকা আনার জন্য চাপ দেন রায়হান। টাকা আনতে রাজি না হলে তাকে মারধর শুরু করেন তিনি।

একপর্যায়ে গৃহবধূ তার বাবার কাছ থেকে কয়েক দফা ১০-১৫ হাজার করে টাকা এনে দেন। বেশ কিছু দিন ধরে স্ত্রীর কাছে আরও টাকা দাবি করেন রায়হান।

টাকা দিতে না পারায় ১৫ দিন আগে ঘরের দরজা বন্ধ করে পিংকিকে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন রায়হান। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরের দিন তিনি বাবার বাড়িতে আসতে চাইলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি।

এর পর টাকার জন্য গত সোমবার সকালে রায়হান তার স্ত্রীকে মারধর করেন। গরম খুন্তি ও সিগারেটের আগুন দিয়ে পিংকির হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে ওই রাতেই পালিয়ে নানাবাড়িতে এসে আশ্রয় নেন পিংকি। ঘটনার একদিন পর বুধবার তাকে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনের শিকার পিংকি আক্তার জানান, বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামী মাদকাসক্ত। এ নিয়ে বাধা দিতে গেলে তার ওপর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। তার পর শুরু হয় যৌতুকের চাপ। ঢাকায় সে আরও একটি বিয়ে করেছে জেনেও মুখবুজে সব সহ্য করতেন। যৌতুকের চাপে নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। স্বামীর সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়িও নির্যাতন করতেন।

তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় গরম খুন্তি ও সিগারেটের আগুন দিয়ে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দেন শাশুড়ি ও স্বামী।

এ ঘটনায় কুমিল্লা আদালতে মামলা করবেন বলে শুক্রবার সকালে জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বাবা সফিউল্লাহ।

স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে পিংকির শাশুড়ি শেফালী বেগম যুগান্তরকে বলেন, মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে গরম খুন্তি ও সিগারেটের ছ্যাঁকা

 লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি  
০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ পিংকি আক্তার
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ পিংকি আক্তার। ছবি-যুগান্তর

কুমিল্লায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাকে গরম খুন্তি ও সিগারেটের ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে। 

গত সোমবার সন্ধ্যায় বরুড়া উপজেলার ভাউকসার গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

নির্যাতন সইতে না পেরে পালিয়ে লাকসাম খাতাপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে এসেছেন ওই গৃহবধূ। 

ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বজনরা জানান, গত বছর লাকসামের মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন খাতাপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র সফিউল্লার মেয়ে পিংকি আক্তারকে (১৯) বিয়ে করেন বরুড়ার ভাউকসার গ্রামের গাজীবাড়ির মকবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ রায়হান। 

ওই সময় যৌতুক হিসেবে তাকে ৮০ হাজার টাকাসহ আসবাবপত্র দেওয়া হয়। বিয়ের কয়েক দিন পর পিংকিকে বাবার বাড়ি থেকে আবার টাকা আনার জন্য চাপ দেন রায়হান। টাকা আনতে রাজি না হলে তাকে মারধর শুরু করেন তিনি। 

একপর্যায়ে গৃহবধূ তার বাবার কাছ থেকে কয়েক দফা ১০-১৫ হাজার করে টাকা এনে দেন। বেশ কিছু দিন ধরে স্ত্রীর কাছে আরও টাকা দাবি করেন রায়হান। 

টাকা দিতে না পারায় ১৫ দিন আগে ঘরের দরজা বন্ধ করে পিংকিকে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন রায়হান। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরের দিন তিনি বাবার বাড়িতে আসতে চাইলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। 

এর পর টাকার জন্য গত সোমবার সকালে রায়হান তার স্ত্রীকে মারধর করেন। গরম খুন্তি ও  সিগারেটের আগুন দিয়ে পিংকির হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে ওই রাতেই পালিয়ে নানাবাড়িতে এসে আশ্রয় নেন পিংকি। ঘটনার একদিন পর বুধবার তাকে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনের শিকার পিংকি আক্তার জানান, বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামী মাদকাসক্ত। এ নিয়ে বাধা দিতে গেলে তার ওপর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। তার পর শুরু হয় যৌতুকের চাপ। ঢাকায় সে আরও একটি বিয়ে করেছে জেনেও মুখবুজে সব সহ্য করতেন। যৌতুকের চাপে নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। স্বামীর সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়িও নির্যাতন করতেন।

তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় গরম খুন্তি ও  সিগারেটের আগুন দিয়ে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দেন শাশুড়ি ও স্বামী। 

এ ঘটনায় কুমিল্লা আদালতে মামলা করবেন বলে শুক্রবার সকালে জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বাবা সফিউল্লাহ। 

স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

তবে পিংকির শাশুড়ি শেফালী বেগম যুগান্তরকে বলেন, মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন