চর ভাড়া দেওয়া হয় যেখানে
jugantor
চর ভাড়া দেওয়া হয় যেখানে

  আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫১:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

‘আমার বাপ দাদার শতাধিক বিঘা জমি ছিল। আমার বয়স এখন ৩০ বছর। এই বয়সে চারবার বাড়ি স্থানান্তর করেছি। দাদা ৩৫ বছর ও পিতা ২৫ বছর আগে মারা গেছে। বৃদ্ধ মা শুকুরজান বেওয়াকে সঙ্গে নিয়ে চরের চার কাঠা জমি চার হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে দুটি ঘর তুলে বসবাস করছি’।

যুগান্তরকে এসব কথা বলেন পদ্মার চর ভাড়া করে আশ্রয় নেওয়া কালিদাসখালীর চরের ওমর আলী।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমার কোনো জমি নেই। নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে শতাধিক বিঘা পদ্মা গর্ভে চলে গেছে। আমি একটি বিয়ে করেছিলাম। আমার তেমন কোন আয় না থাকায়, সে ছেলে চলে গেছে। আমি অন্যের জমিতে কাজ করে দুই সদস্যের পরিবার চালায়।

একই চরের রহিম উদ্দিনের ৬ বিঘা জমি ছিল। এই জমি পদ্মা গর্ভে চলে গেছে। এখন সে নিরুপায় হয়ে অন্যের ১০ কাঠা জমি এক বছরের জন্য ১০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে ঘর তুলে বসবাস করছেন। বর্তমানে সে নদীতে মাছ ধরে তিন সদস্যের পরিবার পরিচালনা করছেন।

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন শত শত পরিবার। তারা সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকে ভূমিহীন মানুষের কাতারে শামিল হয়েছেন।

প্রতি বছর নদী ভাঙনে এসব ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। চরের মানুষ অন্যের জমিতে চুক্তিভিত্তিক আশ্রয় নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন এসব ভূমিহীন পরিবার। দফায় দফায় নদী ভাঙনে শত শত পরিবার অন্যের জমি লিজ নিয়ে বছর চুক্তি বাড়ি করে বসবাস করছেন। তারা কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই নিলেও তাদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।

শুধু বাসস্থান নয়, তাদের কর্মসংস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, স্যানিটেশন-কোনো ব্যবস্থাই ভালো নয়। কোনো রকম দিনমজুরি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যের জমিতে আশ্রয় নেয়া (চুক্তিভিত্তিক) ওই সব পরিবারের বাসস্থান বন্যার সময় তলিয়ে যায়। বছরভিত্তিক চুক্তি নিয়ে অন্যের জমিতে বাড়ি করে আছে। এতে ঠিকমতো সংসার চলে না।

এছাড়া চুক্তিভিত্তিক জায়গায় বাড়িঘরে মাটি কাটতে পারে না। তাই বন্যার সময় বাড়িঘর তলিয়ে যায়। এতে জীবনযাপন অনেক কষ্টকর। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা তেমন পায় না।

এদিকে ৩ নম্বর কালিদাসখালী চরের আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে অনেক ভূমিহীনদের বাড়ি করে দিয়েছেন। আমাদের এই চরে তেমনিভাবে ভূমিহীনদের জন্য বাড়ির ব্যবস্থা করলে, হয়তো নদীভাঙা মানুষগুলো সেই বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করতে পারতেন। নদী ভাঙতে ভাঙতে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

পদ্মার চরের মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিযুল আযম বলেন, পরিষদ থেকে যতটুকু বরাদ্দ হয়, সেগুলো নিরীহদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়। তবে অনেকেই জমি বন্দক নিয়ে বসবাস করছেন। বিভিন্ন মৌজায় নদী ভাঙনে মানুষ কারও আঙিনা কিংবা বন্ধকি জমিতে বাড়ি করে আছেন। উপজেলার সাহায্যে তাদের সমস্যা সমাধান হয় না। তাদের জন্য সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

চর ভাড়া দেওয়া হয় যেখানে

 আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘আমার বাপ দাদার শতাধিক বিঘা জমি ছিল। আমার বয়স এখন ৩০ বছর। এই বয়সে চারবার বাড়ি স্থানান্তর করেছি। দাদা ৩৫ বছর ও পিতা ২৫ বছর আগে মারা গেছে। বৃদ্ধ মা শুকুরজান বেওয়াকে সঙ্গে নিয়ে চরের চার কাঠা জমি চার হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে দুটি ঘর তুলে বসবাস করছি’।

যুগান্তরকে এসব কথা বলেন পদ্মার চর ভাড়া করে আশ্রয় নেওয়া কালিদাসখালীর চরের ওমর আলী।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমার কোনো জমি নেই। নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে শতাধিক বিঘা পদ্মা গর্ভে চলে গেছে। আমি একটি বিয়ে করেছিলাম। আমার তেমন কোন আয় না থাকায়, সে ছেলে চলে গেছে। আমি অন্যের জমিতে কাজ করে দুই সদস্যের পরিবার চালায়।

একই চরের রহিম উদ্দিনের ৬ বিঘা জমি ছিল। এই জমি পদ্মা গর্ভে চলে গেছে। এখন সে নিরুপায় হয়ে অন্যের ১০ কাঠা জমি এক বছরের জন্য ১০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে ঘর তুলে বসবাস করছেন। বর্তমানে সে নদীতে মাছ ধরে তিন সদস্যের পরিবার পরিচালনা করছেন।

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন শত শত পরিবার। তারা সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকে ভূমিহীন মানুষের কাতারে শামিল হয়েছেন।

প্রতি বছর নদী ভাঙনে এসব ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। চরের মানুষ অন্যের জমিতে চুক্তিভিত্তিক আশ্রয় নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন এসব ভূমিহীন পরিবার। দফায় দফায় নদী ভাঙনে শত শত পরিবার অন্যের জমি লিজ নিয়ে বছর চুক্তি বাড়ি করে বসবাস করছেন। তারা কোনোরকম মাথা গোঁজার ঠাঁই নিলেও তাদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।

শুধু বাসস্থান নয়, তাদের কর্মসংস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, স্যানিটেশন-কোনো ব্যবস্থাই ভালো নয়। কোনো রকম দিনমজুরি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যের জমিতে আশ্রয় নেয়া (চুক্তিভিত্তিক) ওই সব পরিবারের বাসস্থান বন্যার সময় তলিয়ে যায়। বছরভিত্তিক চুক্তি নিয়ে অন্যের জমিতে বাড়ি করে আছে। এতে ঠিকমতো সংসার চলে না।

এছাড়া চুক্তিভিত্তিক জায়গায় বাড়িঘরে মাটি কাটতে পারে না। তাই বন্যার সময় বাড়িঘর তলিয়ে যায়। এতে জীবনযাপন অনেক কষ্টকর। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা তেমন পায় না।

এদিকে ৩ নম্বর কালিদাসখালী চরের আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে অনেক ভূমিহীনদের বাড়ি করে দিয়েছেন। আমাদের এই চরে তেমনিভাবে ভূমিহীনদের জন্য বাড়ির ব্যবস্থা করলে, হয়তো নদীভাঙা মানুষগুলো সেই বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করতে পারতেন। নদী ভাঙতে ভাঙতে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

পদ্মার চরের মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিযুল আযম বলেন, পরিষদ থেকে যতটুকু বরাদ্দ হয়, সেগুলো নিরীহদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়। তবে অনেকেই জমি বন্দক নিয়ে বসবাস করছেন। বিভিন্ন মৌজায় নদী ভাঙনে মানুষ কারও আঙিনা কিংবা বন্ধকি জমিতে বাড়ি করে আছেন। উপজেলার সাহায্যে তাদের সমস্যা সমাধান হয় না। তাদের জন্য সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন