ভিক্ষা নয় শিক্ষার স্বীকৃতি চান প্রতিবন্ধী বিপ্লব
jugantor
ভিক্ষা নয় শিক্ষার স্বীকৃতি চান প্রতিবন্ধী বিপ্লব

  শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি  

০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:৩২:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

Never Give Up লেখা স্কিনপ্রিন্টের গোলগলা টি-শার্ট পরে বসেছিল পড়ার টেবিলে। ঘরে ঢুকতেই সালাম দিয়ে নড়েচড়ে বসল। ছোটভাইকে চেয়ার আনতে বলল। কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম আর ভাবলাম Never Give Up শব্দ তিনটির মূর্তমান প্রতীক আমার সামনে।

তার দুটি হাতেই মাত্র একটি করে আঙ্গুলসদৃশ একটি অঙ্গ রয়েছে। দুটি পাও গোড়ালি পর্যন্ত, যা দিয়ে হাঁটা-চলা তো দূরের কথা সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারে না। একটু হাঁটলেই পায়ে ঘা হয়ে যায়। তারপরও ‘ভিক্ষা নয় কাজ চাই’ এমন কথা বলে নিজের ও পরিবারের পেট চালানোর জন্য কাজের সন্ধান করছেন জন্মলগ্ন থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. বিপ্লব হোসেন।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ভিক্ষা করে নয়, বিভিন্ন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে জীবিকা অর্জন করতে চান বিপ্লব। শিক্ষার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ তাক লাগিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। অনেকেই সুস্থ মানুষ হয়েও সমাজের জন্য বোঝা আবার শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও বিপ্লব সমাজের গর্ব।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা বিপ্লব তিন ভাই বোনের মধ্যে মেজো। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোটভাই সরকারি শাহ সুলতান কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আর বিপ্লব খামারকান্দি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং শেরপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ছোনকা রহিমা নওশের আলী অনার্স কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রতিবন্ধিত্ব তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি।

বিপ্লবের বাবা মো. ফজলুল হক দিনমজুরের কাজ করেন এবং মা মোছা. বিলকিস খাতুন একজন গৃহবধূ। বিপ্লবের বাবার আয় দিয়ে সংসার চলে না। তাই ছোটভাই প্রাইভেট পড়িয়ে জীবিকা এবং নিজের পড়ার খরচ চালায়।

অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে প্রতিবন্ধী বিপ্লব বলেন, সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে ভিক্ষুকের মতো হাত পেতে আর্থিক সহযোগিতা নয় বরং আমি চাই শিক্ষার স্বীকৃতি। আমি চাই একদিন সু-প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য নিজেকে নিবেদিত করতে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দরিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে সংসারে বড় হয়েছেন তিনি। অভাবের কথা মনে করে জীবন সংগ্রামে পিছপা না হয়ে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এইচএসসি পাশ করেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

জয়নগর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিপ্লব একটা ভদ্র ও অভাবী পরিবারের শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান। শারীরিক অক্ষমতা থাকলেও সে কখনো বসে থাকেনি। নিজের মতো করে চলার জন্য সব সময় চেষ্টা করে পড়াশোনা করে চলেছে। কিন্তু এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে জীবন সংগ্রামে পিছিয়ে পড়ছে ছেলেটি। তবে সে গরিব হলেও এলাকার মধ্যে সততা এবং অদম্য সাহসের এক বিরাট দৃষ্টান্ত। আমিও সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে তাকে প্রতিষ্ঠিত করার দাবি জানাই।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না, আমার পক্ষ থেকে অবশ্যই চেষ্টা করব। জীবন সংসারে অসহায় এই বিপ্লব পেছনে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে- এই কামনাই করি।

ভিক্ষা নয় শিক্ষার স্বীকৃতি চান প্রতিবন্ধী বিপ্লব

 শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 
০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

Never Give Up লেখা স্কিনপ্রিন্টের গোলগলা টি-শার্ট পরে বসেছিল পড়ার টেবিলে। ঘরে ঢুকতেই সালাম দিয়ে নড়েচড়ে বসল। ছোটভাইকে চেয়ার আনতে বলল। কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম আর ভাবলাম Never Give Up শব্দ তিনটির মূর্তমান প্রতীক আমার সামনে।

তার দুটি হাতেই মাত্র একটি করে আঙ্গুলসদৃশ একটি অঙ্গ রয়েছে। দুটি পাও গোড়ালি পর্যন্ত, যা দিয়ে হাঁটা-চলা তো দূরের কথা সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারে না। একটু হাঁটলেই পায়ে ঘা হয়ে যায়। তারপরও ‘ভিক্ষা নয় কাজ চাই’ এমন কথা বলে নিজের ও পরিবারের পেট চালানোর জন্য কাজের সন্ধান করছেন জন্মলগ্ন থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. বিপ্লব হোসেন।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ভিক্ষা করে নয়, বিভিন্ন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে জীবিকা অর্জন করতে চান বিপ্লব। শিক্ষার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ তাক লাগিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। অনেকেই সুস্থ মানুষ হয়েও সমাজের জন্য বোঝা আবার শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও বিপ্লব সমাজের গর্ব।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা বিপ্লব তিন ভাই বোনের মধ্যে মেজো। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোটভাই সরকারি শাহ সুলতান কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আর বিপ্লব খামারকান্দি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং শেরপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ছোনকা রহিমা নওশের আলী অনার্স কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রতিবন্ধিত্ব তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি।

বিপ্লবের বাবা মো. ফজলুল হক দিনমজুরের কাজ করেন এবং মা মোছা. বিলকিস খাতুন একজন গৃহবধূ। বিপ্লবের বাবার আয় দিয়ে সংসার চলে না। তাই ছোটভাই প্রাইভেট পড়িয়ে জীবিকা এবং নিজের পড়ার খরচ চালায়।

অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে প্রতিবন্ধী বিপ্লব বলেন, সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে ভিক্ষুকের মতো হাত পেতে আর্থিক সহযোগিতা নয় বরং আমি চাই শিক্ষার স্বীকৃতি। আমি চাই একদিন সু-প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য নিজেকে নিবেদিত করতে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দরিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে সংসারে বড় হয়েছেন তিনি। অভাবের কথা মনে করে জীবন সংগ্রামে পিছপা না হয়ে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এইচএসসি পাশ করেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

জয়নগর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিপ্লব একটা ভদ্র ও অভাবী পরিবারের শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তান। শারীরিক অক্ষমতা থাকলেও সে কখনো বসে থাকেনি। নিজের মতো করে চলার জন্য সব সময় চেষ্টা করে পড়াশোনা করে চলেছে। কিন্তু এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে জীবন সংগ্রামে পিছিয়ে পড়ছে ছেলেটি। তবে সে গরিব হলেও এলাকার মধ্যে সততা এবং অদম্য সাহসের এক বিরাট দৃষ্টান্ত। আমিও সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে তাকে প্রতিষ্ঠিত করার দাবি জানাই।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা শেরপুর উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না, আমার পক্ষ থেকে অবশ্যই চেষ্টা করব। জীবন সংসারে অসহায় এই বিপ্লব পেছনে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে- এই কামনাই করি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন