বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত কারিগর হারুনের মৃত্যু
jugantor
বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত কারিগর হারুনের মৃত্যু

  গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:৪৬:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একটি পার্কে পরিত্যক্ত টিনের ঘরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত তিনজনের মধ্যে বোমার কারিগর হারুন হাওলাদার (৪৫) মারা গেছে। রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার (হারুন) মৃত্যু হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে হারুনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

বিষয়টি গৌরনদী থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন। নিহত হারুন উপজেলার বেঁজগাতি গ্রামের আ. বারেক হাওলাদারের ছেলে।

নিহত হারুনের ছোট ভাই সালাউদ্দিন হাওলাদার জানান, তার বড় ভাই হারুন হাওলাদার ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বুধবার বিকালে বেজগাতি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। বোমায় তার ভাই হারুন হাওলাদারের দুই হাতের প্রায় কনুই পর্যন্ত উড়ে ও মুখ মণ্ডল ঝলসে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হারুনকে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খবর পেয়ে শনিবার সকালে তার ভাবি (হারুনের স্ত্রী) ও ভাতিজা (হারুনের ছেলে) বরিশাল হাসপাতালে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য হারুনকে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় হারুনকে শনিবার বাদমাগরিব শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানার এসআই মো. কামাল হোসেন জানান, উপজেলার কটকস্থল দক্ষিণ মাদ্রা ফারিয়া গার্ডেনের (পার্কে) পরিত্যক্ত টিনের ঘরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনায় থানার এসআই ইমাম হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে রোববার দুপুরে থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় পার্কের পরিচ্ছন্নতা কর্মী আবদুর রহমান মীরকে গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার বিকালে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার মার্বেল, ছোট কয়েকটি লোহা, কচটেপ ও জর্দার কৌটার মাথার অংশ বিশেষ আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।

মেডিকেল থেকে কাগজপত্র ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ মুন্সী জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সীর মালিকানাধীন কটকস্থল-দক্ষিণ মাদ্রা ফারিয়া গার্ডেনের (পার্কে) একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরের ভেতর শুক্রবার দিবাগত (৩ ডিসেম্বর) রাতে যুবলীগ কর্মী মো. রায়হান ফকির, মো. কাওছারের নেতৃত্বে বোমা তৈরি করছিল। ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে হারুন হাওলাদারসহ (৪৫) ৩ জন গুরুতর আহত হয়।

বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত কারিগর হারুনের মৃত্যু

 গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একটি পার্কে পরিত্যক্ত টিনের ঘরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত তিনজনের মধ্যে বোমার কারিগর হারুন হাওলাদার (৪৫) মারা গেছে। রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার (হারুন) মৃত্যু হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে হারুনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

বিষয়টি গৌরনদী থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন। নিহত হারুন উপজেলার বেঁজগাতি গ্রামের  আ. বারেক হাওলাদারের ছেলে।

নিহত হারুনের ছোট ভাই সালাউদ্দিন হাওলাদার জানান, তার বড় ভাই হারুন হাওলাদার ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বুধবার বিকালে বেজগাতি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। বোমায় তার ভাই হারুন হাওলাদারের দুই হাতের প্রায় কনুই পর্যন্ত  উড়ে ও মুখ মণ্ডল ঝলসে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হারুনকে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খবর পেয়ে শনিবার সকালে তার ভাবি (হারুনের স্ত্রী) ও ভাতিজা (হারুনের ছেলে) বরিশাল হাসপাতালে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য হারুনকে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় হারুনকে শনিবার বাদমাগরিব শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানার এসআই মো. কামাল হোসেন জানান, উপজেলার কটকস্থল দক্ষিণ মাদ্রা ফারিয়া গার্ডেনের (পার্কে) পরিত্যক্ত টিনের ঘরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনায় থানার এসআই ইমাম হোসেন বাদী হয়ে  ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে রোববার দুপুরে থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় পার্কের পরিচ্ছন্নতা কর্মী আবদুর রহমান মীরকে গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার বিকালে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার মার্বেল, ছোট কয়েকটি লোহা, কচটেপ ও জর্দার কৌটার মাথার অংশ বিশেষ আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।

মেডিকেল থেকে কাগজপত্র ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ মুন্সী জানান,  এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সীর মালিকানাধীন কটকস্থল-দক্ষিণ মাদ্রা ফারিয়া গার্ডেনের (পার্কে) একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরের ভেতর শুক্রবার দিবাগত (৩ ডিসেম্বর) রাতে যুবলীগ কর্মী মো. রায়হান ফকির, মো. কাওছারের নেতৃত্বে বোমা তৈরি করছিল। ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে হারুন হাওলাদারসহ (৪৫) ৩ জন গুরুতর আহত হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন