তিন শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন গেটম্যানও
jugantor
তিন শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন গেটম্যানও

  নীলফামারী প্রতিনিধি  

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩:৪৬:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ছোট্ট তিনটি শিশু রেল সেতুর নিচে খেলা করছিল। কিছু সময় পর তারা রেললাইন পার হয়ে বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় খুলনা মেইল ট্রেন এসে পড়ে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে ওই তিন শিশুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন রেলের গেটম্যান শামীম। কিন্তু তা আর পারেননি তিনি। ওই তিন শিশুর সঙ্গে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান শামীম।

বুধবার সকালে নীলফামারী সদর উপজেলার মনসাপাড়া গ্রামের ব্যাকপাড়া বৌবাজার এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ৪ জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী পরবর্তী একটি আন্তঃনগর ট্রেন আটকে রেখে বিক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। এ ঘটনায় শোকের মাতম শুরু হয়। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এলাকাবাসী জানান, ওই বৌবাজার এলাকার রেজওয়ানের দুই মেয়ে নিমা (৬) ও শিমু (৪) তার ছোটভাই মোমিনকে (২) নিয়ে রেললাইনের ব্রিজের নিচে খেলা করছিল। এ সময় তারা লাইনের ধারে তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য লাইন পার হচ্ছিল।

ঠিক এ সময় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী খুলনা মেইল তাদের কাছে আসতে দেখে রেললাইনের গেটম্যান শামীম শিশুদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। পরে শামীমসহ ওই তিন শিশু ঘটনাস্থলেই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। শামীম ওই এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরবর্তী খুলনাগামী রূপসা ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় এবং ট্রেনের চালক ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ করে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এলাকাবাসী বলেছেন, রেললাইনের ধার ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে বৌবাজার। আর বাজারকে ঘিরেই লাইনের ধার ঘেঁষে বসতি গড়ে উঠেছে। বসতি সংলগ্ন পানি নিষ্কাশনের জন্য রেললাইনে নির্মিত হয়েছে ব্রিজ। শুকনো মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ব্রিজের নিচেই খেলাধুলা করে। মোটামুটি ছেলে-মেয়েদের ব্যাপারে বাবা-মা ও এলাকাবাসী ট্রেন আসা-যাওয়ার ব্যাপারে সচেতনই থাকে। কিন্তু আজকে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক; যা কিছুতেই মেনে নেয়ার মতো নয়।

এ ব্যাপারে নীলফামারী থানার ওসি আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি দেখবে রেল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

তিন শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেলেন গেটম্যানও

 নীলফামারী প্রতিনিধি 
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ছোট্ট তিনটি শিশু রেল সেতুর নিচে খেলা করছিল। কিছু সময় পর তারা রেললাইন পার হয়ে বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় খুলনা মেইল ট্রেন এসে পড়ে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে ওই তিন শিশুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন রেলের গেটম্যান শামীম। কিন্তু তা আর পারেননি তিনি। ওই তিন শিশুর সঙ্গে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান শামীম।

বুধবার সকালে নীলফামারী সদর উপজেলার মনসাপাড়া গ্রামের ব্যাকপাড়া বৌবাজার এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ৪ জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী পরবর্তী একটি আন্তঃনগর ট্রেন আটকে রেখে বিক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। এ ঘটনায় শোকের মাতম শুরু হয়। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এলাকাবাসী জানান, ওই বৌবাজার এলাকার রেজওয়ানের দুই মেয়ে নিমা (৬) ও শিমু (৪) তার ছোটভাই মোমিনকে (২) নিয়ে রেললাইনের ব্রিজের নিচে খেলা করছিল। এ সময় তারা লাইনের ধারে তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য লাইন পার হচ্ছিল।

ঠিক এ সময় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী খুলনা মেইল তাদের কাছে আসতে দেখে রেললাইনের গেটম্যান শামীম শিশুদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। পরে শামীমসহ ওই তিন শিশু ঘটনাস্থলেই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। শামীম ওই এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরবর্তী খুলনাগামী রূপসা ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় এবং ট্রেনের চালক ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ করে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এলাকাবাসী বলেছেন, রেললাইনের ধার ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে বৌবাজার। আর বাজারকে ঘিরেই লাইনের ধার ঘেঁষে বসতি গড়ে উঠেছে। বসতি সংলগ্ন পানি নিষ্কাশনের জন্য রেললাইনে নির্মিত হয়েছে ব্রিজ। শুকনো মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ব্রিজের নিচেই খেলাধুলা করে। মোটামুটি ছেলে-মেয়েদের ব্যাপারে বাবা-মা ও এলাকাবাসী ট্রেন আসা-যাওয়ার ব্যাপারে সচেতনই থাকে। কিন্তু আজকে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক; যা কিছুতেই মেনে নেয়ার মতো নয়।

এ ব্যাপারে নীলফামারী থানার ওসি আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি দেখবে রেল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন