টিভিতে মৃত্যুদণ্ডে রায়ের পর থমথমে পলাতক তানিমের বাড়ি
jugantor
টিভিতে মৃত্যুদণ্ডে রায়ের পর থমথমে পলাতক তানিমের বাড়ি

  সৈয়দা রুখসানা জামান শানু সৈয়দপুর (নীলফামারী)  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:৫৩:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

টিভিতে মৃত্যুদণ্ডে রায়ের পর থমথমে পলাতক তানিমের বাড়ি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এহতেশামুল রাব্বি তানিমের বাড়িতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে মারার জন্য তানিম ওই রাতে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়েছিলেন। পরে তাকে আঘাত করার জন্য অন্য আসামিদের তিনি ক্রিকেট স্টাম্পও সরবরাহ করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অন্য ১৯ আসামির সঙ্গে তানিমকেও মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায়ের খবর টেলিভিশনে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তামিমের বাড়িতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা মা-বাবা।

বুধবার রাতে সরেজমিন তামিমের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, শোকে এখন শয্যাশায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তামিমের বাবা-মা। রায়ের খবর টেলিভিশনে ছড়িয়ে পড়ায় তামিমের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাড়িতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়া নিবাসী এবং জিনাত ফামের্সির স্বত্বাধিকারী আবু মো. কায়সারের বড় সন্তান এহতেশামুল রাব্বি তামিম। বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় তার অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা হওয়ার পর খবরটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

হত্যাকাণ্ডে তানিমের ভূমিকা

মামলার অভিযোগপত্রে জানানো হয়, ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে (অতিথিকক্ষে) অভিযুক্ত আসামিদের কয়েকজন সভা করেন। সেই সভায় তারা সিদ্ধান্ত নেন আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করার। পর দিন দিবাগত রাতে আবরারকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার ওই রাতে আবরার ফাহাদকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে নিয়ে বড় ভাইদের কক্ষে নিয়ে যান ছাত্রলীগকর্মী তানিম।
তার কাছ থেকে তথ্য বের করার নামে নির্যাতনকারীদের মধ্যে তানিমও অন্যতম।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে আবরার ঘুমাচ্ছিলেন। তানিম ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন আবরারকে। তিনি আবরারকে বলেন, ‘বড় ভাইয়েরা তোকে ডাকছে। ২০১১ নম্বর রুমে যেতে হবে। কখন যেতে হবে, কেন যেতে হবে— জানতে চান আবরার। তানিম জানিয়ে দেন, ‘গেলেই দেখতে পাবি।’

সন্ধ্যায় মুজতবা রাফিদ তার সহযোগী ইফতি মোশাররফ ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে জানান, ‘তিনি বাড়ি যাবেন। আবরারকে ধরলে আজই ধরতে হবে।’ তাদের মধ্যে যখন এই কথোপকথন চলছিল, এর কিছুক্ষণ পর হোসেন মোহাম্মদ তোহা ও শামসুল আরেফীন ইফতি মোশাররফসহ সবাইকে জানান, আবরার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে এসেছে।

এই খবর পাওয়ার পর সবাই ২০১১ নম্বর কক্ষে আবার একত্রিত হন। রাত ৮টার দিকে মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ও ইফতি মোশাররফের নির্দেশে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি, এএসএম নাজমুস সাদাত আবুজার মিলে আবরারের কক্ষে যান। আবরারকে মারার জন্য ক্রিকেট স্টাম্পেও আনে তানিম।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে— তখন আবরারের ল্যাপটপ, মোবাইলসহ তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান আসামিরা। ওই কক্ষে যাওয়ার পর তাবাখখারুল, ইফতি মোশাররফ ও মুজতবা রাফিদ চেক করতে থাকেন আবরারের মোবাইল-ল্যাপটপ। একজন বলেন, আবরারের মোবাইলে বিরের তথ্য পাওয়া গেছে, তখনই মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ক্ষিপ্ত হন।

আবরারকে তার চোখ থেকে চশমা খুলে ফেলতে নির্দেশ দেন। আবরার চশমা খোলার পর মেহেদী হাসান ওরফে রবিন প্রচণ্ড জোরে তার মুখে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। এরই মধ্যে মোরশেদ অমর্ত্য ইসলাম কাঠের তৈরি শক্ত ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসেন। এর পর ইফতি মোশাররফ প্রথমে জোরে থাপ্পড় মারেন আবরারকে। হাতে তুলে নেন ক্রিকেট স্টাম্প। এর পর আবরারের পিঠ, পা, হাতসহ বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকেন।

প্রচণ্ড মারধরের কারণে ক্রিকেট স্টাম্প দুই টুকরা হয়ে যায়। তখন এহতেশামুল রাব্বি আরও একটি ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসেন। এর পর অনিক সরকার একটি স্টাম্প হাতে তুলে নেন। অনিক একাধারে আবরারের সারা শরীরে ৫০ থেকে ৬০টি আঘাত করেন। এতে আবরার মেঝেতে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম ও শামিম বিল্লা স্কিপিং রোপ (মোটা দড়ি) দিয়ে আবরারকে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন। আবরার ফাহাদ তখন বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু তাতেও তার রক্ষা হয়নি। বরং মিফতাহুল ইসলাম ওরফে জীয়ন ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। বারবার জানতে চান, আবরার শিবির করে কিনা?

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, রাত তখন ১১টা। তখন ওই কক্ষে এসে হাজির হন এসএম মাহমুদ ওরফে সেতু। আবরারের ব্যাপারে উপস্থিত অন্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে চান। তখন অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ ও মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ‘আবরার কোনো তথ্য দিচ্ছে না।’
তখন মাহমুদ ওরফে সেতু অন্যদের বলে যান, ‘মারতে থাক।’ এমন নির্দেশনার পর আবরারকে আবার ক্রিকেট স্টাম্প, স্কিপিং রোপ দিয়ে মারা হয়।

আবার ইফতি মোশাররফ ও অনিক সরকার আববারকে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পেটাতে থাকেন। হাতের কনুই দিয়ে আবরারের পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করেন। তখন সবাই মিলে প্রচণ্ড শক্তিতে আবরারকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় লাথি মারতে থাকেন। এর পর ওই কক্ষ থেকে বের হওয়ার আগে অনিক সরকার ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিন অন্যদের বলে যান, ‘তোরা আবরারের কাছ থেকে তথ্য বের কর।’

তখন মনিরুজ্জামান মনির বলেন, তিনি আবরারের মোবাইল চেক করে শিবিরের তথ্য পেয়েছেন। এর পর মনিরুজ্জামান ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পেটাতে থাকেন।

তাবাখখারুল, নাজমুস সাদাত, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারেন। বাইরে থেকে আবার ওই কক্ষে ঢোকেন অনিক সরকার। হাতে তুলে নেন ক্রিকেট স্টাম্প। তখন অনিক সরকার আবার আবরার ফাহাদকে প্রচণ্ড জোরে আরও ৪০ থেকে ৫০টি আঘাত করেন। তখন আবরার বমি ও প্রস্রাব করে ফেলেন। বাঁচার জন্য ইশারা-ইঙ্গিতে আকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু কারও কোনো মায়া হয়নি।

টিভিতে মৃত্যুদণ্ডে রায়ের পর থমথমে পলাতক তানিমের বাড়ি

 সৈয়দা রুখসানা জামান শানু সৈয়দপুর (নীলফামারী) 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
টিভিতে মৃত্যুদণ্ডে রায়ের পর থমথমে পলাতক তানিমের বাড়ি
ছবি: যুগান্তর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এহতেশামুল রাব্বি তানিমের বাড়িতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে মারার জন্য তানিম ওই রাতে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়েছিলেন। পরে তাকে আঘাত করার জন্য অন্য আসামিদের তিনি ক্রিকেট স্টাম্পও সরবরাহ করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অন্য ১৯ আসামির সঙ্গে তানিমকেও মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায়ের খবর টেলিভিশনে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তামিমের বাড়িতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা মা-বাবা।

বুধবার রাতে সরেজমিন তামিমের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, শোকে এখন শয্যাশায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তামিমের বাবা-মা। রায়ের খবর টেলিভিশনে ছড়িয়ে পড়ায় তামিমের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাড়িতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের মুন্সিপাড়া নিবাসী এবং জিনাত ফামের্সির স্বত্বাধিকারী আবু মো. কায়সারের বড় সন্তান এহতেশামুল রাব্বি তামিম। বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় তার অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা হওয়ার পর খবরটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

হত্যাকাণ্ডে তানিমের ভূমিকা

মামলার অভিযোগপত্রে জানানো হয়, ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে (অতিথিকক্ষে) অভিযুক্ত আসামিদের কয়েকজন সভা করেন। সেই সভায় তারা সিদ্ধান্ত নেন আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করার। পর দিন দিবাগত রাতে আবরারকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার ওই রাতে আবরার ফাহাদকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলে নিয়ে বড় ভাইদের কক্ষে নিয়ে যান ছাত্রলীগকর্মী তানিম।
তার কাছ থেকে তথ্য বের করার নামে নির্যাতনকারীদের মধ্যে তানিমও অন্যতম।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে আবরার ঘুমাচ্ছিলেন। তানিম ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন আবরারকে। তিনি আবরারকে বলেন, ‘বড় ভাইয়েরা তোকে ডাকছে। ২০১১ নম্বর রুমে যেতে হবে। কখন যেতে হবে, কেন যেতে হবে— জানতে চান আবরার। তানিম জানিয়ে দেন, ‘গেলেই দেখতে পাবি।’

সন্ধ্যায় মুজতবা রাফিদ তার সহযোগী ইফতি মোশাররফ ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে জানান, ‘তিনি বাড়ি যাবেন। আবরারকে ধরলে আজই ধরতে হবে।’ তাদের মধ্যে যখন এই কথোপকথন চলছিল, এর কিছুক্ষণ পর হোসেন মোহাম্মদ তোহা ও শামসুল আরেফীন ইফতি মোশাররফসহ সবাইকে জানান, আবরার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে এসেছে।

এই খবর পাওয়ার পর সবাই ২০১১ নম্বর কক্ষে আবার একত্রিত হন। রাত ৮টার দিকে মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ও ইফতি মোশাররফের নির্দেশে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি, এএসএম নাজমুস সাদাত আবুজার মিলে আবরারের কক্ষে যান। আবরারকে মারার জন্য ক্রিকেট স্টাম্পেও আনে তানিম।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে— তখন আবরারের ল্যাপটপ, মোবাইলসহ তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান আসামিরা। ওই কক্ষে যাওয়ার পর তাবাখখারুল, ইফতি মোশাররফ ও মুজতবা রাফিদ চেক করতে থাকেন আবরারের মোবাইল-ল্যাপটপ। একজন বলেন, আবরারের মোবাইলে বিরের তথ্য পাওয়া গেছে, তখনই মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ক্ষিপ্ত হন।

আবরারকে তার চোখ থেকে চশমা খুলে ফেলতে নির্দেশ দেন। আবরার চশমা খোলার পর মেহেদী হাসান ওরফে রবিন প্রচণ্ড জোরে তার মুখে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। এরই মধ্যে মোরশেদ অমর্ত্য ইসলাম কাঠের তৈরি শক্ত ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসেন। এর পর ইফতি মোশাররফ প্রথমে জোরে থাপ্পড় মারেন আবরারকে। হাতে তুলে নেন ক্রিকেট স্টাম্প। এর পর আবরারের পিঠ, পা, হাতসহ বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকেন।

প্রচণ্ড মারধরের কারণে ক্রিকেট স্টাম্প দুই টুকরা হয়ে যায়। তখন এহতেশামুল রাব্বি আরও একটি ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসেন। এর পর অনিক সরকার একটি স্টাম্প হাতে তুলে নেন। অনিক একাধারে আবরারের সারা শরীরে ৫০ থেকে ৬০টি আঘাত করেন। এতে আবরার মেঝেতে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম ও শামিম বিল্লা স্কিপিং রোপ (মোটা দড়ি) দিয়ে আবরারকে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন। আবরার ফাহাদ তখন বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু তাতেও তার রক্ষা হয়নি। বরং মিফতাহুল ইসলাম ওরফে জীয়ন ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। বারবার জানতে চান, আবরার শিবির করে কিনা?

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, রাত তখন ১১টা। তখন ওই কক্ষে এসে হাজির হন এসএম মাহমুদ ওরফে সেতু। আবরারের ব্যাপারে উপস্থিত অন্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে চান। তখন অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ ও মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ‘আবরার কোনো তথ্য দিচ্ছে না।’
তখন মাহমুদ ওরফে সেতু অন্যদের বলে যান, ‘মারতে থাক।’ এমন নির্দেশনার পর আবরারকে আবার ক্রিকেট স্টাম্প, স্কিপিং রোপ দিয়ে মারা হয়।

আবার ইফতি মোশাররফ ও অনিক সরকার আববারকে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পেটাতে থাকেন। হাতের কনুই দিয়ে আবরারের পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করেন। তখন সবাই মিলে প্রচণ্ড শক্তিতে আবরারকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় লাথি মারতে থাকেন। এর পর ওই কক্ষ থেকে বের হওয়ার আগে অনিক সরকার ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিন অন্যদের বলে যান, ‘তোরা আবরারের কাছ থেকে তথ্য বের কর।’

তখন মনিরুজ্জামান মনির বলেন, তিনি আবরারের মোবাইল চেক করে শিবিরের তথ্য পেয়েছেন। এর পর মনিরুজ্জামান ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পেটাতে থাকেন।

তাবাখখারুল, নাজমুস সাদাত, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারেন। বাইরে থেকে আবার ওই কক্ষে ঢোকেন অনিক সরকার। হাতে তুলে নেন ক্রিকেট স্টাম্প। তখন অনিক সরকার আবার আবরার ফাহাদকে প্রচণ্ড জোরে আরও ৪০ থেকে ৫০টি আঘাত করেন। তখন আবরার বমি ও প্রস্রাব করে ফেলেন। বাঁচার জন্য ইশারা-ইঙ্গিতে আকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু কারও কোনো মায়া হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন