জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে সাকার ফিশ
jugantor
জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে সাকার ফিশ

  আবু জাফর, কেরানীগঞ্জ  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:০৪:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশীয় প্রজাতির মাছ না মিললেও বুড়িগঙ্গা এখন সাকার ফিশে সয়লাব হয়ে গেছে। নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে সাকার ফিশ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘চ্যাগব্যাগা’ বলে পরিচিত। অ্যাকুরিয়ামের আবর্জনা ভক্ষণকারী এই মাছ এখন দখল করে নিয়েছে বুড়িগঙ্গা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি এই সাকার ফিশ যে জলাশয় বা নদীতে থাকবে সেগুলো সেখানকার দেশীয় প্রজাতির মাছের খাবার খেয়ে ফেলবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

বুড়িগঙ্গা তীরে আগানগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, বুড়িগঙ্গার পানিতে দূষণ বেড়ে যাওয়ায় এখন আর তেমন মাছ পাওয়া যায় না। তবে বর্ষাকালে অল্পস্বল্প মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু সাকার ফিশের কারণে এখন সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। জাল ফেললেই উঠে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে সাকার ফিশ।

কেরানীগঞ্জের আগানগর ব্রিজ ঘাট ও সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সাকার ফিশ কিলবিল করছে। স্থানীয় মাঝিরা জানান, কাজ শেষ হলে তারা বুড়িগঙ্গার পানিতে গোসল সেরে বাসায় ফিরতেন। তবে এখন বুড়িগঙ্গায় গোসল করতে ভয় পান। এত বেশি সাকার ফিশ, পানিতে নেমে অনেকের গায়ে মাছের পাখনা ফুটেছিল।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, সাধারণ জলাশয়ের আগাছা, জলজ পোকামাকড় ও ছোট মাছ এদের প্রধান খাবার। যেসব পানিতে দূষণের কারণে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, সেখানে অন্য মাছ বাঁচতে পারে না, তবে এই মাছ পারে। পানি ছাড়াও মাছটি ২৪ ঘণ্টা দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। বুড়িগঙ্গায় প্রচুর ময়লা আবজর্না থাকার ফলে এখানে দ্রুত বংশবিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে মাছটি।

তিনি বলেন, যেখানে খাবার, অনুকূল পরিবেশ এবং ডিম নষ্ট না হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে সেখানে সাকার ফিশ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, সাকার ফিশ দেশীয় প্রজাতির জন্য হুমকি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যে জলাশয় বা নদীতে সাকার মাছ থাকবে, সেগুলো দেশীয় মাছের খাবার খেয়ে ফেলবে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছগুলো শেষ পর্যন্ত খাবার কম পাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশি প্রজাতির মাছ।

সাকার ফিশ সম্পর্কে উইকিপিডিয়া বলছে, সাকার ফিশের পিঠের ওপরে ও দুই পাশে বড় ও ধারালো পাখনা রয়েছে। দাঁতও বেশ ধারালো। এর আসল নাম সাকার মাউথ ক্যাটফিশ। বৈজ্ঞানিক নাম হিপোসটোমাস প্লেকোসটোমাস। আশির দশকে অ্যাকুরিয়ামের শ্যাওলা ও ময়লা পরিষ্কার করতে এই মাছ বিদেশ থেকে আনা হয়। সাকার ফিশ কোস্টারিকা, পানামা ও দক্ষিণ আমেরিকায় ব্যাপকভাবে দেখা যায়। তবে কয়েক বছর ধরে ভারত, চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের জলাশয়ে দেখা যাচ্ছে।

জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে সাকার ফিশ

 আবু জাফর, কেরানীগঞ্জ 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশীয় প্রজাতির মাছ না মিললেও বুড়িগঙ্গা এখন সাকার ফিশে সয়লাব হয়ে গেছে। নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে সাকার ফিশ। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘চ্যাগব্যাগা’ বলে পরিচিত। অ্যাকুরিয়ামের আবর্জনা ভক্ষণকারী এই মাছ এখন দখল করে নিয়েছে বুড়িগঙ্গা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি এই সাকার ফিশ যে জলাশয় বা নদীতে থাকবে সেগুলো সেখানকার দেশীয় প্রজাতির মাছের খাবার খেয়ে ফেলবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

বুড়িগঙ্গা তীরে আগানগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, বুড়িগঙ্গার পানিতে দূষণ বেড়ে যাওয়ায় এখন আর তেমন মাছ পাওয়া যায় না। তবে বর্ষাকালে অল্পস্বল্প মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু সাকার ফিশের কারণে এখন সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। জাল ফেললেই উঠে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে সাকার ফিশ।

কেরানীগঞ্জের আগানগর ব্রিজ ঘাট ও সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সাকার ফিশ কিলবিল করছে। স্থানীয় মাঝিরা জানান, কাজ শেষ হলে তারা বুড়িগঙ্গার পানিতে গোসল সেরে বাসায় ফিরতেন। তবে এখন বুড়িগঙ্গায় গোসল করতে ভয় পান। এত বেশি সাকার ফিশ, পানিতে নেমে অনেকের গায়ে মাছের পাখনা ফুটেছিল।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, সাধারণ জলাশয়ের আগাছা, জলজ পোকামাকড় ও ছোট মাছ এদের প্রধান খাবার। যেসব পানিতে দূষণের কারণে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, সেখানে অন্য মাছ বাঁচতে পারে না, তবে এই মাছ পারে। পানি ছাড়াও মাছটি ২৪ ঘণ্টা দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। বুড়িগঙ্গায় প্রচুর ময়লা আবজর্না থাকার ফলে এখানে দ্রুত বংশবিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে মাছটি। 

তিনি বলেন, যেখানে খাবার, অনুকূল পরিবেশ এবং ডিম নষ্ট না হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে সেখানে সাকার ফিশ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, সাকার ফিশ দেশীয় প্রজাতির জন্য হুমকি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যে জলাশয় বা নদীতে সাকার মাছ থাকবে, সেগুলো দেশীয় মাছের খাবার খেয়ে ফেলবে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছগুলো শেষ পর্যন্ত খাবার কম পাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশি প্রজাতির মাছ।

সাকার ফিশ সম্পর্কে উইকিপিডিয়া বলছে, সাকার ফিশের পিঠের ওপরে ও দুই পাশে বড় ও ধারালো পাখনা রয়েছে। দাঁতও বেশ ধারালো। এর আসল নাম সাকার মাউথ ক্যাটফিশ। বৈজ্ঞানিক নাম হিপোসটোমাস প্লেকোসটোমাস। আশির দশকে অ্যাকুরিয়ামের শ্যাওলা ও ময়লা পরিষ্কার করতে এই মাছ বিদেশ থেকে আনা হয়। সাকার ফিশ কোস্টারিকা, পানামা ও দক্ষিণ আমেরিকায় ব্যাপকভাবে দেখা যায়। তবে কয়েক বছর ধরে ভারত, চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের জলাশয়ে দেখা যাচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন