লেখাপড়া বন্ধের আতঙ্কে ঘুম হয় না রিপার
jugantor
লেখাপড়া বন্ধের আতঙ্কে ঘুম হয় না রিপার

  ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:১৪:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

লেখাপড়া বন্ধের আতঙ্কে ঘুম হয় না রিপার

জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন গোল্ডেন 'এ প্লাস'। অনার্সে ভর্তি হতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন। মেধাতালিকায় ছিলেন ২৯৬ তম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিট লিস্টে ছিলেন ৪৪৬ তম। আর দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএসটি) ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকাতেও পেয়েছেন স্থান।

অনেক কষ্টে, সাহায্য-সহযোগিতা আর সামান্য টিউশনির টাকা দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও হয়েছেন। কিন্তু লেখাপড়ার ব্যয় কীভাবে আসবে?

অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে না তো লেখাপড়া? এ আতঙ্কে এখন ঘুম হয় না কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারার মেধাবী ছাত্রী রিপা খাতুনের।

ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের দিনমজুর, হতদরিদ্র সুরুজ্জামানের কন্যা রিপা খাতুন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না সুরুজ। খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম সংসার চলে ২ মেয়ে, ১ ছেলেসহ ৫ জনের সংসার। জরাজীর্ণ জীবনে পুরনো আধাপাকা ৩ রুমবিশিষ্ট ঘরে শোয়ার চকি ছাড়া আর কিছুই নেই। টিউশনি করে পাওয়া সামান্য টাকা দিয়ে শুধু নিজের লেখাপড়া চালিয়ে নিয়েছেন চরম হতদরিদ্র পরিবারের পদ্মাফুল মেধাবী রিপা। অধিকাংশ দিন কেটেছে একবেলা খেয়ে না খেয়ে।

মেধাবী ছাত্রী রিপা খাতুন ২০১৬ সালে দামুকদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসি, ২০১৮ সালে এসএসসি এবং ২০২০ সালে ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। স্বপ্ন ছিল ঢাকা অথবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু সামর্থ্য তো নেই। পেট চলে না সেখানে আবার লেখাপড়া। আর ঢাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া তো স্বপ্নের মতো। আল্লাহর সাহায্যে আর নিজের পরিশ্রমের ফসল হিসাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। অর্থের অভাবে কোচিং করতে পারেননি।

গরিবের পদ্মফুল মেধাবী রিপা ঢাকার জীবন ব্যয় বহুল বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে অর্নাসে ভর্তি হন। কিন্তু তার আতঙ্ক, লেখাপাড়ার ব্যয় কীভাবে নির্বাহ হবে। কোথায় পাব টাকা। অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে না তো লেখাপড়া।

গোলাপনগর এলাকার শরিফা খাতুন জানান, চরম হতদরিদ্র রিপা। সে নিজের প্রচেষ্টায় খুব কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে গেছে। ঢাকা, রাজশাহীসহ বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সে চান্স পেয়েছে। সে মেধাবী অথচ টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। প্রশাসনিক সহযোগিতা ও বৃত্তবানরা তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলে সে দেশ এবং জাতির মুখ উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবে।

মেধাবী রিপা খাতুন বলেন, অনেক কষ্ট ও সংগ্রাম আর লড়াই করে জীবনযুদ্ধে টিকে আছি। লেখাপাড়া চালিয়ে নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু লেখাপড়ার খরচ কীভাবে নির্বাহ করব সে টেনশনে আমার ঘুম হয় না।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে লেখাপড়া এবং অনান্য খরচ হিসাবে প্রায় ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমার পরিবারের পক্ষে অত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। মাঝ পথে অর্থের অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেলে আমার স্বপ্নের অপমৃত্যু হবে। আমি চাই, লেখাপাড়া শেষ করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ এবং জাতির কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করব। ভালো একজন মানুষ হব।

লেখাপড়া বন্ধের আতঙ্কে ঘুম হয় না রিপার

 ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
লেখাপড়া বন্ধের আতঙ্কে ঘুম হয় না রিপার
ছবি: যুগান্তর

জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন গোল্ডেন 'এ প্লাস'।  অনার্সে ভর্তি হতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন। মেধাতালিকায় ছিলেন ২৯৬ তম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিট লিস্টে ছিলেন ৪৪৬ তম। আর দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএসটি) ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকাতেও পেয়েছেন স্থান। 

অনেক কষ্টে, সাহায্য-সহযোগিতা আর সামান্য টিউশনির টাকা দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও হয়েছেন। কিন্তু লেখাপড়ার ব্যয় কীভাবে আসবে? 

অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে না তো লেখাপড়া? এ আতঙ্কে এখন ঘুম হয় না কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারার মেধাবী ছাত্রী রিপা খাতুনের। 

ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের দিনমজুর, হতদরিদ্র সুরুজ্জামানের কন্যা রিপা খাতুন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না সুরুজ। খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম সংসার চলে ২ মেয়ে, ১ ছেলেসহ ৫ জনের সংসার। জরাজীর্ণ জীবনে পুরনো আধাপাকা ৩ রুমবিশিষ্ট ঘরে শোয়ার চকি ছাড়া আর কিছুই নেই। টিউশনি করে পাওয়া সামান্য টাকা দিয়ে শুধু নিজের লেখাপড়া চালিয়ে নিয়েছেন চরম হতদরিদ্র পরিবারের পদ্মাফুল মেধাবী রিপা।  অধিকাংশ দিন কেটেছে একবেলা খেয়ে না খেয়ে। 

মেধাবী ছাত্রী রিপা খাতুন ২০১৬ সালে দামুকদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসি, ২০১৮ সালে এসএসসি এবং ২০২০ সালে ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। স্বপ্ন ছিল ঢাকা অথবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু সামর্থ্য তো নেই। পেট চলে না সেখানে আবার লেখাপড়া। আর ঢাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া তো স্বপ্নের মতো। আল্লাহর সাহায্যে আর নিজের পরিশ্রমের ফসল হিসাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। অর্থের অভাবে কোচিং করতে পারেননি। 

গরিবের পদ্মফুল মেধাবী রিপা ঢাকার জীবন ব্যয় বহুল বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে অর্নাসে ভর্তি হন। কিন্তু তার আতঙ্ক, লেখাপাড়ার ব্যয় কীভাবে নির্বাহ হবে। কোথায় পাব টাকা। অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে না তো লেখাপড়া।

গোলাপনগর এলাকার শরিফা খাতুন জানান, চরম হতদরিদ্র রিপা। সে নিজের প্রচেষ্টায় খুব কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে গেছে। ঢাকা, রাজশাহীসহ বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সে চান্স পেয়েছে। সে মেধাবী অথচ টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। প্রশাসনিক সহযোগিতা ও বৃত্তবানরা তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলে সে দেশ এবং জাতির মুখ উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবে। 

মেধাবী রিপা খাতুন বলেন, অনেক কষ্ট ও সংগ্রাম আর লড়াই করে জীবনযুদ্ধে টিকে আছি। লেখাপাড়া চালিয়ে নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু লেখাপড়ার খরচ কীভাবে নির্বাহ করব সে টেনশনে আমার ঘুম হয় না। 

তিনি বলেন, প্রতি মাসে লেখাপড়া এবং অনান্য খরচ হিসাবে প্রায় ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমার পরিবারের পক্ষে অত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। মাঝ পথে অর্থের অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেলে আমার স্বপ্নের অপমৃত্যু হবে। আমি চাই, লেখাপাড়া শেষ করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ এবং জাতির কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করব। ভালো একজন মানুষ হব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন