হিলিতে ভারতীয় ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না
jugantor
হিলিতে ভারতীয় ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না

  হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি  

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:১১:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

হিলিতে ভারতীয় ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ভারতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এরপরও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে নেওয়া হয়নি বাড়তি সতর্কতা।

প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকচালকরা দেশে প্রবেশ করলেও করা হচ্ছে না তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। এ কারণে ওমিক্রনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে ভারত থেকে পাসপোর্ট নিয়ে আসা যাত্রীদের শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে এ বন্দরের মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন হিলি স্থলবন্দরের মানুষ।

সম্প্রতি ভারতে ওমিক্রনে মারাও গেছেন একজন। বিশ্বে করোনা ছড়িয়ে পড়লে গত বছরের মার্চ মাস থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাসপোর্টে যাত্রী আসা-যাওয়া এবং সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেয় সরকার। তবে ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সীমান্ত বাণিজ্য চালু হলেও এর অনেক পরে ভারত থেকে বাংলাদেশে যাত্রী আসার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে প্রতিদিন এই পথে গড়ে ৪-৫ জন যাত্রী ঢুকছেন দেশে।

এদিকে করোনার নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে ফেরার পরে স্থলবন্দরে পাসপোর্ট যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহ হলে করানো হচ্ছে করোনা টেস্ট। কিন্তু স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১৮০-২০০ পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে ৪শ চালক ও সহকারী দেশে প্রবেশ করলেও শুধুমাত্র চালকদের তাপমাত্রা পরিমাপ, গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার মাধ্যমে সীমাবন্ধ থাকছে এ কার্যক্রম। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের অংশে করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে না ভারতীয় ট্রাক চালকদের। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে ভারতীয় চালকদের সংস্পর্শে বাংলাদেশি চালক ও শ্রমিকরা আসায় ওমিক্রন সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

কয়েকজন ভারতীয় ড্রাইভার জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় কোনো প্রকার করোনাভাইরাসের টেস্ট করা হয়নি। শুধুমাত্র ট্রাকের চাকাতে স্প্রে করা হয়েছে।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ভারতীয় ট্রাকচালকদের সংস্পর্শে বাংলাদেশি শ্রমিকরা আসলে এটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তবে চালকদের তাপমাত্রা পরিমাপসহ গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। বন্দরের ভেতরে চালকদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হিলি পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক আছে। ভারত থেকে আসা সব ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গাড়ির মালামাল আনলোড করার জন্য পোর্টের পূর্ব পার্শ্বে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারতীয় ড্রাইভারদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পণ্য খালাসের পর ভারতীয় ট্রাকগুলো দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমনকি বারবার মাইকের মাধ্যমে মাস্ক ব্যবহারের জন্য বলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হিলিতে ভারতীয় ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না

 হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হিলিতে ভারতীয় ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না
ছবি: যুগান্তর

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ভারতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এরপরও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে নেওয়া হয়নি বাড়তি সতর্কতা।

প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকচালকরা দেশে প্রবেশ করলেও করা হচ্ছে না তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। এ কারণে ওমিক্রনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে ভারত থেকে পাসপোর্ট নিয়ে আসা যাত্রীদের শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে এ বন্দরের মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন হিলি স্থলবন্দরের মানুষ।

সম্প্রতি ভারতে ওমিক্রনে মারাও গেছেন একজন। বিশ্বে করোনা ছড়িয়ে পড়লে গত বছরের মার্চ মাস থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাসপোর্টে যাত্রী আসা-যাওয়া এবং সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেয় সরকার। তবে ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সীমান্ত বাণিজ্য চালু হলেও এর অনেক পরে ভারত থেকে বাংলাদেশে যাত্রী আসার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে প্রতিদিন এই পথে গড়ে ৪-৫ জন যাত্রী ঢুকছেন দেশে।

এদিকে করোনার নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে ফেরার পরে স্থলবন্দরে পাসপোর্ট যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহ হলে করানো হচ্ছে করোনা টেস্ট। কিন্তু স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১৮০-২০০ পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে ৪শ চালক ও সহকারী দেশে প্রবেশ করলেও শুধুমাত্র চালকদের তাপমাত্রা পরিমাপ, গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার মাধ্যমে সীমাবন্ধ থাকছে এ কার্যক্রম। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের অংশে করোনার অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে না ভারতীয় ট্রাক চালকদের। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে ভারতীয় চালকদের সংস্পর্শে বাংলাদেশি চালক ও শ্রমিকরা আসায় ওমিক্রন সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

কয়েকজন ভারতীয় ড্রাইভার জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় কোনো প্রকার করোনাভাইরাসের টেস্ট করা হয়নি। শুধুমাত্র ট্রাকের চাকাতে স্প্রে করা হয়েছে।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ভারতীয় ট্রাকচালকদের সংস্পর্শে বাংলাদেশি শ্রমিকরা আসলে এটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তবে চালকদের তাপমাত্রা পরিমাপসহ গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। বন্দরের ভেতরে চালকদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হিলি পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক আছে। ভারত থেকে আসা সব ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গাড়ির মালামাল আনলোড করার জন্য পোর্টের পূর্ব পার্শ্বে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারতীয় ড্রাইভারদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পণ্য খালাসের পর ভারতীয় ট্রাকগুলো দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমনকি বারবার মাইকের মাধ্যমে মাস্ক ব্যবহারের জন্য বলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন