হাসপাতালে কিশোরের মৃত্যু, ৪ লাখ টাকায় রফা!
jugantor
হাসপাতালে কিশোরের মৃত্যু, ৪ লাখ টাকায় রফা!

  যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ  

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ২০:২৪:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

মানিকগঞ্জে পৌর এলাকার জয়নগর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের সময় সাগর খান নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনি ঝামেলা এড়াতে চার লাখ টাকায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে রফাদফা করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. আব্দুল মোমেন দাবি করেছেন, অ্যানেস্থেসিয়া অবলিকেশনের কারণে রোগী কার্ডিয়াক অ্যারেস্টজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসায় সদ্য এসএসসি পাশ করা সাগর খানের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সাগর খান সদর উপজেলার জয়নগর গ্রামের হারুন খানের ছেলে।

সোমবার দুপুরে নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা দোষী ডাক্তারদের শাস্তির দাবিতে দুই ঘণ্টা যোসেফ হাসপাতাল অবরুদ্ধ করে রাখেন।

নিহতের বাবা হারুন খান জানান, তার ছেলে সাগর খান এবার এসএসসি পাশ করেছে। পেটে ব্যথা হলে স্থানীয় যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো হয়। ডাক্তার জানান, অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে। ডাক্তারের কথামতো শনিবার বিকালে সাগরকে যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার দিকে সাগরকে অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার জানান, সাগরের অবস্থা ভালো না। এরপর তারা দ্রুত আমাদের না জানিয়ে সাভার সুপার মেডিকেল হাসপাতালে আইসিওতে ভর্তি করেন। রোববার রাতে সাগরের মৃত ঘোষণা করেন সুপার মেডিকেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। অচেতন ইনজেকশন দিয়ে ছেলেকে মারা হয়েছে। তিনি তার ছেলের মৃত্যুর জন্য ডাক্তারকে দায়ী করেন।

নিহতের প্রতিবেশী বিমল রাজবংশী জানান, যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাত হাজার টাকা চুক্তিতে সাগরের অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের চুক্তি হয়। অচেতন ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই সাগরের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। সাগরের মৃত্যু হবে নিশ্চিত জেনেই রোগীর কোনো অভিভাবক ছাড়াই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাভারে নিয়ে ভর্তি করেন।

সাভার সুপার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার সুব্রত কুমার সরকার জানান, অ্যানেস্থেসিয়া অবলিকেশনের কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টজনিত কারণে সাগরকে শনিবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ভর্তি করা হয়। আইসিওতে রাখা হয়েছিল কিন্তু অবস্থা খারাপ থাকায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের সার্জন ও অ্যানেস্থেসিয়া নেই। যখন অপারেশন করা হয় তখন কল দিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসেন। সাগরের অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সার্জন ডা. আরিফুর রহমান ও সদ্য শেষ হওয়া ৬ মাসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার আব্দুল মোমেন। তিনি রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য এমবিবিএস পাশ করেছেন। গত ডিসেম্বর মাসে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অ্যানেস্থেসিয়ার ওপর ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

এ ব্যাপারের মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সার্জন ডা. আরিফুর রহমান জানান, রোগীর মেডিকেল রিপোর্ট কিছু ঠিক ছিল। অ্যানেস্থেসিয়া করার পর রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এরপর তাকে দ্রুত অক্সিজেনসহ সাভার সুপার মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিল উদ্দিন জানান, সাগরের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চার লাখ টাকা নিহতের পরিবারকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, ডাক্তার যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে রোগীর চিকিৎসার সব কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালে কিশোরের মৃত্যু, ৪ লাখ টাকায় রফা!

 যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ 
১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মানিকগঞ্জে পৌর এলাকার জয়নগর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের সময় সাগর খান নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনি ঝামেলা এড়াতে চার লাখ টাকায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে রফাদফা করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. আব্দুল মোমেন দাবি করেছেন, অ্যানেস্থেসিয়া অবলিকেশনের কারণে রোগী কার্ডিয়াক অ্যারেস্টজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসায় সদ্য এসএসসি পাশ করা সাগর খানের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সাগর খান সদর উপজেলার জয়নগর গ্রামের হারুন খানের ছেলে।

সোমবার দুপুরে নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা দোষী ডাক্তারদের শাস্তির দাবিতে দুই ঘণ্টা যোসেফ হাসপাতাল অবরুদ্ধ করে রাখেন।

নিহতের বাবা হারুন খান জানান,  তার ছেলে সাগর খান এবার এসএসসি পাশ করেছে। পেটে ব্যথা হলে স্থানীয় যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো হয়। ডাক্তার জানান, অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে। ডাক্তারের কথামতো শনিবার বিকালে সাগরকে যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার দিকে সাগরকে অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে ডাক্তার জানান, সাগরের অবস্থা ভালো না। এরপর তারা দ্রুত আমাদের না জানিয়ে সাভার সুপার মেডিকেল হাসপাতালে আইসিওতে ভর্তি করেন। রোববার রাতে সাগরের মৃত ঘোষণা করেন সুপার মেডিকেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। অচেতন ইনজেকশন দিয়ে ছেলেকে মারা হয়েছে। তিনি তার ছেলের মৃত্যুর জন্য ডাক্তারকে দায়ী করেন।

নিহতের প্রতিবেশী বিমল রাজবংশী জানান, যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাত হাজার টাকা চুক্তিতে সাগরের অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের চুক্তি হয়। অচেতন ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই সাগরের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। সাগরের মৃত্যু হবে নিশ্চিত জেনেই রোগীর কোনো অভিভাবক ছাড়াই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাভারে নিয়ে ভর্তি করেন।

সাভার সুপার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার সুব্রত কুমার সরকার জানান, অ্যানেস্থেসিয়া অবলিকেশনের কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টজনিত কারণে সাগরকে শনিবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ভর্তি করা হয়। আইসিওতে রাখা হয়েছিল কিন্তু অবস্থা খারাপ থাকায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের সার্জন ও অ্যানেস্থেসিয়া নেই। যখন অপারেশন করা হয় তখন কল দিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসেন। সাগরের অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সার্জন ডা. আরিফুর রহমান ও সদ্য শেষ হওয়া ৬ মাসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার আব্দুল মোমেন। তিনি রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য এমবিবিএস পাশ করেছেন। গত ডিসেম্বর মাসে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অ্যানেস্থেসিয়ার ওপর ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

এ ব্যাপারের মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সার্জন ডা. আরিফুর রহমান জানান, রোগীর মেডিকেল রিপোর্ট কিছু ঠিক ছিল। অ্যানেস্থেসিয়া করার পর রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এরপর তাকে দ্রুত অক্সিজেনসহ সাভার সুপার মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিল উদ্দিন জানান, সাগরের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চার লাখ টাকা নিহতের পরিবারকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, ডাক্তার যোসেফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে রোগীর চিকিৎসার সব কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন