হাসপাতালে ডাক্তার সেজে প্রতারণা করতেন তারা
jugantor
হাসপাতালে ডাক্তার সেজে প্রতারণা করতেন তারা

  রাজশাহী ব্যুরো  

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ২২:৫৬:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

গ্রেফতার

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ দুজন ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে। চিকিৎসক সেজে তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতেন। টেস্ট রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেকে ভয়ভীতি ও মারপিট করে টাকা আদায় করতেন।

অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ দুই ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর রাজপাড়া থানার কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা সালমান শরিফ বাবু (৩৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুরের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৩৭)।

জাহিদ নগরীর লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে শরিফ বাবুর সঙ্গে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন।

রাজপাড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, রামেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েক দিন থেকে ভর্তি আছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম। সোমবার রাত ১০টার দিকে আসামি সালমান শরিফ বাবু নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী সিরাজুল ইসলামসহ তিন রোগীর শরীর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ভেবেই রোগীরা তাদের রক্ত দেন। রক্ত সংগ্রহের পর সালমান শরিফ রোগীর ছেলে সুমন আলীকে ১ ঘণ্টা পর রাজশাহী ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে ডাকেন। সুমন আলী সোমবার রাত ১১টায় রাজশাহী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার বাবার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আনতে গেলে আসামিরা পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন।

এদিকে সুমন এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই বলে জানান। এ সময় সুমন তার বাবার প্যাশেন্ট ফাইল ফেরত চান। তখন আসামি সালমান ও জাহিদসহ অজ্ঞাত তিনজন তাকে রাজশাহী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে একটা ঘরে আটক রেখে মারপিট করেন এবং তার পকেটে থাকা ৪ হাজার ৫০ টাকা কেড়ে নেন।

রাতেই সুমন আলি রাজপাড়া থানায় একটি এজাহার দেন। মঙ্গলবার সকালে মামলা হয়। পুলিশ ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতারে অভিযানে নামে।

ওসি জানান, মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দুই ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। রোগী প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ওসি জানান, এই প্রতারকরা চিকিৎসকদের মতো অ্যাপ্রোন পরে হাসপাতালের ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসক সেজে রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রমাণের অভাবে তাদের ধরা যাচ্ছিল না। গ্রেফতার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে ডাক্তার সেজে প্রতারণা করতেন তারা

 রাজশাহী ব্যুরো 
১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গ্রেফতার
ছবি-যুগান্তর

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ দুজন ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে। চিকিৎসক সেজে তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতেন। টেস্ট রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেকে ভয়ভীতি ও মারপিট করে টাকা আদায় করতেন। 

অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ দুই ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর রাজপাড়া থানার কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা সালমান শরিফ বাবু (৩৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুরের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৩৭)। 

জাহিদ নগরীর লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে শরিফ বাবুর সঙ্গে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। 

রাজপাড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, রামেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েক দিন থেকে ভর্তি আছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম। সোমবার রাত ১০টার দিকে আসামি সালমান শরিফ বাবু নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী সিরাজুল ইসলামসহ তিন রোগীর শরীর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ভেবেই রোগীরা তাদের রক্ত দেন। রক্ত সংগ্রহের পর সালমান শরিফ রোগীর ছেলে সুমন আলীকে ১ ঘণ্টা পর রাজশাহী ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে ডাকেন। সুমন আলী সোমবার রাত ১১টায় রাজশাহী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার বাবার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট আনতে গেলে আসামিরা পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন।

এদিকে সুমন এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই বলে জানান। এ সময় সুমন তার বাবার প্যাশেন্ট ফাইল ফেরত চান। তখন আসামি সালমান ও জাহিদসহ অজ্ঞাত তিনজন তাকে রাজশাহী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে একটা ঘরে আটক রেখে মারপিট করেন এবং তার পকেটে থাকা ৪ হাজার ৫০ টাকা কেড়ে নেন। 

রাতেই সুমন আলি রাজপাড়া থানায় একটি এজাহার দেন। মঙ্গলবার  সকালে মামলা হয়। পুলিশ ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতারে অভিযানে নামে। 

ওসি জানান, মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দুই ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। রোগী প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

ওসি জানান, এই প্রতারকরা চিকিৎসকদের মতো অ্যাপ্রোন পরে হাসপাতালের ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসক সেজে রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রমাণের অভাবে তাদের ধরা যাচ্ছিল না। গ্রেফতার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন