রাজশাহীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত লিয়াকত যুবলীগ নেতা

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৮, ১২:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত লিয়াকত আলী মণ্ডল। ছবি সংগৃহীত

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত লিয়াকত আলী মণ্ডল (৩৮) যুবলীগের নেতা ছিলেন।

রোববার দিবাগত মধ্যরাতে বেলপুকুর থানার ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত লিয়াকত আলী মণ্ডল পুঠিয়ার বানেশ্বর ইউনিয়নের নামাজগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম জাব্বার আলী।

তিনি স্থানীয় বানেশ্বর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

লিয়াকতের স্ত্রী নেহের বানু বলেন, রোববার দুপুরের আগে থেকে লিয়াকত নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাতে তারা খবর পান, লিয়াকত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।

জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি পুঠিয়া পৌর যুবলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম রবি নিহত লিয়াকত রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না বলে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিলেন। 

এতে রবি লেখেন, ‘আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও জানি। সে একজন সৎ চরিত্রের পরিশ্রমী ছেলে। আমার জানামতে, সে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত নহে।’

তবে বন্দুকযুদ্ধে লিয়াকত নিহত হওয়ার পর সোমবার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের চাপে সে সময় প্রত্যয়নপত্রটি দিয়েছিলাম। আর তখন আমি ব্যস্তও ছিলাম। 

রোববার রাতের অভিযানের বিষয়ে র‌্যাব-৫-এর উপঅধিনায়ক মেজর আশরাফুল ইসলাম জানান, ক্ষুদ্র জামিরা গ্রামের একটি আম বাগানে মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে এ তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। 

আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরাও এ সময় পাল্টা গুলি ছুড়লে মাদক ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে লিয়াকতকে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেজর আশরাফ জানান, লিয়াকতের বিরুদ্ধে রাজশাহী এবং নাটোরের বিভিন্ন থানায় ৮ থেকে ১০টি মামলা রয়েছে। র‌্যাবের ওপর হামলা এবং অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের হবে বলেও জানান তিনি।