আ.লীগের সম্মেলনে হামলা
jugantor
আ.লীগের সম্মেলনে হামলা

  বগুড়া ব্যুরো  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ২১:২৭:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শাজাহানপুরের আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে হামলা চালিয়ে তা ভণ্ডুল করে দিয়েছে আরেক পক্ষ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রানীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাঠে আয়োজিত ওই সম্মেলনে অপর পক্ষ হামলা চালায়। এ সময় সম্মেলনস্থলে হট্টগোল ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ বগুড়া জেলাকে রেড জোন ঘোষণা করেছে। ফলে শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়।

অথচ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভেন্যু করা হয় রানীরহাট স্কুল ও কলেজ মাঠ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম জানান, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এরপরও বিকালে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিলে সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হন। করোনা উপেক্ষা করে সম্মেলনের আয়োজন করা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপক্ষ তখন হট্টগোল ও মঞ্চের সামনে থাকা চেয়ার ভাঙচুর করতে থাকে। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তোপের মুখে পড়েন।

এ প্রসঙ্গে আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেলদার রহমান জানান, কয়েক দিন আগে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলরদের তালিকা প্রকাশ করেননি। তারা পকেট কমিটি ঘোষণার চেষ্টা করলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তারা চেয়ার ভাঙচুর করেন। এতে সম্মেলন ভণ্ডুল হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু জানান, আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ পূর্বনির্ধারিত। জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হযরত আলীর নেতৃত্বে সম্মেলন স্থলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। পরে অন্য স্থানে কাউন্সিলররা বসে আবদুল হাই মাস্টারকে সভাপতি ও আবদুল মালেককে সাধারণ সম্পাদক করে আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া একই দিন দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া রহিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে উপজেলা কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবদুল লতিফ তারিন। উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা। ওই সম্মেলনেও সভাপতি মনোনীত করা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে হট্টগোল হয়। তখন একপক্ষ সম্মেলন ত্যাগ করে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টি জামান নিকেতা সাংবাদিকদের জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ বগুড়া জেলাকে রেড জোন ঘোষণা করেছে। ফলে শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়।

ফলে প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, বিশেষ অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, তিনি (সহ-সভাপতি নিকেতা) অনুপস্থিত থাকেন। এরপরও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এটা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। তিনি এ সম্মেলন আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আ.লীগের সম্মেলনে হামলা

 বগুড়া ব্যুরো 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার শাজাহানপুরের আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে হামলা চালিয়ে তা ভণ্ডুল করে দিয়েছে আরেক পক্ষ। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রানীরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাঠে আয়োজিত ওই সম্মেলনে অপর পক্ষ হামলা চালায়। এ সময় সম্মেলনস্থলে হট্টগোল ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ বগুড়া জেলাকে রেড জোন ঘোষণা করেছে। ফলে শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়। 

অথচ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভেন্যু করা হয় রানীরহাট স্কুল ও কলেজ মাঠ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম জানান, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এরপরও বিকালে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিলে সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হন। করোনা উপেক্ষা করে সম্মেলনের আয়োজন করা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপক্ষ তখন হট্টগোল ও মঞ্চের সামনে থাকা চেয়ার ভাঙচুর করতে থাকে। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তোপের মুখে পড়েন।

এ প্রসঙ্গে আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেলদার রহমান জানান, কয়েক দিন আগে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলরদের তালিকা প্রকাশ করেননি। তারা পকেট কমিটি ঘোষণার চেষ্টা করলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তারা চেয়ার ভাঙচুর করেন। এতে সম্মেলন ভণ্ডুল হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু জানান, আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ পূর্বনির্ধারিত। জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে পরামর্শ করে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। 

দ্বিতীয় অধিবেশনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হযরত আলীর নেতৃত্বে সম্মেলন স্থলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। পরে অন্য স্থানে কাউন্সিলররা বসে আবদুল হাই মাস্টারকে সভাপতি ও আবদুল মালেককে সাধারণ সম্পাদক করে আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া একই দিন দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া রহিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে উপজেলা কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবদুল লতিফ তারিন। উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা। ওই সম্মেলনেও সভাপতি মনোনীত করা নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে হট্টগোল হয়। তখন একপক্ষ সম্মেলন ত্যাগ করে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টি জামান নিকেতা সাংবাদিকদের জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ বগুড়া জেলাকে রেড জোন ঘোষণা করেছে। ফলে শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়। 

ফলে প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, বিশেষ অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, তিনি (সহ-সভাপতি নিকেতা) অনুপস্থিত থাকেন। এরপরও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, এটা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। তিনি এ সম্মেলন আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন