পরিযায়ী পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত জবই বিল
jugantor
পরিযায়ী পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত জবই বিল

  নওগাঁ প্রতিনিধি  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ২১:৩১:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

শীত এবং নতুন বছরের শুরুতে সীমান্ত ঘেঁষা নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে শত শত পরিযায়ী পাখি এসেছে। এতে সারা বিল এলাকা এখন পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিন দিন অতিথি পাখির আগমন বেড়েই চলেছে। পাখিপ্রেমীদের আগমনও ঘটছে সারা বিল এলাকা জুড়ে সারাদিন কেউ পাখপাখালি দেখেই কাটাচ্ছে আবার কেউ কেউ অত্যাধুনিক ক্যামেরা দ্বারা ছবি তুলতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এমনই দৃশ্য দেখা গেছে সম্প্রতি বিল এলাকায় গিয়ে। অতীতে কচুরিপানায় সারা বিল ঢেকে থাকায় সুদূর সইবেরিয়াসহ বিভিন্ন জায়গা হতে প্রায় সারা বছর অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন জাতের পাখপাখালিতে ভরপুর থাকত এই বিল। কালক্রমে দেশ বিভিন্ন শাসকের শাসনামলে জাল যার জলা তার নীতি অবলম্বন করায় এক সময় বিলের সব ঐতিহ্য হারিয়ে যায়। বিলের সকল কচুরিপানা বিলুপ্ত ও বিলে ধানের চাষাবাদ শুরু হওয়ায় পাখিরাও হারিয় যায়।

বিগত কয়েক বছর যাবত বিলটি একেবারে পাখিশূন্য অবস্থায় থাকে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল শুরু হওয়ার পর জাল যার জলা তার নীতিকে বাতিল করে বিলটিকে একটি বৃহৎ মৎস্য প্রকল্পের আওতায় এনে মৎস্য চাষ শুরু হয়।

এরপর বিল পাড়ের কিছু শিক্ষিত বেকার যুবক জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা তৈরি করে বিলে পাখি সংরক্ষণের কাজ শুরু করে। এরপর বিবিসিএফের পরামর্শক্রমে ঐতিহ্যবাহী এই জবই বিলে গত ২০১৯ সাল হতে এই বিলে অবস্থানকারী বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জরিপ শুরু করে।

তাদের জরিপ মতে, ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৫৯৩টি, ২০২০ সালে ৭ হাজার ৬৮৩টি এবং ২০২১ সালে ৯ হাজার ৭১২টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি অবস্থান করে এই বিলে।

জরিপ মতে, ২০২১ সালে পরিযায়ী পাখির মধ্যে পাতি-সরালি ৪ হাজর, লালঝুটি-ভুতিহাঁস ২শ, গিরিয়া হাঁস ১ হাজার ২শ, পিয়াং হাঁস ১ হাজার, পাতি-তিলি হাঁস ২শ, টিকি-হাঁস ৫০, কালাপাখ ঠেঙ্গি ২০, গেওয়া-বাটান ৫০, প্রশান্ত সোনাগিরিয়া ২শ, পাতি ভুতি হাঁস ৭৫০, কালা মাথা গাংচিল ৪, পশ্চিমা কানা কাপাসি ২টি, চোখাচখি ১শটি। দেশি প্রজাতির চা-পাখি ৪শ বেগুনি বক ২, কানি বক ৫০, বাজলা বক ৫০, গো-বক ৪২, শামুখখোল ১ হাজার, পানকৌড়ী ২শ, খাটো কান পেঁচা ২, বড় বক ১৫, মাছ মুরাল ২, সাপ পাখি ৩, ধুপনি ১শ, কালা মাথা গাংচিল ৪, পশ্চিমা কানা কাপাসি ২, পাতি মাছরাঙ্গা ৫০, সাদা বুক মাছরাঙ্গা ১০টিসহ প্রায় ২৮ প্রজাতির পাখি জরিপে পাওয়া গেছে বলে জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান জানিয়েছেন।

কয়েক বছর যাবত বৃহৎ এই বিলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিলের নির্দিষ্ট কোনো এক জায়গায় সরকারিভাবে একটি অভয়াশ্রম গড়ে তোলার জন্য জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটি সাপাহার উপজেলা প্রশাসন, বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন বিভাগ ছাড়াও বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংগঠন দাবি করে আসছে।

পরিযায়ী পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত জবই বিল

 নওগাঁ প্রতিনিধি 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শীত এবং নতুন বছরের শুরুতে সীমান্ত ঘেঁষা নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে শত শত পরিযায়ী পাখি এসেছে। এতে সারা বিল এলাকা এখন পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিন দিন অতিথি পাখির আগমন বেড়েই চলেছে। পাখিপ্রেমীদের আগমনও ঘটছে সারা বিল এলাকা জুড়ে সারাদিন কেউ পাখপাখালি দেখেই কাটাচ্ছে আবার কেউ কেউ অত্যাধুনিক ক্যামেরা দ্বারা ছবি তুলতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এমনই দৃশ্য দেখা গেছে সম্প্রতি বিল এলাকায় গিয়ে। অতীতে কচুরিপানায় সারা বিল ঢেকে থাকায় সুদূর সইবেরিয়াসহ বিভিন্ন জায়গা হতে প্রায় সারা বছর অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন জাতের পাখপাখালিতে ভরপুর থাকত এই বিল। কালক্রমে দেশ বিভিন্ন শাসকের শাসনামলে জাল যার জলা তার নীতি অবলম্বন করায় এক সময় বিলের সব ঐতিহ্য হারিয়ে যায়। বিলের সকল কচুরিপানা বিলুপ্ত ও বিলে ধানের চাষাবাদ শুরু হওয়ায় পাখিরাও হারিয় যায়।

বিগত কয়েক বছর যাবত বিলটি একেবারে পাখিশূন্য অবস্থায় থাকে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল শুরু হওয়ার পর জাল যার জলা তার নীতিকে বাতিল করে বিলটিকে একটি বৃহৎ মৎস্য প্রকল্পের আওতায় এনে মৎস্য চাষ শুরু হয়।

এরপর বিল পাড়ের কিছু শিক্ষিত বেকার যুবক জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা তৈরি করে বিলে পাখি সংরক্ষণের কাজ শুরু করে। এরপর বিবিসিএফের পরামর্শক্রমে ঐতিহ্যবাহী এই জবই বিলে গত ২০১৯ সাল হতে এই বিলে অবস্থানকারী বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জরিপ শুরু করে।

তাদের জরিপ মতে, ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৫৯৩টি, ২০২০ সালে ৭ হাজার ৬৮৩টি এবং ২০২১ সালে ৯ হাজার ৭১২টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি অবস্থান করে এই বিলে।

জরিপ মতে, ২০২১ সালে পরিযায়ী পাখির মধ্যে পাতি-সরালি ৪ হাজর, লালঝুটি-ভুতিহাঁস ২শ, গিরিয়া হাঁস ১ হাজার ২শ, পিয়াং হাঁস ১ হাজার, পাতি-তিলি হাঁস ২শ, টিকি-হাঁস ৫০, কালাপাখ ঠেঙ্গি ২০, গেওয়া-বাটান ৫০, প্রশান্ত সোনাগিরিয়া ২শ, পাতি ভুতি হাঁস ৭৫০, কালা মাথা গাংচিল ৪, পশ্চিমা কানা কাপাসি ২টি, চোখাচখি ১শটি। দেশি প্রজাতির চা-পাখি ৪শ বেগুনি বক ২, কানি বক ৫০, বাজলা বক ৫০, গো-বক ৪২, শামুখখোল ১ হাজার, পানকৌড়ী ২শ, খাটো কান পেঁচা ২, বড় বক ১৫, মাছ মুরাল ২, সাপ পাখি ৩, ধুপনি ১শ, কালা মাথা গাংচিল ৪, পশ্চিমা কানা কাপাসি ২, পাতি মাছরাঙ্গা ৫০, সাদা বুক মাছরাঙ্গা ১০টিসহ প্রায় ২৮ প্রজাতির পাখি জরিপে পাওয়া গেছে বলে জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান জানিয়েছেন।

কয়েক বছর যাবত বৃহৎ এই বিলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিলের নির্দিষ্ট কোনো এক জায়গায় সরকারিভাবে একটি অভয়াশ্রম গড়ে তোলার জন্য জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটি সাপাহার উপজেলা প্রশাসন, বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন বিভাগ ছাড়াও বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংগঠন দাবি করে আসছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন