ভাণ্ডারিয়ায় যুদ্ধাপরাধ মামলায় অভিযুক্ত ৫ আসামি গ্রেফতার

  ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ২১ মে ২০১৮, ২০:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

ভাণ্ডারিয়ায় যুদ্ধাপরাধ মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামি গ্রেফতার
ভাণ্ডারিয়ায় যুদ্ধাপরাধ মামলার অভিযুক্ত পাঁচ আসামি গ্রেফতার। ছবি: যুগান্তর

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়েরকৃত যুদ্ধাপরাধ মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের হেতালিয়া ও নদমূলা ইউনিয়নের চরখালী গ্রামে আসামিদের নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে দায়ের করা মামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আসামিদের সকালে ভাণ্ডারিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভাণ্ডারিয়া উপজেলার হেতালিয়া গ্রামের খবির উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ফজলুল হক হাওলাদার (৭৫), আবুল হাসেম হাওলাদারের ছেলে আবদুল মান্নান হাওলাদার (৭৪), মৃত আফসার আলী হাওলাদারের ছেলে আজহার আলী হাওলাদার ওরফে আজু মুন্সি (৮৮), মৃত নজর আলী হাওলাদারের ছেলে আশরাফ আলী হাওলাদার (৬৭) ও উপজেলার চরখালী গ্রামের মৃত মহব্বত হাওলাদারের ছেলে মো. মহারাজ হাওলাদার ওরফে হাত কাটা মহারাজ ( ৬৮)।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বিজয় কৃষ্ণ বালা এ মামলাটি দায়ের করে।

মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এখতিয়ার না হওয়ায় বিচারক মামলাটি ঢাকায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভাণ্ডারিয়ার হেতালিয়া গ্রামের রাজাকার আমীর হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী উপজেলার পশারীবুনীয়া গ্রামের হিন্দু অধ্যূষিত গ্রামে নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এসময় রাজাকাররা আটজন হিন্দু বাঙালী মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে।

পরে আট মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে গ্রামের বনমালি গাছারু বাড়ি নামক স্থানে পুকুরের দক্ষিণ পশ্চিম পাড়ে এ সারিতে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে স্থানীয় রাজাকারবাহিনী। ঘটনাস্থলে সাত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

তারা হলেন- মামলার বাদীর বাবা নিরোদ চন্দ্র বালা, ভাই রণজিৎ কুমার, ভগ্নিপতি সুখময়, কাকা গঙ্গা চরণ মিস্ত্রী, কাকাত ভাই অমূল্য মিস্ত্রী ও সমুল্য মিন্ত্রী।

এসময় ভাগ্যক্রমে পশারীবুনীয়া গ্রামের নিরোদ চন্দ্র বালার ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কৃষক বিজয় কৃষ্ণ বালা গুলিবিদ্ধ হয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।

সেই দিনের হত্যাযজ্ঞের প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার সাক্ষী পশারীবুনীয় গ্রামের কৃষক চিত্ত রঞ্জন গাছারু বলেন, চার রাজাকার মিলে এলাকায় গণহত্যা, লুটপাট ও নারী নির্যাতন চালায়। তারা নিরীহ মানুষকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে পাখির মত গুলি করে হত্যা করে।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ আবদুল হান্নান খানের নেতৃত্বে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পশারীবুনীয়ার সাত মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলাটি চার দফায় তদন্ত করে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। মামলার তদন্তে অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার সত্যতা মেলে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.