গৌরীপুরে ট্রেনের মাথায় মোটরসাইকেল!

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৮, ২২:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ছবি: যুগান্তর

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শ্যামগঞ্জ রেলক্রসিং পারাপারের সময় মোটর সাইকেলের  সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।  এতে ট্রেনের ইঞ্জিনের মাথায় ধুমড়েমুচড়ে যাওয়া মোটর সাইকেলটিকে প্রায় অর্ধকিলোমিটার ছুটে চললো ট্রেনটি।  

মোটরসাইকেল থেকে ছিঁটকে পড়ল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. সিদ্দিকুর রহমান। 

সোমবার উপজেলা সদরের শ্যামগঞ্জ রেলক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা রেলপথ ও সড়ক পথ অবরোধ রাখে। 

রেলওয়ের কর্মকর্তারা সরজমিনে  আসার প্রয়োজনও অনুভব করেননি।
স্থানীয়রা জানায়, দুটি রেললাইনের দু’পাশে অবৈধভাবে লিজ প্রদান ও ক্ষমতাশালীদের অবৈধ দোকানপাট নির্মাণের কারণে ৪টি রেলপথের ট্রেনের আসা-যাওয়া দেখতে পায় না সড়কপথের যাত্রীরা। 

অপরদিকে দুটি রেললাইনে নেই গেইটম্যান। ফলে এসব দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা জানালেন গৌরীপুর মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ। 

প্রতিবন্ধী সোহাগকে ক্ষত-বিক্ষতের দাগ না শুকাতেই আবারও দুর্ঘটনা শিকার হলো মোটরসাইকেল। 
২০১৭ সালে এখানে ৮টি দুর্ঘটনায় ৩জনের প্রাণহানি ও ৪৫জন আহতের ঘটনা ঘটে। এ রেলক্রসিং যেন মরণফাঁদ। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে জারিয়া থেকে ময়মনসিংহগামী বলাকা কমিউটার ট্রেনটি শ্যামগঞ্জ অরক্ষিত রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। 

মোটরসাইকেল আরোহী পূর্বধলা উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের মহিমা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসৈনিক মো. সিদ্দিকুর রহমান (৫০) রেললাইন থেকে প্রায় ৩০ফুট দূরে ছিটকে পড়েন। আর মোটরসাইকেলটি ইঞ্জিনিরে মাথায় নিয়ে শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন পর্যন্ত ছুটে যায়। 

এদিকে গত ২৫মার্চ একই স্থানে ঝগড়ারত দু’গ্রুপের অর্ধশত মানুষ রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।  কারো ভ্রুক্ষেপ নেই, ট্রেন আসছে। বাকপ্রতিবন্ধী সোহাগ (৩৫) এ দৃশ্য দেখেন। 
দু’হাত দিয়ে ঠেলে সবাইকে সরান।  তবে সরতে পারেননি তিনি।  ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেলো শরীর, ভেঙে গেলো দু’হাত।  তার বুদ্ধিমত্তার এ দৃষ্টান্তকে নিয়ে ফেসবুক জুড়ে চলে প্রশংসা। 
হিরো টাইমলাইনে লেখা ছিলো ‘হিরো সোহাগ।’ তার বাড়ি গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের পূর্বমইলাকান্দা গ্রামে। বাকপ্রতিবন্ধী এ যুবকের মাথায়, ঠোটে ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেতলে যায়।  তার বাবা মো. ফজলুল হক জানান, মাথায় ২৬টি সেলাই লেগেছে। দু’হাতে কয়েকটি স্থান ভেঙে গেছে। 

এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, জনবল সংকটের কারণে গেইটম্যান নেই। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।