নেতার ভাগিনা-ভাতিজা বিদ্রোহী প্রার্থী, দ্বিধা-বিভক্ত আ.লীগ নেতাকর্মীরা
jugantor
নেতার ভাগিনা-ভাতিজা বিদ্রোহী প্রার্থী, দ্বিধা-বিভক্ত আ.লীগ নেতাকর্মীরা

  যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ  

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:২৫:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

আগামী ৩১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ৯ জন বিভিন্ন পদ-পদবিধারী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন উপদেষ্টা, একজন সভাপতি, দুইজন সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদধারী নেতা রয়েছেন।

এসব বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে টেনশনে প্রার্থীসহ দলীয় নীতিনির্ধারকরাও। এদিকে দলীয় দুজন হেভিওয়েট নেতার ভাগিনা ও ভাতিজা নির্বাচন করায় দ্বিধা বিভক্তি হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীসহ ভোটারটারও।

এদিকে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম খানের আপন ভাগিনা বিএনপি নেতা আলাল উদ্দিন আলাল ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। যিনি শিবালয় ৩নং শিবালয় মডেল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহরিয়া (হালিম ফকির) অভিযোগ করছেন, জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম খান আমার পক্ষে নির্বাচন না করে ভাগিনার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম খান।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান জানুর আপন ভাতিজা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও আরুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মোনায়েম মোস্তাকিন রহমান খান অনিক চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অবশ্য জেলা আওয়ামী লীগ তাকে বহিষ্কার করা করেছে।

ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আক্তারুজ্জামান খান মাসুম অভিযোগ করছেন- আপন ভাতিজার পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান খান জানু প্রভাব বিস্তার করছেন।

উল্লেখ,উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে বিগত নির্বাচনে একমাত্র আরুয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান খান মাসুম জয়ী হয়েছিলেন।

সাতটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে দলীয় প্রার্থীসহ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

গত ২২ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামের স্বাক্ষরিত একপত্রে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৪৭/১১ ধারা মোতাবেক বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাধারণ সদস্য পদ হতে বহিষ্কার করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন- শিবালয় মডেল সদর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী এসএমএফ শাহারিয়া হালিম ফকির। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী শিবালয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য মোহশিন রাজু।

তেওতা ইউপিতে নৌকার প্রার্থী আবুল বাশার। এই ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল করিম, আওয়ামী লীগের সদস্য ফজলুর রহমান ও মোশারফ হোসেন।

আরুয়া ইউপিতে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান খান মাসুম। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাকিম রহমান খান অনিক।

মহাদেবপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী মহিদুজ্জামান তড়িত।এখানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জালাল সরকার।

উথলী ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী আব্বাস আলী। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ।

শিমুলিয়া ইউপিতে নৌকার প্রার্থী জহির উদ্দিন মানিক। এই ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রহমান মৃধা।

একমাত্র উলাইল ইউপিতে নৌকার কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হলেন আব্দুল মান্নান খান।

শিবালয় উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৪২ জন ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে ৮৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নেতার ভাগিনা-ভাতিজা বিদ্রোহী প্রার্থী, দ্বিধা-বিভক্ত আ.লীগ নেতাকর্মীরা

 যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ 
২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আগামী ৩১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ৯ জন বিভিন্ন পদ-পদবিধারী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন উপদেষ্টা, একজন সভাপতি, দুইজন সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদধারী নেতা রয়েছেন।

এসব বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে টেনশনে প্রার্থীসহ দলীয় নীতিনির্ধারকরাও। এদিকে দলীয় দুজন হেভিওয়েট নেতার ভাগিনা ও ভাতিজা নির্বাচন করায় দ্বিধা বিভক্তি হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীসহ ভোটারটারও।

এদিকে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের  অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম খানের আপন ভাগিনা বিএনপি নেতা আলাল উদ্দিন আলাল ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র  নির্বাচন করছেন। যিনি শিবালয় ৩নং শিবালয় মডেল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহরিয়া (হালিম ফকির) অভিযোগ  করছেন, জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম খান আমার পক্ষে নির্বাচন না করে ভাগিনার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম খান।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান জানুর আপন ভাতিজা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও আরুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মোনায়েম মোস্তাকিন রহমান খান অনিক চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অবশ্য জেলা আওয়ামী লীগ তাকে বহিষ্কার করা করেছে।

ওই  ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আক্তারুজ্জামান খান মাসুম অভিযোগ করছেন- আপন ভাতিজার পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান খান জানু প্রভাব বিস্তার করছেন।

উল্লেখ,উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে বিগত নির্বাচনে একমাত্র আরুয়া ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান খান মাসুম জয়ী হয়েছিলেন।

সাতটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে দলীয় প্রার্থীসহ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

গত ২২ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামের স্বাক্ষরিত একপত্রে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৪৭/১১ ধারা মোতাবেক বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাধারণ সদস্য পদ হতে বহিষ্কার করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন- শিবালয় মডেল সদর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী এসএমএফ শাহারিয়া হালিম ফকির। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী শিবালয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য মোহশিন রাজু।

তেওতা ইউপিতে নৌকার প্রার্থী আবুল বাশার। এই ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল করিম, আওয়ামী লীগের সদস্য ফজলুর রহমান ও মোশারফ হোসেন।

আরুয়া ইউপিতে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান খান মাসুম। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাকিম  রহমান খান অনিক।

মহাদেবপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী মহিদুজ্জামান তড়িত।এখানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জালাল সরকার।

উথলী ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী আব্বাস আলী। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ।

শিমুলিয়া ইউপিতে নৌকার প্রার্থী জহির উদ্দিন মানিক। এই ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রহমান মৃধা।

একমাত্র উলাইল ইউপিতে নৌকার কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হলেন আব্দুল মান্নান খান।

শিবালয় উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৩৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৪২ জন ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে ৮৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন