প্রেমের টানে ঝিনাইদহের তরুণী রংপুরে, সাপোর্ট সেন্টারে আত্মহত্যা
jugantor
প্রেমের টানে ঝিনাইদহের তরুণী রংপুরে, সাপোর্ট সেন্টারে আত্মহত্যা

  রংপুর ব্যুরো  

২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০০:৫৭:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রেমের টানে ঝিনাইদহ থেকে রংপুরে আসে রুহি আকতার রুনা নামের এক তরুণী। আসার দুই দিন পর গত রোববার গভীর রাতে ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানার সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে।

প্রেমে প্রতারিত হয়ে সেখানে রোববার দুপুরে ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানায়। বিষয়টি প্রথমে পুলিশ গোপন রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ফাঁস হয়ে পড়ে।

ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করার ৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতারক প্রেমিক মিঠুন হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কোতোয়ালি মোট্রাপলিটন থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী জানান, তিনি মিঠুনকে রংপুরের গংগাচড়া থানার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের গ্রাম ধামুর থেকে গ্রেফতার করেন। পুলিশের কোনো কর্তব্যে অবহেলা ছিল কিনা ও আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত ওই তরুণীর বাবা সেকেন্দার আলী (৫৫) বাদী হয়ে কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় তরুণীর প্রেমিককে আসামি করা হয়েছে। মামলায় তার নাম আকাশ লেখা হলেও প্রকৃত নাম তার মিঠুন হোসেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। মিঠুনের বাড়ি ধামুর গ্রামে। তার বাবার নাম এবাদত হোসেন। সে নিহত তরুণীকে আকাশ নামে পরিচয় দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল।

কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশীদ আরও জানান, রুহির লাশ সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে কর্তব্য অবহেলার জন্য রংপুর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্বরত পুলিশ এএসআই নাদিরা ইয়াসমিন ও পুলিশ কনস্টেবল মোহসীনা আকতারকে সাময়িক সাসপেন্ড করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

কমিটির প্রধান হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন। অপর সদস্যরা হলেন- উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মেনহাজুল আলম ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মাহবুব-উল-আলম। মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আলতাফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রুহি আকতার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় তার গ্রামের বাড়ির হরিণাকুণ্ড এলাকার ঝাউতিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে। তার সঙ্গে রংপুরের একটি ছেলের মোবাইলে ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার প্রেমিক গত বছরের ৩০ মার্চ রংপুরে ডেকে আনে। পরে তাকে ফেলে মোবাইল বন্ধ রেখে পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় রাতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রেখে পরিবারের কাছে খবর পাঠায়। একদিন পরে তাকে বাবার হাতে তুলে দেয়। ওই ঘটনার পর পুনরায় তার প্রেমিক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে গত রোববার রংপুরে ডেকে আনে। আসার একদিন পর তাকে ফেলে রেখে মোবাইল বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

পরে ওই তরুণী দিশেহারা হয়ে হারাগাছ থানা এলাকার সাহেবগঞ্জ মোড়ে গভীর রাতে একা ঘোরাফেরা করতে থাকে। এলাকার লোকজন তাকে দেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান। পরে হারাগাছ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৩টায় মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা ক্যাম্পাসে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রেখে যায়। সেখানে রোববার দুপুরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় নিজের ওড়না গলায় জড়িয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

বিষয়টি পুলিশ প্রথমে গোপন রাখার চেষ্টা করে। তরুণীর লাশ গোপনে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তার বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। সোমবার সকালে তরুণীর বাবা সেকেন্দার আলী ও ভাই রনি আলী রংপুরে এসে তরুণীর লাশ শনাক্ত করেন।

প্রেমের টানে ঝিনাইদহের তরুণী রংপুরে, সাপোর্ট সেন্টারে আত্মহত্যা

 রংপুর ব্যুরো 
২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৫৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রেমের টানে ঝিনাইদহ থেকে রংপুরে আসে রুহি আকতার রুনা নামের এক তরুণী। আসার দুই দিন পর গত রোববার গভীর রাতে ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানার সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে।

প্রেমে প্রতারিত হয়ে সেখানে রোববার দুপুরে ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানায়। বিষয়টি প্রথমে পুলিশ গোপন রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ফাঁস হয়ে পড়ে। 

ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করার ৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতারক প্রেমিক মিঠুন হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কোতোয়ালি মোট্রাপলিটন থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী জানান, তিনি মিঠুনকে রংপুরের গংগাচড়া থানার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের গ্রাম ধামুর থেকে গ্রেফতার করেন। পুলিশের কোনো কর্তব্যে অবহেলা ছিল কিনা ও আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় নিহত ওই তরুণীর বাবা সেকেন্দার আলী (৫৫) বাদী হয়ে কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় তরুণীর প্রেমিককে আসামি করা হয়েছে। মামলায় তার নাম আকাশ লেখা হলেও প্রকৃত নাম তার মিঠুন হোসেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। মিঠুনের বাড়ি ধামুর গ্রামে। তার বাবার নাম এবাদত হোসেন। সে নিহত তরুণীকে আকাশ নামে পরিচয় দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল।

কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশীদ আরও জানান, রুহির লাশ সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

এদিকে কর্তব্য অবহেলার জন্য রংপুর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্বরত পুলিশ এএসআই নাদিরা ইয়াসমিন ও পুলিশ কনস্টেবল মোহসীনা আকতারকে সাময়িক সাসপেন্ড করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

কমিটির প্রধান হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন। অপর সদস্যরা হলেন- উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মেনহাজুল আলম ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মাহবুব-উল-আলম। মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আলতাফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রুহি আকতার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় তার গ্রামের বাড়ির হরিণাকুণ্ড এলাকার ঝাউতিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে। তার সঙ্গে রংপুরের একটি ছেলের মোবাইলে ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার প্রেমিক গত বছরের ৩০ মার্চ রংপুরে ডেকে আনে। পরে তাকে ফেলে মোবাইল বন্ধ রেখে পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় রাতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রেখে পরিবারের কাছে খবর পাঠায়। একদিন পরে তাকে বাবার হাতে তুলে দেয়। ওই ঘটনার পর পুনরায় তার প্রেমিক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে গত রোববার রংপুরে ডেকে আনে। আসার একদিন পর তাকে ফেলে রেখে মোবাইল বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

পরে ওই তরুণী দিশেহারা হয়ে হারাগাছ থানা এলাকার সাহেবগঞ্জ মোড়ে গভীর রাতে একা ঘোরাফেরা করতে থাকে। এলাকার লোকজন তাকে দেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান। পরে হারাগাছ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৩টায় মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা ক্যাম্পাসে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রেখে যায়। সেখানে রোববার দুপুরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় নিজের ওড়না গলায় জড়িয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। 

বিষয়টি পুলিশ প্রথমে গোপন রাখার চেষ্টা করে। তরুণীর লাশ গোপনে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তার বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। সোমবার সকালে তরুণীর বাবা সেকেন্দার আলী ও ভাই রনি আলী রংপুরে এসে তরুণীর লাশ শনাক্ত করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন