মামুনুল হকের ধর্ষণ মামলায় যুবলীগ সভাপতিসহ ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
jugantor
মামুনুল হকের ধর্ষণ মামলায় যুবলীগ সভাপতিসহ ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

  ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:২৭:৩৪  |  অনলাইন সংস্করণ

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে উপজেলা যুবলীগ সভাপতিসহ ৩ জন সাক্ষী দিয়েছেন। এ সময় মামুনুল হক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে ধর্ষণ মামলায় তৃতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

এর আগে সকাল ৯টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়। এদিন মামুনুল হকের ছোটভাই মাশরুর হোসেন ও ছোট বোন সায়মা, ভাগিনা জাবেদসহ পরিবারের অনেকেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে এসেছিলেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিবুদ্দিন আহমেদ রকিব বলেন, রয়েল রিসোর্টের কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান, আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেন ও সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু সাক্ষী দিয়েছেন। তারা তিনজনই ঘটনার দিনের নানা বিষয় তুলে ধরে সাক্ষী দিয়েছেন। তাদের সাক্ষীতে প্রমাণ হয় মামুনুল হক সেদিন রয়েল রিসোর্টে নারী নিয়ে গিয়েছিলেন।

মামুনুল হকের আইনজীবী একেএম ওমর ফারুক বলেন, প্রথম দফায় সাক্ষী দিয়েছেন বাদী। দ্বিতীয় দফায় সাক্ষী দিয়েছেন ৩ জন। তৃতীয় দফায় সাক্ষী দিয়েছেন ৩ জন। এ নিয়ে এ মামলায় ৭ জন সাক্ষী দিয়েছে। সাক্ষীদের আমরা জেরা করেছি। তাদের কথাবার্তায় অসামঞ্জস্য আছে। সাক্ষীরা কথা বলতে পারেন না। এটা একটা সাজানো নাটক। মামুনুল হককে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। আসামিপক্ষে সহযোগিতায় ছিলেন অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রয়েল রিসোর্টের কর্মকর্তা ও আনসার সদস্য সাক্ষীতে বলেছেন- মামুনুল হক ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল দুপুর ৩টায় একটি সাদা প্রাইভেটকারযোগে একজন নারী নিয়ে রয়েল রিসোর্টে প্রবেশ করেন।

উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নান্নু সাক্ষীতে বলেন, রয়েল রিসোর্টের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে তিনি খবর পেয়ে রিসোর্টে আসেন। এরপর পুলিশ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নান্নুও রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নাম্বার রুমের সামনে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে সাংবাদিকরা ডাকলে মামুনুল হক নিজেই এসে দরজা খুলেন। তখন মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারী টয়লেটের ভিতরে ছিল। ওই সময় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা মামুনুল হককে প্রশ্ন করেছেন আপনার সঙ্গে নারীটি কে। তখন তিনি নারীকে তার স্ত্রী পরিচয় দিয়েছেন।

এরপর মামুনুল হকের কাছে তার স্ত্রীর নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি যে নাম-পরিচয় দিয়েছেন তা নারীর দেওয়া নাম পরিচয়ের সঙ্গে মেলেনি। এ নিয়ে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে মামুনুল হকের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হেফাজত ইসলামের কয়েক হাজার লোক এসে নারীসহ মামুনুল হককে রয়েল রিসোর্ট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এরপর যুবলীগ নেতার বাড়ি, রেস্টুরেন্ট ও দলীয় কার্যালয়ে ভেঙে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-ক সার্কেল নাজমুল আলম জানান, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যসহ তিন স্তরের নিরাপত্তায় মামুনুল হককে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নিয়ে আসা হয়। পরে সাক্ষী গ্রহণ শেষে ফের কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক।

মামুনুল হকের ধর্ষণ মামলায় যুবলীগ সভাপতিসহ ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

 ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে উপজেলা যুবলীগ সভাপতিসহ ৩ জন সাক্ষী দিয়েছেন। এ সময় মামুনুল হক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে ধর্ষণ মামলায় তৃতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

এর আগে সকাল ৯টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়। এদিন মামুনুল হকের ছোটভাই মাশরুর হোসেন ও ছোট বোন সায়মা, ভাগিনা জাবেদসহ পরিবারের অনেকেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে এসেছিলেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিবুদ্দিন আহমেদ রকিব বলেন, রয়েল রিসোর্টের কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান, আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেন ও সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু সাক্ষী দিয়েছেন। তারা তিনজনই ঘটনার দিনের নানা বিষয় তুলে ধরে সাক্ষী দিয়েছেন। তাদের সাক্ষীতে প্রমাণ হয় মামুনুল হক সেদিন রয়েল রিসোর্টে নারী নিয়ে গিয়েছিলেন।

মামুনুল হকের আইনজীবী একেএম ওমর ফারুক বলেন, প্রথম দফায় সাক্ষী দিয়েছেন বাদী। দ্বিতীয় দফায় সাক্ষী দিয়েছেন ৩ জন। তৃতীয় দফায় সাক্ষী দিয়েছেন ৩ জন। এ নিয়ে এ মামলায় ৭ জন সাক্ষী দিয়েছে। সাক্ষীদের আমরা জেরা করেছি। তাদের কথাবার্তায় অসামঞ্জস্য আছে। সাক্ষীরা কথা বলতে পারেন না। এটা একটা সাজানো নাটক। মামুনুল হককে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। আসামিপক্ষে সহযোগিতায় ছিলেন অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রয়েল রিসোর্টের কর্মকর্তা ও আনসার সদস্য সাক্ষীতে বলেছেন- মামুনুল হক ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল দুপুর ৩টায় একটি সাদা প্রাইভেটকারযোগে একজন নারী নিয়ে রয়েল রিসোর্টে প্রবেশ করেন। 

উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নান্নু সাক্ষীতে বলেন, রয়েল রিসোর্টের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে তিনি খবর পেয়ে রিসোর্টে আসেন। এরপর পুলিশ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নান্নুও রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নাম্বার রুমের সামনে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে সাংবাদিকরা ডাকলে মামুনুল হক নিজেই এসে দরজা খুলেন। তখন মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারী টয়লেটের ভিতরে ছিল। ওই সময় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা মামুনুল হককে প্রশ্ন করেছেন আপনার সঙ্গে নারীটি কে। তখন তিনি নারীকে তার স্ত্রী পরিচয় দিয়েছেন।

এরপর মামুনুল হকের কাছে তার স্ত্রীর নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি যে নাম-পরিচয় দিয়েছেন তা নারীর দেওয়া নাম পরিচয়ের সঙ্গে মেলেনি। এ নিয়ে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে মামুনুল হকের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হেফাজত ইসলামের কয়েক হাজার লোক এসে নারীসহ মামুনুল হককে রয়েল রিসোর্ট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এরপর যুবলীগ নেতার বাড়ি, রেস্টুরেন্ট ও দলীয় কার্যালয়ে ভেঙে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-ক সার্কেল নাজমুল আলম জানান, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যসহ তিন স্তরের নিরাপত্তায় মামুনুল হককে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নিয়ে আসা হয়। পরে সাক্ষী গ্রহণ শেষে ফের কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন