নারীর মলদ্বার কাটার ঘটনায় হাসপাতালের ২ পরিচালকের কারাদণ্ড
jugantor
নারীর মলদ্বার কাটার ঘটনায় হাসপাতালের ২ পরিচালকের কারাদণ্ড

  ফরিদপুর ব্যুরো  

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:৩৩:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করতে গিয়ে এক নারীর মলদ্বার কেটে ফেলা এবং নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগে ফরিদপুর পিয়ারলেস হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই পরিচালককে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার রাতে শহরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে অবস্থিত পিয়ারলেস হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমাম রাজি-টুলু।

এ সময় হাসপাতালের অনুমোদন ও ডাক্তার না থাকা এবং পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর থাকায় হাসপাতালের পরিচালক মিঠুন চন্দ্র দাস ও আসাদুজ্জামান আসাদকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় সম্প্রতি, রাজবাড়ী জেলার এক নারী ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করতে।

তখন হাসপাতালের চিকিৎসক উৎপল নাগ জানান, সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করাতে সিরিয়াল অনুযায়ী দেরি হবে। তিনি প্রাইভেট একটি হাসপাতালে বসেন এবং সেখানে দ্রুতই অপারেশন করতে পারবেন- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই নারীকে ভর্তি করান পিয়ারলেস হাসপাতালে। পরে অপারেশন করতে গিয়ে ওই চিকিৎসক নারীর মলদ্বার কেটে ফেলেন।

ওই নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ভর্তি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুল চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন বরাবরে অভিযোগ করেন ওই নারীর স্বামী আ. মান্নান। অভিযোগে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালের চিকিৎসক উৎপল নাগের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তার প্রতিকার চান।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, ২০১৯ সালের পর থেকে ফরিদপুর পিয়ারলেস হাসপাতালের লাইসেন্স অনুমোদন করা হয়নি। এছাড়া ১০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও দেখা যায় ২০ শয্যা। ডাক্তার তিনজন থাকার কথা থাকলেও একজনকেও পাওয়া যায়নি। এছাড়া ল্যাবের পরিবেশ ছিল নোংরা। যে সব নার্স ছিলেন কেউই ডিপ্লোমাধারী নন। নিয়মতান্ত্রিক চালানো হচ্ছিল না হাসপাতালটি। এ কারণে হাসপাতালের পরিচালক মিঠুন চন্দ্র দাস ও আসাদুজ্জামান আসাদকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১ মাসের সময় দেওয়া হয়েছে শর্ত পূরণের। এর ব্যতিক্রম হলে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যে চিকিৎসক প্রাইভেট হাসপাতালে অপারেশন করেছেন তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। তার বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। চিকিৎসক দোষী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নারীর মলদ্বার কাটার ঘটনায় হাসপাতালের ২ পরিচালকের কারাদণ্ড

 ফরিদপুর ব্যুরো 
২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করতে গিয়ে এক নারীর মলদ্বার কেটে ফেলা এবং নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগে ফরিদপুর পিয়ারলেস হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই পরিচালককে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার রাতে শহরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে অবস্থিত পিয়ারলেস হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমাম রাজি-টুলু।

এ সময় হাসপাতালের অনুমোদন ও ডাক্তার না থাকা এবং পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর থাকায় হাসপাতালের পরিচালক মিঠুন চন্দ্র দাস ও আসাদুজ্জামান আসাদকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় সম্প্রতি, রাজবাড়ী জেলার এক নারী ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করতে।

তখন হাসপাতালের চিকিৎসক উৎপল নাগ জানান, সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করাতে সিরিয়াল অনুযায়ী দেরি হবে। তিনি প্রাইভেট একটি হাসপাতালে বসেন এবং সেখানে দ্রুতই অপারেশন করতে পারবেন- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই নারীকে ভর্তি করান পিয়ারলেস হাসপাতালে। পরে অপারেশন করতে গিয়ে ওই চিকিৎসক নারীর মলদ্বার কেটে ফেলেন।

ওই নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ভর্তি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুল চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন বরাবরে অভিযোগ করেন ওই নারীর স্বামী আ. মান্নান। অভিযোগে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালের চিকিৎসক উৎপল নাগের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তার প্রতিকার চান।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, ২০১৯ সালের পর থেকে ফরিদপুর পিয়ারলেস হাসপাতালের লাইসেন্স অনুমোদন করা হয়নি। এছাড়া ১০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও দেখা যায় ২০ শয্যা। ডাক্তার তিনজন থাকার কথা থাকলেও একজনকেও পাওয়া যায়নি। এছাড়া ল্যাবের পরিবেশ ছিল নোংরা। যে সব নার্স ছিলেন কেউই ডিপ্লোমাধারী নন। নিয়মতান্ত্রিক চালানো হচ্ছিল না হাসপাতালটি। এ কারণে হাসপাতালের পরিচালক মিঠুন চন্দ্র দাস ও আসাদুজ্জামান আসাদকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১ মাসের সময় দেওয়া হয়েছে শর্ত পূরণের। এর ব্যতিক্রম হলে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যে চিকিৎসক প্রাইভেট হাসপাতালে অপারেশন করেছেন তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। তার বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। চিকিৎসক দোষী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন