পাঁচ ঘণ্টায় পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
jugantor
পাঁচ ঘণ্টায় পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

  বন্দর ও সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৮ জানুয়ারি ২০২২, ২৩:১৬:৩৪  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রপ্তানিমুখী একটি তৈরি পোশাক কারখানা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পাঁচ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের মদনপুরে অবস্থিত জাহিন নিটওয়্যারস লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৯ টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ডেমরা, সোনারগাঁও ও বন্দর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে শুক্রবার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার সময় ৫ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ২০ জন নিরাপত্তা রক্ষীসহ প্রায় দেড়শ শ্রমিক গার্মেন্টসের বিভিন্ন ইউনিটে কাজ করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা নিরাপদে বের হয়ে যান।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের মদনপুর অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। এতে মদনপুর থেকে মেঘনা ব্রিজ এবং শিমরাইল পর্যন্ত দুই প্রান্তে প্রায় ২৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ৮টার পর পুলিশের সহায়তায় কিছু যানবাহন চলাচল শুরু করে।

জাহিন নিটওয়্যারের মালিক এম জামাল উদ্দিন বলেন, শুক্রবার বিকালে প্রতিষ্ঠানের নিচ তলায় থাকা ডাইং সেকশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে কারখানার ৬ নং ইউনিটে কর্মরত টাইলস মিস্ত্রি তাকে মোবাইল ফোনে জানান। খবর পেয়ে দ্রুত প্রতিষ্ঠানে চলে আসেন তিনি। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে সেটি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।

জামালউদ্দিন জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে রপ্তানির জন্য তৈরি করে রাখা প্রচুর পোশাক মজুদ ছিল। কেবল একটি ফ্লোরেই সাড়ে ৭ লাখ পিচ তৈরি পোশাক মজুদ ছিল। এগুলো বিদেশে রপ্তানির জন্য রেডি ছিল। সেগুলো আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে থাকা যন্ত্রাংশও পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, কারখানায় মোট ৬টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ইউনিট পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিটের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ৩টি ভবনে কারখানা রয়েছে। এর দু’টি তিন তলা এবং একটি দোতলা। আগুন প্রতিটি ভবনেই ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভবন তিনটিতে থাকা যন্ত্রাংশের পাশাপাশি তৈরি পোশাক পুড়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন বলে নিরাপত্তা রক্ষীরা জানান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, আগুনের সূত্রপাত তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। ক্ষতির পরিমাণ ও তদন্তেই উঠে আসবে।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ পরিচালক দিনু মনি শর্মা সাংবাদিকদের জানান, বিকাল ৪টার দিকে জাহিন নিট ওয়্যারস লিমিটেডে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট প্রায় ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৯টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ৩ তলা কারখানার নিচতলায় ছিল ডাইং। এখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, শুক্রবার বিকালে মদনপুরের জাহিন নিটওয়্যারসে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল কিছু সময় বন্ধ ছিল। তবে পুলিশ সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল সচল রাখার কাজ করেছে।

পাঁচ ঘণ্টায় পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

 বন্দর ও সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১১:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রপ্তানিমুখী একটি তৈরি পোশাক কারখানা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পাঁচ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের মদনপুরে অবস্থিত জাহিন নিটওয়্যারস লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৯ টায়  আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ডেমরা, সোনারগাঁও ও বন্দর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে শুক্রবার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার সময় ৫ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ২০ জন নিরাপত্তা রক্ষীসহ প্রায় দেড়শ শ্রমিক গার্মেন্টসের বিভিন্ন ইউনিটে কাজ করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা নিরাপদে বের হয়ে যান। 

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের মদনপুর অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। এতে মদনপুর থেকে মেঘনা ব্রিজ এবং শিমরাইল পর্যন্ত দুই প্রান্তে প্রায় ২৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ৮টার পর পুলিশের সহায়তায় কিছু যানবাহন চলাচল শুরু করে।

জাহিন নিটওয়্যারের মালিক এম জামাল উদ্দিন বলেন, শুক্রবার বিকালে প্রতিষ্ঠানের নিচ তলায় থাকা ডাইং সেকশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে কারখানার ৬ নং ইউনিটে কর্মরত টাইলস মিস্ত্রি তাকে মোবাইল ফোনে জানান। খবর পেয়ে  দ্রুত প্রতিষ্ঠানে চলে আসেন তিনি। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে সেটি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।  

জামালউদ্দিন জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে রপ্তানির জন্য তৈরি করে রাখা প্রচুর পোশাক মজুদ ছিল। কেবল একটি ফ্লোরেই সাড়ে ৭ লাখ পিচ তৈরি পোশাক মজুদ ছিল। এগুলো বিদেশে রপ্তানির জন্য রেডি ছিল। সেগুলো আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে থাকা যন্ত্রাংশও পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, কারখানায় মোট ৬টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ইউনিট পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিটের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ৩টি ভবনে কারখানা রয়েছে। এর দু’টি তিন তলা এবং একটি দোতলা। আগুন প্রতিটি ভবনেই ছড়িয়ে পড়ে। ফলে  ভবন তিনটিতে থাকা যন্ত্রাংশের পাশাপাশি তৈরি  পোশাক পুড়ে গেছে।  প্রতিষ্ঠানটিতে ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন বলে নিরাপত্তা রক্ষীরা জানান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, আগুনের সূত্রপাত তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। ক্ষতির পরিমাণ ও তদন্তেই উঠে আসবে।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ পরিচালক দিনু মনি শর্মা সাংবাদিকদের জানান, বিকাল ৪টার দিকে জাহিন নিট ওয়্যারস লিমিটেডে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট প্রায় ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৯টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ৩ তলা কারখানার নিচতলায় ছিল ডাইং। এখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। 

বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, শুক্রবার বিকালে মদনপুরের জাহিন নিটওয়্যারসে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল কিছু সময় বন্ধ ছিল। তবে পুলিশ সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল সচল রাখার কাজ করেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন