বাসচাপায় একে একে দুমড়ে-মুচড়ে গেল ৪ অটোরিকশা
jugantor
বাসচাপায় একে একে দুমড়ে-মুচড়ে গেল ৪ অটোরিকশা

  বরিশাল ব্যুরো  

২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৩০:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা

বাসে উঠে কিশোর হেলপার স্টার্ট দেওয়ার পর বাসটি উল্টা পাল্টা চলতে থাকে। একে একে চারটি অটোরিকশা দুমরে-মুচরে গিয়েছে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

এদিকে এ ঘটনায় মো. জীবন নামে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। সে বাসের হেলপার। এর পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে সাকুরা পরিবহণের বাসটিও।

আটক জীবন বরিশাল এক্সপ্রেস নামক একটি পরিবহণের হেলপার ও খুলনার খালিসপুর এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক রতন, শাহরিয়ার ও বেল্লাল।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই বাসের যাত্রী শামিম উল ইসলাম বলেন, রাত সোয়া ৯টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিলো। বাসটিতে এক কিশোর উঠে স্টার্ট দিলে হঠাৎ করে একটি ঝাকুনি লাগে। এরপরই বাসটি উল্টা পাল্টা চলতে থাকে। এতে ধাক্কা লেগে চারটি অটোরিকশা দুমরে মুচরে যায়। আহত হয় কয়েকজন। এরই মধ্যে বাইরে থেকে এক লোক লাফ দিয়ে বাসে উঠে ব্রেক করে থামায়।

রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আমরা যাত্রীরা সবাই দাঁড়ানো। আমরা পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি। সাকুরা পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বলা হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।

নওরীন আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, আমি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকা যাবো। গাড়ি হঠাৎ করে চালু হয়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। সিট থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়ার মত অবস্থা ছিলো। বাসচালক থাকতে কেন হেলপার গাড়ি চালাবে। গাড়িটি ঘুরপাক খাচ্ছিল ভয়ংকরভাবে। বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারতো। এখন আমরা প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি।
বরিশাল নগরীর ২৮নং ওয়ার্ডের রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুকছেদুল আকন বলেন, রাত সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনায় আমাদের চারটি গাড়িকে চাপা দেওয়া হয়েছে। একজন চালককে আহত অবস্থায় পরিবহণের নিচ থেকে বের করা হয়েছে। হয়তো তার পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা গাড়ি আটকে দিয়েছি। বাস শ্রমিক নেতাদের সাঙ্গে কথা বলেছি, তারা গাড়ি আটকে দেয়াকে সমর্থন করেছে।

সাকুরা পরিবহণ বরিশাল কাউন্টারের ম্যানেজার আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের কোনো স্টাফ গাড়ি চালায়নি। গাড়ির হেলপার বক্সে মালামাল উঠাচ্ছিলো এবং চালক সামনে চা পান করছিলেন। এ সময় বরিশাল এক্সপ্রেস নামের একটি পরিবহণের হেলপার গাড়িতে ওঠে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা একটি এসি বাসের ব্যবস্থা করেছি, যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং সাকুরা পরিবহণের বাসটিকে পুলিশ আটক করেছে।

বাসচাপায় একে একে দুমড়ে-মুচড়ে গেল ৪ অটোরিকশা

 বরিশাল ব্যুরো 
২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৩০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সড়ক দুর্ঘটনা
ফাইল ছবি

বাসে উঠে কিশোর হেলপার স্টার্ট দেওয়ার পর বাসটি উল্টা পাল্টা চলতে থাকে। একে একে চারটি অটোরিকশা দুমরে-মুচরে গিয়েছে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

এদিকে এ ঘটনায় মো. জীবন নামে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। সে বাসের হেলপার। এর পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে সাকুরা পরিবহণের বাসটিও।

আটক জীবন বরিশাল এক্সপ্রেস নামক একটি পরিবহণের হেলপার ও খুলনার খালিসপুর এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক রতন, শাহরিয়ার ও বেল্লাল।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই বাসের যাত্রী শামিম উল ইসলাম বলেন, রাত সোয়া ৯টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিলো। বাসটিতে এক কিশোর উঠে স্টার্ট দিলে হঠাৎ করে একটি ঝাকুনি লাগে। এরপরই বাসটি উল্টা পাল্টা চলতে থাকে। এতে ধাক্কা লেগে চারটি অটোরিকশা দুমরে মুচরে যায়। আহত হয় কয়েকজন। এরই মধ্যে বাইরে থেকে এক লোক লাফ দিয়ে বাসে উঠে ব্রেক করে থামায়।

রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আমরা যাত্রীরা সবাই দাঁড়ানো। আমরা পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি। সাকুরা পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বলা হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।

নওরীন আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, আমি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকা যাবো। গাড়ি হঠাৎ করে চালু হয়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। সিট থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়ার মত অবস্থা ছিলো। বাসচালক থাকতে কেন হেলপার গাড়ি চালাবে। গাড়িটি ঘুরপাক খাচ্ছিল ভয়ংকরভাবে। বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারতো। এখন আমরা প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি।
বরিশাল নগরীর ২৮নং ওয়ার্ডের রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুকছেদুল আকন বলেন, রাত সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনায় আমাদের চারটি গাড়িকে চাপা দেওয়া হয়েছে। একজন চালককে আহত অবস্থায় পরিবহণের নিচ থেকে বের করা হয়েছে। হয়তো তার পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা গাড়ি আটকে দিয়েছি। বাস শ্রমিক নেতাদের সাঙ্গে কথা বলেছি, তারা গাড়ি আটকে দেয়াকে সমর্থন করেছে।

সাকুরা পরিবহণ বরিশাল কাউন্টারের ম্যানেজার আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের কোনো স্টাফ গাড়ি চালায়নি। গাড়ির হেলপার বক্সে মালামাল উঠাচ্ছিলো এবং চালক সামনে চা পান করছিলেন। এ সময় বরিশাল এক্সপ্রেস নামের একটি পরিবহণের হেলপার গাড়িতে ওঠে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা একটি এসি বাসের ব্যবস্থা করেছি, যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং সাকুরা পরিবহণের বাসটিকে পুলিশ আটক করেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন