বছরের ব্যবধানে খাজনা দ্বিগুণ, ইজারাদার-ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব
jugantor
বছরের ব্যবধানে খাজনা দ্বিগুণ, ইজারাদার-ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব

  বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

১৪ মে ২০২২, ১২:২২:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার বেতাগী পৌরসভার স্থানীয় হাটের খাজনা বছর না যেতেই দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। এতে সাপ্তাহিক হাটের দিনে ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে খাজনা টাকা উত্তোলন নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষ স্থানীয় পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে দায়ী করেন।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নির্দেশেই ইজারাদার অতিরিক্ত খাজনার নামে চাঁদাবাজি করে আসছেন। ইজারাদারের লোক খাজনা তুলতে আসলে পৌরসভার খাসকাচারি মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত বছরের চেয়ে এবারের খাজনা দিগুণ হওয়ায় এই দ্বন্দ্ব। গত বছর পৌর শহরের স্থানীয় বাজারের ইজারা ডাকা হয় ৯ লাখ টাকা। এ বছর তা বাড়িয়ে ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৫৪২ টাকা করা হয়।

তবে ইজারাদারদের দাবি প্রতিযোগিতা মাধ্যমে ইজারা নেয়ার কারণে এ বছরে ইজারার মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে যার ফলে খাজনাও বাড়তি নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাজারের খাজনা তুলতে গেলে অতিরিক্ত খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানায় বাজারের ব্যবসায়ীরা। শুরু হয় দুই গ্রুপের বাকবিতণ্ডা, তর্কের মধ্যে দুপক্ষই দায়ী করেন স্থানীয় পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম গোলাম কবিরকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর একটি লিচুর ঝুড়ির খাজনা ছিল ১০ টাকা, এবার তা নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা করে। না দিতে পারলে ব্যবসা গুছিয়ে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে ইজারাদারদের অভিযোগ পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের উপর এ রকম জুলুমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেন স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর আ. মন্নান হাওলাদার।

তিনি আরও জানিয়ে দেন যতক্ষণে মেয়র পৌর কাঁচাবাজারের জায়গা না দিবে ততক্ষণে খাজনা দেওয়া হবে না।

ইজারাদার পনু বলেন, পৌরসভা থেকে নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী খাজনা নেওয়া হয়। এক টাকাও বেশি না। গতবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ টাকা বেশি দিয়ে ইজারা নিতে হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করলে আমাদের কিছু করার নেই।

সাবেক সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী ও ইজারাদারের যে দ্বন্দ্ব তা মেয়র অল্প সময়ের মধ্যেই সমাধান করে দিতে পারে। কিন্তু কেন সে গতবারের তুলনায় এত টাকা বেশি ডাক দিলেন এবং কেন সমাধান দিচ্ছেন না তা আমার জানা নেই।

এই বিষয়ে পৌরসভার মেয়র এবিএম গোলাম কবির বলেন, প্রতি বছর বাজারের ইজারার মূল্য ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়। সরকারি বিধিমতে খাজনা ব্যবসায়ীদের পরিশোধ করতেই হবে। তা না হলে রাজস্ব হারাবে সরকার। তবে স্থানীয় দুই কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ থাকায় আজকে এই হট্টগোল তৈরি হয়েছে। পরে ব্যবসায়ী- ইজারাদার ও দুই কাউন্সিলকে ডেকে এ সমস্যা সমাধান করে দেওয়া হয়েছে।

বছরের ব্যবধানে খাজনা দ্বিগুণ, ইজারাদার-ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব

 বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
১৪ মে ২০২২, ১২:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার বেতাগী পৌরসভার স্থানীয় হাটের খাজনা বছর না যেতেই দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। এতে সাপ্তাহিক হাটের দিনে ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে খাজনা টাকা উত্তোলন নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। 

এ ঘটনায় উভয় পক্ষ স্থানীয় পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে দায়ী করেন। 

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নির্দেশেই ইজারাদার অতিরিক্ত খাজনার নামে চাঁদাবাজি করে আসছেন। ইজারাদারের লোক খাজনা তুলতে আসলে পৌরসভার খাসকাচারি মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত বছরের চেয়ে এবারের খাজনা দিগুণ হওয়ায় এই দ্বন্দ্ব। গত বছর পৌর শহরের স্থানীয় বাজারের ইজারা ডাকা হয় ৯ লাখ টাকা। এ বছর তা বাড়িয়ে ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৫৪২ টাকা করা হয়। 

তবে ইজারাদারদের দাবি প্রতিযোগিতা মাধ্যমে ইজারা নেয়ার কারণে এ বছরে ইজারার মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে যার ফলে খাজনাও বাড়তি নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাজারের খাজনা তুলতে গেলে অতিরিক্ত খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানায় বাজারের ব্যবসায়ীরা। শুরু হয় দুই গ্রুপের বাকবিতণ্ডা, তর্কের মধ্যে দুপক্ষই দায়ী করেন স্থানীয় পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম গোলাম কবিরকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর একটি লিচুর ঝুড়ির খাজনা ছিল ১০ টাকা, এবার তা নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা করে। না দিতে পারলে ব্যবসা গুছিয়ে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। 

অপরদিকে ইজারাদারদের অভিযোগ পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের উপর এ রকম জুলুমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেন স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর আ. মন্নান হাওলাদার। 

তিনি আরও জানিয়ে দেন যতক্ষণে মেয়র পৌর কাঁচাবাজারের জায়গা না দিবে ততক্ষণে খাজনা দেওয়া হবে না।

ইজারাদার পনু বলেন, পৌরসভা থেকে নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী খাজনা নেওয়া হয়। এক টাকাও বেশি না। গতবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ টাকা বেশি দিয়ে ইজারা নিতে হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করলে আমাদের কিছু করার নেই।

সাবেক সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী ও ইজারাদারের যে দ্বন্দ্ব তা মেয়র অল্প সময়ের মধ্যেই সমাধান করে দিতে পারে। কিন্তু কেন সে গতবারের তুলনায় এত টাকা বেশি ডাক দিলেন এবং কেন সমাধান দিচ্ছেন না তা আমার জানা নেই।

এই বিষয়ে পৌরসভার মেয়র এবিএম গোলাম কবির বলেন, প্রতি বছর বাজারের ইজারার মূল্য ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়। সরকারি বিধিমতে খাজনা ব্যবসায়ীদের পরিশোধ করতেই হবে। তা না হলে রাজস্ব হারাবে সরকার। তবে স্থানীয় দুই কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ থাকায় আজকে এই হট্টগোল তৈরি হয়েছে। পরে ব্যবসায়ী- ইজারাদার ও দুই কাউন্সিলকে ডেকে এ সমস্যা সমাধান করে দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন