সুনামগঞ্জ শহরের বাসাবাড়িতে ঢুকছে পানি
jugantor
সুনামগঞ্জ শহরের বাসাবাড়িতে ঢুকছে পানি

  সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি  

২০ মে ২০২২, ০০:৪৮:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার দিন থেকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও রাত থেকে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নদ-নদীতে আবারো পানি বাড়তে শুরু করেছে।

বুধবার সন্ধ্যায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পৌর এলাকার হাছননগর, নতুনপাড়া, হাজীপাড়া, কালিপুর, পশ্চিম তেঘরিয়া, মল্লিকপুর, মুহাম্মদপুর, পাঠানবাড়ি- এসব এলাকার বাসা ও সড়কে পানি বাড়ছে।

বন্যার পানিতে জেলার প্রায় তিনশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ আছে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছে না। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার্ত ব্যক্তিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করছে। সুনামগঞ্জে চলমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে আছে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষজন। ছাতক পৌর শহরসহ উপজেলার প্রায় সব গ্রামই এখন পানিতে নিমজ্জিত।

শিল্পনগরী ছাতক থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীবাহী যানবাহন ও পণ্যবাহী বাহন গত তিন দিন ধরে চলাচল করতে পারছে না। এই সড়কের প্রায় কয়েক কিলোমিটার অংশে পানি উঠে যাওয়ায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল।

একইভাবে জেলার তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ারখলা, আনোয়ারপুর, বালিজুরীসহ কয়েকটি স্থান প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ আছে। মানুষ জরুরি প্রয়োজনে নৌকায় প্লাবিত এলাকা পার হয়ে পরে গাড়িতে চলাচল করছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যাকবলিত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় এক হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দোয়ারাবাজার ও ছাতকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা বন্যার্ত মানুষের পাশে আছি। যেসব উপজেলায় মানুষ পানিবন্দি আছেন তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার ছাতক উপজেলার সদরে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫৩ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। সুনামগঞ্জে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময় সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে ২১৯ মিলিমিটার। যে কারণে পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে।

সুনামগঞ্জ শহরের বাসাবাড়িতে ঢুকছে পানি

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 
২০ মে ২০২২, ১২:৪৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার দিন থেকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও রাত থেকে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নদ-নদীতে আবারো পানি বাড়তে শুরু করেছে।

বুধবার সন্ধ্যায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পৌর এলাকার হাছননগর, নতুনপাড়া, হাজীপাড়া, কালিপুর, পশ্চিম তেঘরিয়া, মল্লিকপুর, মুহাম্মদপুর, পাঠানবাড়ি- এসব এলাকার বাসা ও সড়কে পানি বাড়ছে।

বন্যার পানিতে জেলার প্রায় তিনশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ আছে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসছে না। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার্ত ব্যক্তিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করছে। সুনামগঞ্জে চলমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে আছে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষজন। ছাতক পৌর শহরসহ উপজেলার প্রায় সব গ্রামই এখন পানিতে নিমজ্জিত।

শিল্পনগরী ছাতক থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীবাহী যানবাহন ও পণ্যবাহী বাহন গত তিন দিন ধরে চলাচল করতে পারছে না। এই সড়কের প্রায় কয়েক কিলোমিটার অংশে পানি উঠে যাওয়ায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল।

একইভাবে জেলার তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ারখলা, আনোয়ারপুর, বালিজুরীসহ কয়েকটি স্থান প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ আছে। মানুষ জরুরি প্রয়োজনে নৌকায় প্লাবিত এলাকা পার হয়ে পরে গাড়িতে চলাচল করছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যাকবলিত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় এক হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দোয়ারাবাজার ও ছাতকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা বন্যার্ত মানুষের পাশে আছি। যেসব উপজেলায় মানুষ পানিবন্দি আছেন তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার ছাতক উপজেলার সদরে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫৩ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। সুনামগঞ্জে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময় সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে ২১৯ মিলিমিটার। যে কারণে পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর