নিহত চৈতির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবর্তনের অভিযোগ
jugantor
নিহত চৈতির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবর্তনের অভিযোগ

  চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি  

২২ মে ২০২২, ১৪:০৭:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

ভোলার চরফ্যাশনে বহুল আলোচিত শাশ্বতী রায় চৈতির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের অভিযোগ করেছে তার পরিবার। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে ময়নাতদন্তে ব্যাপক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে।

চৈতির বাবা চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চরফ্যাশন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সমীর চন্দ্র মজুমদারের ছেলে মানস মজুমদারের সঙ্গে বরিশাল বিএম কলেজের গণিত বিভাগের ছাত্রী চৈতি রায়ের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে পারিবারিক নির্যাতনের মধ্যে ছিল চৈতি। যার ধারাবাহিকতায় চেতনা নাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। শুরু থেকে চৈতির পরিবারের এ অভিযোগ পাত্তা দিচ্ছে না পুলিশ।

চৈতির বাবা সুভাষ রায় আরও অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুরতহাল করেছে। সুরতহাল করার সময় চৈতির স্বজনদের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। চৈতির বাবা হত্যা মামলা করার জন্য এজাহার দিলেও পুলিশ তা আমলে না নিয়ে পুলিশের সাজানো আত্মহত্যার প্ররোচনার এজাহারে স্বাক্ষর নিয়ে তা মামলায় রূপ দেওয়া হয়েছে।

এসব ধারাবাহিক অন্যায় কর্মের পর পুলিশ চৈতির ময়নাতদন্তে ভিসেরা করানোর বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। মূলত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে ময়নাতদন্তে ভিসেরার রিপোর্টকে এড়ানো হয়েছে। হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য লাশের পুনঃময়নাতদন্তসহ দাবি তুলেছে চৈতির পরিবার।

পাশাপাশি চৈতির পরিবার স্পষ্ট হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তদন্তের ভার পিআইবি কিংবা সিআইডিতে স্থানান্তরের দাবি তুলেছেন। গত ৫ মার্চ রাতে চরফ্যাশন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের শ্বশুরালয়ে শয়নকক্ষে সিলিংফ্যানে ঝুলন্ত চৈতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চরফ্যাশন থানার এসআই ও চৈতি রায় আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে কোনো ত্রুটি থাকলে তার দায় ময়নাতদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নিতে হবে।

তবে পুলিশের দিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে ভোলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বলেছেন, ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিষক্রিয়া কিংবা চেতনানাশক প্রয়োগের কোনো ইঙ্গিত পুলিশ রিপোর্টে ছিল না। পুলিশ রিপোর্টের ত্রুটির কারণেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সমস্যা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ রিপোর্টে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পরিবার কিংবা পাড়াপ্রতিবেশীর অভিযোগগুলো আমলে নিতে হয় এবং সে অনুযায়ী ইঙ্গিতসহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে হয়। কিন্ত চরফ্যাশন থানা থেকে পাঠানো পুলিশ রিপোর্টে সে রকম কোনো ইঙ্গিত ছিল না। বরং থানা থেকে পাঠানো ওই রিপোর্টে আত্মহত্যার ধরন নির্দিষ্ট করা ছিল।

চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মনির হোসেন মিয়া জানান, তাদের আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। নিহতের লাশ উদ্ধারের প্রথমে পরিবার এমন কোনো অভিযোগ তুলেনি। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নেওয়া মামলাটি তদন্ত চলছে।

নিহত চৈতির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবর্তনের অভিযোগ

 চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি 
২২ মে ২০২২, ০২:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভোলার চরফ্যাশনে বহুল আলোচিত শাশ্বতী রায় চৈতির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তনের অভিযোগ করেছে তার পরিবার। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে ময়নাতদন্তে ব্যাপক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। 

চৈতির বাবা চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চরফ্যাশন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সমীর চন্দ্র মজুমদারের ছেলে মানস মজুমদারের সঙ্গে বরিশাল বিএম কলেজের গণিত বিভাগের ছাত্রী চৈতি রায়ের বিয়ে হয়। 

বিয়ের পর থেকে পারিবারিক নির্যাতনের মধ্যে ছিল চৈতি। যার ধারাবাহিকতায় চেতনা নাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। শুরু থেকে চৈতির পরিবারের এ অভিযোগ পাত্তা দিচ্ছে না পুলিশ। 

চৈতির বাবা সুভাষ রায় আরও অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুরতহাল করেছে। সুরতহাল করার সময় চৈতির স্বজনদের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। চৈতির বাবা হত্যা মামলা করার জন্য এজাহার দিলেও পুলিশ তা আমলে না নিয়ে পুলিশের সাজানো আত্মহত্যার প্ররোচনার এজাহারে স্বাক্ষর নিয়ে তা মামলায় রূপ দেওয়া হয়েছে। 

এসব ধারাবাহিক অন্যায় কর্মের পর পুলিশ চৈতির ময়নাতদন্তে ভিসেরা করানোর বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। মূলত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে ময়নাতদন্তে ভিসেরার রিপোর্টকে এড়ানো হয়েছে। হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য লাশের পুনঃময়নাতদন্তসহ দাবি তুলেছে চৈতির পরিবার। 

পাশাপাশি চৈতির পরিবার স্পষ্ট হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তদন্তের ভার পিআইবি কিংবা সিআইডিতে স্থানান্তরের দাবি তুলেছেন। গত ৫ মার্চ রাতে চরফ্যাশন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের শ্বশুরালয়ে শয়নকক্ষে সিলিংফ্যানে ঝুলন্ত চৈতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চরফ্যাশন থানার এসআই ও চৈতি রায় আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে কোনো ত্রুটি থাকলে তার দায় ময়নাতদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নিতে হবে। 

তবে পুলিশের দিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে ভোলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বলেছেন, ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিষক্রিয়া কিংবা চেতনানাশক প্রয়োগের কোনো ইঙ্গিত পুলিশ রিপোর্টে ছিল না। পুলিশ রিপোর্টের ত্রুটির কারণেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সমস্যা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, পুলিশ রিপোর্টে পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পরিবার কিংবা পাড়াপ্রতিবেশীর অভিযোগগুলো আমলে নিতে হয় এবং সে অনুযায়ী ইঙ্গিতসহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে হয়। কিন্ত চরফ্যাশন থানা থেকে পাঠানো পুলিশ রিপোর্টে সে রকম কোনো ইঙ্গিত ছিল না। বরং থানা থেকে পাঠানো ওই রিপোর্টে আত্মহত্যার ধরন নির্দিষ্ট করা ছিল। 

চরফ্যাশন থানার ওসি মো. মনির হোসেন মিয়া জানান, তাদের আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। নিহতের লাশ উদ্ধারের প্রথমে পরিবার এমন কোনো অভিযোগ তুলেনি। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নেওয়া মামলাটি তদন্ত চলছে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন