জেলা আ.লীগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যুবলীগ-ছাত্রলীগের বিক্ষোভ
jugantor
জেলা আ.লীগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যুবলীগ-ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি  

২৭ মে ২০২২, ১৮:৪৪:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

আসন্ন গোপালগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দেওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও মতভেদ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় এর প্রতিবাদে জেলা যুবলীগ সভাপতি ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জিএম সাহাব উদ্দিন আজম এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর মিছিলটি চৌরঙ্গীর মোড়ে পৌঁছে এক প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা যুবলীগ সভাপতি জিএম সাহাব উদ্দিন আজম বলেন, গত ১৩ মে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় গোপালগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়; যা পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। আমরা ১০ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদন করি। কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচন উন্মুক্ত ঘোষণা হওয়ার পর ওই ১০ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অথচ আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, গত ২৬ মে রাতে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শেখ রকিব হোসেনের প্রতি দলীয় সমর্থনের কথা জানান। এছাড়া আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি (মাহবুব আলী খান) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন।

জিএম সাহাব উদ্দিন আজম আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যে কমিটির সিদ্ধান্তে নির্বাচন উন্মুক্ত করা হয়েছে, যদি ওই সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয় তাহলে সেই কমিটিরই সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

পরবর্তীতে যা আওয়ামী লীগের মুখপাত্রের বরাতে প্রকাশ হওয়ার কথা। কাউকে কোনো নোটিশ না দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কীভাবে একটি জরুরি সভা আহবান করে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের সমর্থন দেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাহবুব আলী খান দলীয় প্রধানের নাম ভাঙিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করছেন। এটি তার ব্যক্তিগত হঠকারী সিদ্ধান্ত। আমরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল পদে রয়েছি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমিও জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভার কথা জানি না। আমি মনে করি গঠনতন্ত্র মোতাবেক ওই সভা আহবান করা হয়নি। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটিতে সভার কোরাম পূরণের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিত থাকতে হবে। অথচ ওই সভায় মাত্র ১৩-১৪ জন উপস্থিত ছিলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগে সর্বোচ্চ ফোরাম বলে গঠনতন্ত্রে কোনো কথা নেই। ৭১ সদস্যের সবাই সমান।

আগামী ১৫ জুন গোপালগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী। অপর ১০ জনের সবাই আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম বদরুল আলম বদর তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি প্রেস ক্লাব গোপালগঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলন করে শেখ রকিব হোসেনের প্রতি তার সমর্থনের কথা জানান।

জেলা আ.লীগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যুবলীগ-ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

 গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 
২৭ মে ২০২২, ০৬:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আসন্ন গোপালগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দেওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও মতভেদ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় এর প্রতিবাদে জেলা যুবলীগ সভাপতি ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জিএম সাহাব উদ্দিন আজম এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর মিছিলটি চৌরঙ্গীর মোড়ে পৌঁছে এক প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা যুবলীগ সভাপতি জিএম সাহাব উদ্দিন আজম বলেন, গত ১৩ মে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় গোপালগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়; যা পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। আমরা ১০ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদন করি। কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচন উন্মুক্ত ঘোষণা হওয়ার পর ওই ১০ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অথচ আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, গত ২৬ মে রাতে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শেখ রকিব হোসেনের প্রতি দলীয় সমর্থনের কথা জানান। এছাড়া আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি (মাহবুব আলী খান) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন।

জিএম সাহাব উদ্দিন আজম আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যে কমিটির সিদ্ধান্তে নির্বাচন উন্মুক্ত করা হয়েছে, যদি ওই সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয় তাহলে সেই কমিটিরই সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
  
পরবর্তীতে যা আওয়ামী লীগের মুখপাত্রের বরাতে প্রকাশ হওয়ার  কথা। কাউকে কোনো নোটিশ না দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কীভাবে একটি জরুরি সভা আহবান করে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের সমর্থন দেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাহবুব আলী খান দলীয় প্রধানের নাম ভাঙিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করছেন। এটি তার ব্যক্তিগত হঠকারী সিদ্ধান্ত। আমরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল পদে রয়েছি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমিও জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভার কথা জানি না। আমি মনে করি গঠনতন্ত্র মোতাবেক ওই সভা আহবান করা হয়নি। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটিতে সভার কোরাম পূরণের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিত থাকতে হবে। অথচ ওই সভায় মাত্র ১৩-১৪ জন উপস্থিত ছিলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগে সর্বোচ্চ ফোরাম বলে গঠনতন্ত্রে কোনো কথা নেই। ৭১ সদস্যের সবাই সমান।

আগামী ১৫ জুন গোপালগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী। অপর ১০ জনের সবাই আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম বদরুল আলম বদর তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি প্রেস ক্লাব গোপালগঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলন করে শেখ রকিব হোসেনের প্রতি তার সমর্থনের কথা জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন