কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা মানুষ
jugantor
কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

  আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম থেকে  

১৩ জুন ২০২২, ১৩:২৯:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানে পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা নদীতে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দেড় মাসে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনে শত শত বিঘা আবাদি জমি, গাছপালা, পুকুর ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীভাঙনে প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিশেহারা তিস্তাপাড়ের মানুষ।

জানা গেছে, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার শেষ সীমানা থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটারব্যাপী তিস্তা নদীর অবস্থান। এই দীর্ঘ নদীপথে মাত্র দুই কিলোমিটার জায়গায় স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাকি ৪১ কিলোমিটার জায়গা উন্মুক্ত রয়েছে।

এসব উন্মুক্ত অঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করায় নদীর পাড় রক্ষা করা যাচ্ছে না। প্রতি বছর নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন শুরু হওয়ায় বাড়িঘর, গাছপালা, আবাদি জমি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, মন্দির ও মসজিদ। বর্তমানে রাজারহাটের ঘরিয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে ৬ কিলোমিটার এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে।

অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু বগুড়াপাড়া, রামহরি, খিতাব খাঁ ও বুড়িরহাটে তীব্র ভাঙনে গত কয়েক দিনে ১৭টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। যারা ভাঙনের মুখে রয়েছে, তারা ভাঙন প্রতিরোধের আর্জি জানিয়েছে।

খিতাব খাঁ গ্রামের মৃত বন্দে আলীর পুত্র মণ্ডল আলী বলেন, আমরা যে কিভাবে থাকব আমার কোনো বুদ্ধি নেই। রোববার থেকে তিস্তা নদীর ঢলে পাড় ভেঙে গেছে।

কিন্তু আমরা সরকার থেকে কোনো সহায়তা পাচ্ছি না। এ কারণে আমরা বর্তমানে বাঁশের মাচায়, রাস্তার ধারে পড়ে আছি।

রামহরি গ্রামের মৃত আব্দুল গনির স্ত্রী মেহেরন বলেন, ‘নদী আমার সউগ কিছু নিয়া গেইছে। আবাদি জমি গেইছে। দুই বিঘা ধানি জমিত গাছ লাগাইছিলাম ভাঙন শুরু হওয়ায় পানির দরে গাছগুলা বেছি দিতে হইছে। ৫ লাখ টাকার গাছ নদীভাঙনের কারণে ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করি দিছি। এখন বাড়িটা ভাঙলে আমরা নিঃস্ব হয়া যাব।’

এ ব্যাপারে ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল বাতেন জানান, ‘এই এলাকায় গতিয়াসাম থেকে চতুরা পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার জায়গায় তিস্তা নদীতে ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিলেও তা অপ্রতুল।

এদিকে রক্ষা করলে আরেক দিকে ভাঙন শুরু হয়। এভাবে জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো যাবে না। এ জন্য দরকার বেশি বেশি জিও টিউব ব্যাগ। তাহলে ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষা পাবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিস্তা নদীর বেশ কিছু জায়গা আমরা প্রটেক্ট করেছি। এখন নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাধ্যমতো ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করছি। তবে মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু হলে তিস্তা নদীশাসন করা সম্ভব হবে।

কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

 আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম থেকে 
১৩ জুন ২০২২, ০১:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানে পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা নদীতে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দেড় মাসে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনে শত শত বিঘা আবাদি জমি, গাছপালা, পুকুর ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীভাঙনে প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিশেহারা তিস্তাপাড়ের মানুষ।

জানা গেছে, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার শেষ সীমানা থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটারব্যাপী তিস্তা নদীর অবস্থান। এই দীর্ঘ নদীপথে মাত্র দুই কিলোমিটার জায়গায় স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাকি ৪১ কিলোমিটার জায়গা উন্মুক্ত রয়েছে।

এসব উন্মুক্ত অঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করায় নদীর পাড় রক্ষা করা যাচ্ছে না। প্রতি বছর নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন শুরু হওয়ায় বাড়িঘর, গাছপালা, আবাদি জমি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, মন্দির ও মসজিদ। বর্তমানে রাজারহাটের ঘরিয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে ৬ কিলোমিটার এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে।

অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু বগুড়াপাড়া, রামহরি, খিতাব খাঁ ও বুড়িরহাটে তীব্র ভাঙনে গত কয়েক দিনে ১৭টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। যারা ভাঙনের মুখে রয়েছে, তারা ভাঙন প্রতিরোধের আর্জি জানিয়েছে।

খিতাব খাঁ গ্রামের মৃত বন্দে আলীর পুত্র মণ্ডল আলী বলেন, আমরা যে কিভাবে থাকব আমার কোনো বুদ্ধি নেই। রোববার থেকে তিস্তা নদীর ঢলে পাড় ভেঙে গেছে।

কিন্তু আমরা সরকার থেকে কোনো সহায়তা পাচ্ছি না। এ কারণে আমরা বর্তমানে বাঁশের মাচায়, রাস্তার ধারে পড়ে আছি।

রামহরি গ্রামের মৃত আব্দুল গনির স্ত্রী মেহেরন বলেন, ‘নদী আমার সউগ কিছু নিয়া গেইছে। আবাদি জমি গেইছে। দুই বিঘা ধানি জমিত গাছ লাগাইছিলাম ভাঙন শুরু হওয়ায় পানির দরে গাছগুলা বেছি দিতে হইছে। ৫ লাখ টাকার গাছ নদীভাঙনের কারণে ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করি দিছি। এখন বাড়িটা ভাঙলে আমরা নিঃস্ব হয়া যাব।’

এ ব্যাপারে ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল বাতেন জানান, ‘এই এলাকায় গতিয়াসাম থেকে চতুরা পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার জায়গায় তিস্তা নদীতে ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিলেও তা অপ্রতুল।

এদিকে রক্ষা করলে আরেক দিকে ভাঙন শুরু হয়। এভাবে জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো যাবে না। এ জন্য দরকার বেশি বেশি জিও টিউব ব্যাগ। তাহলে ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষা পাবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিস্তা নদীর বেশ কিছু জায়গা আমরা প্রটেক্ট করেছি। এখন নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাধ্যমতো ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করছি। তবে মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু হলে তিস্তা নদীশাসন করা সম্ভব হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন