‘কাইয়ো হামার নাম নেয় না, ইলিপও দেয় না’
jugantor
‘কাইয়ো হামার নাম নেয় না, ইলিপও দেয় না’

  চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  

২১ জুন ২০২২, ১৩:২৭:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

‘বাবা বাড়ি ঘর তলে গেইছে, আস্তাত (রাস্তায়) আসি এইদোন করি আছি। ভাত আন্দি (রান্না করে) খাবার পাইন্যা, উপেষ আইছলোং। আইন্দবের না পায়া দুই দিন না খায়া আইছলোং। নাস্তার গুড়ে খায়া আছি বাবা। কাইয়ো হামার নাম নেয় না ইলিপও দেয় না। মোরও নাম কোনা নেও বাবা।’

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপরে আলগা ঊনূনে ভাত রান্না করা অবস্থায় এ প্রতিবেদককে কথাগুলো বলছিলেন ছকিনা বেগম (৬৫)। সত্যিই তো তার নামটি নেওয়া দরকার। তিনি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর ওয়ারী শিমুলতলী বাঁধ এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া খতিব উদ্দিন মন্ডলের স্ত্রী।

সোমবার বিকালে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে শিমুলতলী বাঁধ এলাকায় গেলে রাস্তার উপরে ঝুপড়ি ঘরের দরজায় চুলায় আগুন ঠেলতে দেখা যায় ছকিনা বেগমকে। সামনে ক্যামেরা ধরতেই তিনি নিজের অজান্তে বির বির করে অপলক দৃষ্টিতে দুঃখের কথাগুলো জানিয়ে বলেন, মোরও নাম কোনা নেও বাবা, তোমার ভাল হইবে বা।

স্বামীর নাম জিজ্ঞাস করতেই চোখ ফ্যাকাশে করে বলতে থাকেন তার স্বামীর নাম খতিব মন্ডল। তিনি পেশায় চাটাইয়ের কাজ করতেন। বয়সের ভাড়ে বর্তমানে শরীর না কুলানোয় তিনি কাজ করতে অক্ষম। ৪ জন ছেলে-মেয়ে, তাদের বিয়ে দিয়েছেন। তারা স্ত্রী সন্তান নিয়ে নিজেদের সংসারই চালাতে পারেন না। তাই বাবা মায়ের ভরণ-পোষণ দিতে পারে না। জায়গা জমি না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ রাস্তার নিচে চালা ঘর তুলে সেখানেই তাদের বাস। বন্যা আসলে ঘরে থাকতে পারেন না তারা। বর্তমানে সে ঘরটিতেও হাটুর উপরে পানি। তাই বাধ রাস্তার উপরে পলিথিন ও পাট কাঠি দিয়ে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে ৪দিন ধরে সেখানে বাস করছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এখন পর্যন্ত তারা সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি।

রানীগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, বাসভাসিদের জন্য মানিবক সহায়তা এসেছে। প্রস্তুতকৃত তালিকায় ছখিনা বেগমের নাম অনুর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘কাইয়ো হামার নাম নেয় না, ইলিপও দেয় না’

 চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
২১ জুন ২০২২, ০১:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘বাবা বাড়ি ঘর তলে গেইছে, আস্তাত (রাস্তায়) আসি এইদোন করি আছি। ভাত আন্দি (রান্না করে) খাবার পাইন্যা, উপেষ আইছলোং। আইন্দবের না পায়া দুই দিন না খায়া আইছলোং। নাস্তার গুড়ে খায়া আছি বাবা। কাইয়ো হামার নাম নেয় না ইলিপও দেয় না। মোরও নাম কোনা নেও বাবা।’

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপরে আলগা ঊনূনে ভাত রান্না করা অবস্থায় এ প্রতিবেদককে কথাগুলো বলছিলেন ছকিনা বেগম (৬৫)। সত্যিই তো তার নামটি নেওয়া দরকার। তিনি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর ওয়ারী শিমুলতলী বাঁধ এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া খতিব উদ্দিন মন্ডলের স্ত্রী। 

সোমবার বিকালে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে শিমুলতলী বাঁধ এলাকায় গেলে রাস্তার উপরে ঝুপড়ি ঘরের দরজায় চুলায় আগুন ঠেলতে দেখা যায় ছকিনা বেগমকে। সামনে ক্যামেরা ধরতেই তিনি নিজের অজান্তে বির বির করে অপলক দৃষ্টিতে দুঃখের কথাগুলো জানিয়ে বলেন, মোরও নাম কোনা নেও বাবা, তোমার ভাল হইবে বা। 

স্বামীর নাম জিজ্ঞাস করতেই চোখ ফ্যাকাশে করে বলতে থাকেন তার স্বামীর নাম খতিব মন্ডল। তিনি পেশায় চাটাইয়ের কাজ করতেন। বয়সের ভাড়ে বর্তমানে শরীর না কুলানোয় তিনি কাজ করতে অক্ষম। ৪ জন ছেলে-মেয়ে, তাদের বিয়ে দিয়েছেন। তারা স্ত্রী সন্তান নিয়ে নিজেদের সংসারই চালাতে পারেন না। তাই বাবা মায়ের ভরণ-পোষণ দিতে পারে না। জায়গা জমি না থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ রাস্তার নিচে চালা ঘর তুলে সেখানেই তাদের বাস। বন্যা আসলে ঘরে থাকতে পারেন না তারা। বর্তমানে সে ঘরটিতেও হাটুর উপরে পানি। তাই বাধ রাস্তার উপরে পলিথিন ও পাট কাঠি দিয়ে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে ৪দিন ধরে সেখানে বাস করছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। এখন পর্যন্ত তারা সরকারি কিংবা বে-সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি।

রানীগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, বাসভাসিদের জন্য মানিবক সহায়তা এসেছে। প্রস্তুতকৃত তালিকায় ছখিনা বেগমের নাম অনুর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন