সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
jugantor
সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

  নরসিংদী প্রতিনিধি   

২২ জুন ২০২২, ২৩:২৬:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নরসিংদীর হাজিপুরে সাবেক ইউপি সদস্য সুজিত সুত্রধরকে (৫৩) কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় নিহতের ছেলেসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় হাজিপুরের কাঠবাজারে এ ঘটনা ঘটে।

সুজিত সুত্রধর হাজিপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলার জের ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টুর মদদে তার লোকজন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

অভিযুক্ত পিন্টু হাজিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান। ২০০৬ সালে হাজিপুর ইউনিয়নের তৎকালীন বিএনপির চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সরকার ও তার ভাই রিপন সরকারকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। জোড়া খুনের মামলায় পিন্টুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

নিহতের ছেলে সুজন সুত্রধর জানান, সন্ধ্যার পর তার বাবা বাড়ি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পিন্টু চেয়ারম্যানের ভাই মনির, চেয়ারম্যানের সেকেন্ড ইন কমান্ড দেলু, রাকিব ও ছেলের নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন দা, ছোরা ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে তার বাবার ওপর হামলা চালান। তার বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তারা।

পরে সুজিত সুত্রধরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, তার বাবার ওপর হামলার সময় এগিয়ে গেলে তাকে ও দোকানের কর্মচারীদের পিটিয়ে আহত করা হয়।

সুজন সুত্রধর আরও জানান, ইউপি সদস্য থাকাকালীন চাল ও গম বিতরণের অনিয়মসহ নানা বিষয়ে চেয়ারম্যান পিন্টুর সঙ্গে বিরোধ ছিল। এর জের ধরে চেয়ারম্যানের নামে একাধিক মামলা করেন তার বাবা। এ কারণে তার বাবার ওপর একাধিক বার হামলাও করেছেন পিন্টু। মামলা তুলে না নিলে তার বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, সুজিত মেম্বার জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমান আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাকে নৃসংশভাবে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। অন্যথায় আন্দোলনে নামবে নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে হাজিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টুর মোবাইলে একাধিক বার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে পিন্টুর ভাই মনির খান জানিয়েছেন, শত্রু কখনো শত্রুকে মারে না। বাজারে বার্নিশ মিস্ত্রিদের টাকা নিয়ে সুজিতের ছেলে সুজনের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে সুজিত মেম্বারকে হত্যা করা হয়।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুপক্ষের মধ্যেই মামলা ছিল। হত্যার রহস্য ও আসামি গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।

সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

 নরসিংদী প্রতিনিধি  
২২ জুন ২০২২, ১১:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নরসিংদীর হাজিপুরে সাবেক ইউপি সদস্য সুজিত সুত্রধরকে (৫৩) কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় নিহতের ছেলেসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় হাজিপুরের কাঠবাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

সুজিত সুত্রধর হাজিপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলার জের ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টুর মদদে তার লোকজন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

অভিযুক্ত পিন্টু হাজিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান। ২০০৬ সালে হাজিপুর ইউনিয়নের তৎকালীন বিএনপির চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সরকার ও তার ভাই রিপন সরকারকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। জোড়া খুনের মামলায় পিন্টুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

নিহতের ছেলে সুজন সুত্রধর জানান, সন্ধ্যার পর তার বাবা বাড়ি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পিন্টু চেয়ারম্যানের ভাই মনির, চেয়ারম্যানের সেকেন্ড ইন কমান্ড দেলু, রাকিব ও ছেলের নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন দা, ছোরা ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে তার বাবার ওপর হামলা চালান। তার বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তারা। 

পরে সুজিত সুত্রধরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, তার বাবার ওপর হামলার সময় এগিয়ে গেলে তাকে ও দোকানের কর্মচারীদের পিটিয়ে আহত করা হয়। 

সুজন সুত্রধর আরও জানান, ইউপি সদস্য থাকাকালীন চাল ও গম বিতরণের অনিয়মসহ নানা বিষয়ে চেয়ারম্যান পিন্টুর সঙ্গে বিরোধ ছিল। এর জের ধরে চেয়ারম্যানের নামে একাধিক মামলা করেন তার বাবা। এ কারণে তার বাবার ওপর একাধিক বার হামলাও করেছেন পিন্টু। মামলা তুলে না নিলে তার বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, সুজিত মেম্বার জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমান আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাকে নৃসংশভাবে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। অন্যথায় আন্দোলনে নামবে নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে হাজিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টুর মোবাইলে একাধিক বার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

তবে পিন্টুর ভাই মনির খান জানিয়েছেন, শত্রু কখনো শত্রুকে মারে না। বাজারে বার্নিশ মিস্ত্রিদের টাকা নিয়ে সুজিতের ছেলে সুজনের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে সুজিত মেম্বারকে হত্যা করা হয়।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুপক্ষের মধ্যেই মামলা ছিল। হত্যার রহস্য ও আসামি গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন