দুগার্পুরে বন্যার্তদের মধ্যে রাতেও ত্রাণ বিতরণ
jugantor
দুগার্পুরে বন্যার্তদের মধ্যে রাতেও ত্রাণ বিতরণ

  দুগার্পুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

২৪ জুন ২০২২, ১১:৩০:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বন্যার পানি কমলেও, চারদিকে বাড়ছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। স্মরণকালের বন্যায় দেশের অন্য অঞ্চলের মতো নেত্রকোনার দুগার্পুর উপজেলাতেও ১ লাখের বেশি মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।

ভেসে গেছে অনেক ঘরবাড়ি, খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে অনেক পরিবার। বানভাসি মানুষের আহাজারির কথা ভেবে, বসে নেই দুগার্পুরের ইউএনও রাজীব-উল-আহসান। বুধবার রাতে পৌরসভার নিম্ন এলাকাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষুধার্তদের হাতে তুলে দেন ত্রাণের প্যাকেট।

চকলেঙ্গুরা গ্রামের বানভাসি মর্জিনা খাতুন বলেন, আমরার গেরামো তিনদিন আগে খাউনের পেকেট হাইছলাম, আইজ কিতা খাইয়াম, এই চিন্তা করতাছলাম? আল্লায় আমরার লাগিন টেউনু সাইবরে খাউন দিয়া হাডাইছে, নইলে আইজ রাইত না খাইয়া থাহন লাগ্লয়।

কানাই লাল ঋষি নামে আরেক বানভাসি যুগান্তরকে বলেন, আমি পৌর শহরে জুতা সেলাইয়ের কাজ করে খাই। এবারের মতন বন্যা আমি বিগত ৫০ বছরেও দেখিনি। বাড়ির ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি যাওয়ায়, আমার ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে নিমাণের ক্ষমতা আমার নাই। কয়েকদিন আগে ত্রাণ পেয়েছি, আজ রাতে ইউএনও সাহেব খাবার নিয়া আমার বাড়িতে আসবেন ভাবতেও অবাক লাগছে।

ইউএনও রাজিব যুগান্তরকে বলেন, এবারের বন্যায় দুগার্পুরের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে কতদিন লাগবে মহান আল্লাহ্ জানেন। গত শনিবার থেকে প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ত্রাণ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিজিবি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করছি।

এলাকা ঘুরে দুর্গত মানুষদের অবস্থা দেখে কস্ট লাগছে। ভাবলাম রাতে আমি খাবার খাবো, কিন্তু আমার আশপাশের মানুষগুলো হয় তো না খেয়ে আছে।

এই ভেবে আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মাথায় রেখে খাবারের প্যাকেট নিয়ে রাতেই ছুটে গেলাম ক্ষুধার্তদের বাড়ি বাড়ি। নিজ হাতে খাবার প্যাকেট তুলে দিলাম তাদের হাতে। এর চেয়ে বড় শান্তি আর কী হতে পারে?

দুগার্পুরে বন্যার্তদের মধ্যে রাতেও ত্রাণ বিতরণ

 দুগার্পুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
২৪ জুন ২০২২, ১১:৩০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বন্যার পানি কমলেও, চারদিকে বাড়ছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। স্মরণকালের বন্যায় দেশের অন্য অঞ্চলের মতো নেত্রকোনার দুগার্পুর উপজেলাতেও ১ লাখের বেশি মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।

ভেসে গেছে অনেক ঘরবাড়ি, খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে অনেক পরিবার। বানভাসি মানুষের আহাজারির কথা ভেবে, বসে নেই দুগার্পুরের ইউএনও রাজীব-উল-আহসান। বুধবার রাতে পৌরসভার নিম্ন এলাকাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষুধার্তদের হাতে তুলে দেন ত্রাণের প্যাকেট।

চকলেঙ্গুরা গ্রামের বানভাসি মর্জিনা খাতুন বলেন, আমরার গেরামো তিনদিন আগে খাউনের পেকেট হাইছলাম, আইজ কিতা খাইয়াম, এই চিন্তা করতাছলাম? আল্লায় আমরার লাগিন টেউনু সাইবরে খাউন দিয়া হাডাইছে, নইলে আইজ রাইত না খাইয়া থাহন লাগ্লয়।

কানাই লাল ঋষি নামে আরেক বানভাসি যুগান্তরকে বলেন, আমি পৌর শহরে জুতা সেলাইয়ের কাজ করে খাই। এবারের মতন বন্যা আমি বিগত ৫০ বছরেও দেখিনি। বাড়ির ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি যাওয়ায়, আমার ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে নিমাণের ক্ষমতা আমার নাই। কয়েকদিন আগে ত্রাণ পেয়েছি, আজ রাতে ইউএনও সাহেব খাবার নিয়া আমার বাড়িতে আসবেন ভাবতেও অবাক লাগছে।    

ইউএনও রাজিব যুগান্তরকে বলেন, এবারের বন্যায় দুগার্পুরের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে কতদিন লাগবে মহান আল্লাহ্ জানেন। গত শনিবার থেকে প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ত্রাণ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিজিবি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করছি।

এলাকা ঘুরে দুর্গত মানুষদের অবস্থা দেখে কস্ট লাগছে। ভাবলাম রাতে আমি খাবার খাবো, কিন্তু আমার আশপাশের মানুষগুলো হয় তো না খেয়ে আছে।

এই ভেবে আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মাথায় রেখে খাবারের প্যাকেট নিয়ে রাতেই ছুটে গেলাম ক্ষুধার্তদের বাড়ি বাড়ি। নিজ হাতে খাবার প্যাকেট তুলে দিলাম তাদের হাতে। এর চেয়ে বড় শান্তি আর কী হতে পারে?

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন